এবার আমার দুলাভাই একটু ব্যস্ত থাকায় তার গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক করার দায়িত্ব পড়েছিল আমার উপর। আর তা তৈরী করতে গিয়ে আমার কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছিল যা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য এখানে লিখছি।
ঝামেলার শুরু: যে বইতে লিখে টাকা জমা দিতে হয় তা শেষ। এখন উপায় কি? ইকুরিয়া বি,আর,টি,এ-তে গেলাম বই আনতে। যেহেতু 14 সিরিয়ালের গাড়ী তাই এখানেই সব কাজ করতে হয়। গেলাম অফিসারের কাছে। বললাম বই লাগবে তিনি সোজা জানিয়ে দিলেন বই নেই। তাহলে বই কোথায় পাব। দালালের কথা সিস্টেম করতে হবে। সিস্টেম কি? দালাল মারফত তিনি 200 টাকা পেলেন এবং ড্রয়ার থেকে বই বের করে আমাদের দিলেন। এই বই-এর যে সরকারী কি রেট তা তিনি নিজেই জানেনে না। ফোনে দুলাভাইকে জানালাম তিনি বললেন এভাবেই কাজ করতে হবে উপায় নাই।
ঝামেলা 2: বই নিয়ে গেলাম জি, পি ও-তে। আগে কখনো একাজ করি নাই বলে জানিনা কীভাবে বইতে লিখব। অসুবিধা নাই অনেক লোক আছে কলম আর কার্বন নিয়ে ঘুরছে বইতে লিখার জন্য। পারিশ্রমিক মাত্র 20 টাকা। ঝামেলা সেখানে নয় ঝামেলা টাকা জমা দেয়ায়। ফিটনেসের টাকা জমা নেয়ার সাথে সাথেই একটা গ্রাহক কপি আপনাকে দিয়ে দেবে। কিন্তু তার কেউ খুচরা টাকা নেবেনা। ফিটনেসে লাগে 645 টাকা। তাই যদি দেন তাহলে আপনার কাজে 18 মাসে বছর কিন্তু 650 টাকা হলেই বছর 2 মাসেই শেষ।ট্যাক্স টোকেনের টাকার পরিনাম একটু বেশী। এবারে যিনি টাকা নেবেন তিনিও খুচরা টাকা নেবেন না। 4550 টাকা জমা দিলে তিনি বলবেন 30 মিনিট পর আসুন। কিন্তু 20 টাকা বাড়িয়ে দেবেন 30 মিনিট 20 মিনিট হয়ে যাবে। তারপর তিনি আপনার কাগজ নিয়ে তার বসের কাছে ধমক খেতেও পিছপা হবেননা। অবশেষে পেলেন সব কাগজ এবার গন্তব্য ইকুরিয়া-বি,আর,টি,এ।
ঝামেলার শেষ: যে অফিসার গাড়ী দেখবেন তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়না। তার নিজস্ব লোক মারফত তার কাছে পৌছাতে হয়। তার কাজ শুধু গাড়ীটা দেখা যে, তা রাস্তায় চলাচলের উপযোগী কিনা। দালাল জানালো অনেক গাড়ী হলে তিনি উঠে আসবেননা। চেয়ারে বসেই কাজ সারবেন। অফিস আওয়ার শুরুর 1 ঘন্টা পর গিয়েছিলাম বলে বেশী গাড়ী ছিলনা তাই তিনি উঠে এসে গাড়ী চেক করলেন। তার পারিশ্রমিক সরকারতো দেয়ই কিন্তু তার বাম হাত সব সময় টেবিলের নীচেই থাকে। অবশেষে হল কাঙ্খিত কাজ। কিন্তু একি ফিটনেস সার্টিফিকেট কই এটাতো একটা স্লিপ মাত্র। তাতে লিখা আগামী মাসের একই দিনে মূল কাগজ এখান থেকে দেয়া হবে। এখন কম্পিউটার নষ্ট। ততোদিন পর্যন্ত এটাই ফিটনেস লেবেল এর কাজ করবে।
সব কিছু দুলাভাইকে জানালাম। তিনি বললেন ঠিকই তো আছে। এভাবেই কাজ করতে হয়।
তাই আমার মতামত হল গাড়ী কিনবেন এবং মানসিকভাবে রেডী থাকবেন প্রতিবছর এভাবে কাজ করার জন্য। অবশ্য নিজের গলা কাটতে চাইলে যে শো-রুম থেকে গাড়ী কিনেছেন তাদেরও দিতে পারেন আপনার কাজ গুলো করার জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

