জীবন গাড়ি থেমে গেল বাউল সম্রাটের
লিখেছেন: কেমিকেল আলী
শনি, ১২/০৯/০৯ – ১০:১২ পুর্বাহ্ন38 টি মন্তব্যশাহ আবদুল করিম বাংলা বাউল গানের জীবন্ত কিংবদন্তী হিসেবে পরিচিত।কালনীর তীরে বেড়ে উঠা শাহ আব্দুল করিমের গান ভাটি অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় মাত্র কয়েক বছর আগে । এ পর্যন্ত প্রায় দেড় সহস্রাধিক গান লিখেছেন।
জন্ম
বাউল গানের জীবন্ত কিংবদন্তী শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। বাউল শাহ আবদুল করিমের সংগীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। বাউল সম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী আফতাবুন্নেসা। তিনি তাকে আদর করে ডাকতেন ‘সরলা’। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়,অবিচার,কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে।
সংগীত সাধনা
স্বল্পশিক্ষিত বাউল শাহ আব্দুল করিম এ পর্যন্ত প্রায় দেড় সহস্রাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন। কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। সাম্প্রতিককালে এ সময়ের বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।
প্রকাশিত বই
বাউল শাহ আবদুল করিমের এ পর্যন্ত ৬টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো হলো- আফতাব সংগীত, গণ সংগীত, কালনীর ঢেউ, ভাটির চিঠি, কালনীর কূলে এবং দোলমেলা। সম্প্রতি সিলেট জেলা মিলনায়তনে তাঁর রচনাসমগ্র (অমনিবাস)-এর মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে।
শাহ আবদুল করিমের জনপ্রিয় কিছু গান
* বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে
* আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
* গাড়ি চলে না
* আমি কূলহারা কলঙ্কিনী
* কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া
* কোন মেস্তরি নাও বানাইছে
* কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু
* বসন্ত বাতাসে সইগো
* আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু
* মহাজনে বানাইয়াছে ময়ুরপংখী নাও
* আমি তোমার কলের গাড়ি
* সখী কুঞ্জ সাজাও গো
* জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে
* মানুষ হয়ে তালাশ করলে
* আমি বাংলা মায়ের ছেলে
সম্মাননা
বাউল শাহ আব্দুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। বাংলা একাডেমি তার দশটি গানের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে। এছাড়া দ্বিতীয় সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এই বাউল সম্রাটকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। এছাড়াও ২০০০ সালে কথা সাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরি পদক পান। বাউল সাধক শাহ আবদুল জীবনের একটি বড় অংশ লড়াই করেছেন দরিদ্রতার সাথে। বর্তমানে বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেও তা যথেষ্ঠ নয়।উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সাউন্ড মেশিন নামের একটি অডিও প্রকাশনা সংস্থা তার সম্মানে ‘জীবন্ত কিংবদন্তীঃ বাউল শাহ আবদুল করিম’ নামে বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া তার জনপ্রিয় ১২ টি গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে। এই অ্যালবামের বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ তাঁর বার্ধক্যজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়।
আজ সকাল ৮.০০ টায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন
গত কয়েকদিন তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন ছিল। জানা যায় রমজানের শুরু থেকে শরীর ভালো যাচ্ছিল না আবদুল করিমের। তিনি শেষদিকে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েন। এজন্য তাকে গত ৩রা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধলগ্রাম থেকে নিয়ে আসা হয় সিলেটে এবং ভর্তি করা হয় নুরজাহান ক্লিনিকের নিচতলার একটি কেবিনে। এই হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায়ই তিনি দুনিয়া ত্যাগ করেন।
তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।
তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট
দেখুন আমারব্লগ.কম
http://www.amarblog.com/chemselim/85188
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



