somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাড়ী কিনবেন আর ঝামেলা সেতো একদম ফ্রি

৩১ শে মে, ২০০৬ ভোর ৫:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজের গাড়ী সবারই আরাধ্য। মনের কোথাও না কোথাও একটা সুপ্ত বাসনা থেকেই যায় নিজের একটা গাড়ী কেনার। আশা পুরন করবেন আর আপনার উপর চেপে বসবে ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস ইত্যাদি আপ-টু-ডেট রাখার ঝামেলা।
এবার আমার দুলাভাই একটু ব্যস্ত থাকায় তার গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক করার দায়িত্ব পড়েছিল আমার উপর। আর তা তৈরী করতে গিয়ে আমার কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছিল যা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য এখানে লিখছি।

ঝামেলার শুরু: যে বইতে লিখে টাকা জমা দিতে হয় তা শেষ। এখন উপায় কি? ইকুরিয়া বি,আর,টি,এ-তে গেলাম বই আনতে। যেহেতু 14 সিরিয়ালের গাড়ী তাই এখানেই সব কাজ করতে হয়। গেলাম অফিসারের কাছে। বললাম বই লাগবে তিনি সোজা জানিয়ে দিলেন বই নেই। তাহলে বই কোথায় পাব। দালালের কথা সিস্টেম করতে হবে। সিস্টেম কি? দালাল মারফত তিনি 200 টাকা পেলেন এবং ড্রয়ার থেকে বই বের করে আমাদের দিলেন। এই বই-এর যে সরকারী কি রেট তা তিনি নিজেই জানেনে না। ফোনে দুলাভাইকে জানালাম তিনি বললেন এভাবেই কাজ করতে হবে উপায় নাই।

ঝামেলা 2: বই নিয়ে গেলাম জি, পি ও-তে। আগে কখনো একাজ করি নাই বলে জানিনা কীভাবে বইতে লিখব। অসুবিধা নাই অনেক লোক আছে কলম আর কার্বন নিয়ে ঘুরছে বইতে লিখার জন্য। পারিশ্রমিক মাত্র 20 টাকা। ঝামেলা সেখানে নয় ঝামেলা টাকা জমা দেয়ায়। ফিটনেসের টাকা জমা নেয়ার সাথে সাথেই একটা গ্রাহক কপি আপনাকে দিয়ে দেবে। কিন্তু তার কেউ খুচরা টাকা নেবেনা। ফিটনেসে লাগে 645 টাকা। তাই যদি দেন তাহলে আপনার কাজে 18 মাসে বছর কিন্তু 650 টাকা হলেই বছর 2 মাসেই শেষ।ট্যাক্স টোকেনের টাকার পরিনাম একটু বেশী। এবারে যিনি টাকা নেবেন তিনিও খুচরা টাকা নেবেন না। 4550 টাকা জমা দিলে তিনি বলবেন 30 মিনিট পর আসুন। কিন্তু 20 টাকা বাড়িয়ে দেবেন 30 মিনিট 20 মিনিট হয়ে যাবে। তারপর তিনি আপনার কাগজ নিয়ে তার বসের কাছে ধমক খেতেও পিছপা হবেননা। অবশেষে পেলেন সব কাগজ এবার গন্তব্য ইকুরিয়া-বি,আর,টি,এ।

ঝামেলার শেষ: যে অফিসার গাড়ী দেখবেন তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়না। তার নিজস্ব লোক মারফত তার কাছে পৌছাতে হয়। তার কাজ শুধু গাড়ীটা দেখা যে, তা রাস্তায় চলাচলের উপযোগী কিনা। দালাল জানালো অনেক গাড়ী হলে তিনি উঠে আসবেননা। চেয়ারে বসেই কাজ সারবেন। অফিস আওয়ার শুরুর 1 ঘন্টা পর গিয়েছিলাম বলে বেশী গাড়ী ছিলনা তাই তিনি উঠে এসে গাড়ী চেক করলেন। তার পারিশ্রমিক সরকারতো দেয়ই কিন্তু তার বাম হাত সব সময় টেবিলের নীচেই থাকে। অবশেষে হল কাঙ্খিত কাজ। কিন্তু একি ফিটনেস সার্টিফিকেট কই এটাতো একটা স্লিপ মাত্র। তাতে লিখা আগামী মাসের একই দিনে মূল কাগজ এখান থেকে দেয়া হবে। এখন কম্পিউটার নষ্ট। ততোদিন পর্যন্ত এটাই ফিটনেস লেবেল এর কাজ করবে।
সব কিছু দুলাভাইকে জানালাম। তিনি বললেন ঠিকই তো আছে। এভাবেই কাজ করতে হয়।
তাই আমার মতামত হল গাড়ী কিনবেন এবং মানসিকভাবে রেডী থাকবেন প্রতিবছর এভাবে কাজ করার জন্য। অবশ্য নিজের গলা কাটতে চাইলে যে শো-রুম থেকে গাড়ী কিনেছেন তাদেরও দিতে পারেন আপনার কাজ গুলো করার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন ভালো না

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



চোরাবালির মতো টেনে ধরা নিঃশব্দ বিকেলে,
অদৃশ্য কিছু হাত ছুঁয়ে যায় ভাঙা স্মৃতির ধূলি,
বেঁচে আছি এইটুক স্বীকারোক্তি,
তোমারে দেখিনা বহুদিন, তবু রয়ে যাও ভীষণ ভুলই।

সমুদ্র ডাকে দূর থেকে নোনা হাওয়ার ভাষায়,
অপেক্ষারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×