"ক্লোজআপ ওয়ান, তোমাকেই খঁজছে বাংলাদেশ", অনেক আলোচিত সমালোচিত এবং সর্বজনীনভাবে গ্রহনযোগ্য বিতর্কিত একটি অনুষ্ঠান। আমার নিজেরও তেমন একটা ভাল লাগেনি। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে দেবাশীষ হারামাজাদাকে বস্তার মধ্যে তুলে পিটাতে পারলে ভাল হত। কিন্তু এই অনুষ্ঠানটির একটা দিক ভাল ছিল আর তা হল, এর ফলে বাংলাদেশে গানের স্পটলাইটা আবার বাংলা গানের উপর এসে পরেছে। আগে রাস্তায় বের হলে আশেপাশে নানাদিক থেকে নানা রকমের হিন্দি গান কানে ''ধুম মাচিয়ে'' যেত। এখন এই হিন্দি গান গুলার পাশাপাশি ক্লোজ আপ ওয়ান প্রতিযোগীদের গাওয়া গান গুলো হরহামেশাই শোনা যায় এবং লক্ষনীয় হল যে হিন্দি গানের প্রভাবটা একটু কমে এসেছে।
বাইরের কথা বাদ, ঘরের কথা বলি। আমার ভাগ্নাদ্বয় আগে হিন্দি গান শুনত সবসময়। ছোটটা এবার নার্সারীতে পরে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত গান গেত ''ভিগি ভিগি সিহে রাতে ভিগি বাতে ভিগি.................................''। যে জায়গা গুলো উচ্চারণ করতে পারত না সেখানে সুর ঠিক রেখে মিনমিন করত। আর বড়টা সারাদিন ''আশিক বানায়ার'' আশিক হয়ে থাকত। কিছুদিন আগে আপু দুজনকে দুটা ক্লোজআপ ওয়ানের 3য় রাউন্ডের সিডি কিনে দিয়েছে। তারপর দেখি দুজন এই গান গুলা ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। বড়টা চুপচাপ গান শুনলেও, ছোটটা সালমার সাথে গলা মিলিয়ে গলা ছেড়ে স্পস্ট উচ্চারণে গান গায়,
ও মোর বানিয়া বন্ধুরে
একটা তাবিজ বানাইয়া দে
একটা মাদুলি বানাইয়া দে
মইরা গেছে মোর বিয়ার সোয়ামী
স্বপনে আইসে। (ভুল থাকতে পারে)
এত সব কিছু দেখার পর নিশ্চয় এতটুকু বলতে পারি যে, ক্লোজআপ ওয়ান, হিন্দি গানের যে ভুত বাংলাদেশীদের মাথায় চেপেছিল তার ওঝার ভূমিকায় কিছুটা হলেও সফল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







