স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে গেছে। ফল বের হতে দেরী আছে। আমাদের কোন কাজ নেই। সারদিন পুকুরে সাঁতার কাটি। সন্ধ্যে রাতে ের ওর বাগানে ডাব-নারকেল চুরি করি। কোন কোন দিন পুকুরে মাছ চুরি করে বনভোজন।
একদিন গিয়েছি পাশের পাড়ায় নারকেল চুরি করতে। দু'টো গাছ সাফ করে তৃতীয় গাছটায় উঠতে শুরু করেছি। ঠিক তখনই সেই বাড়ির দাদু প্রকৃতির ডাকে বাইরে বেড়িয়ে আমাদের দেখতে পেয়ে হৈ চৈ শুরু করে দিলেন। তারপর যা হয়, আমরা সবাই হাতে নাতে ধরা পড়ে গেলাম।
দাদুর ছেলেরা অনেক শলাপরার্মশের পর আমাদের সবকটাকে থানায় নিয়ে হাজির। কারন নারকেল চুরি তো চুরিই। থানার দারোগা খুব ভালমানুষ ছিলেন। আমাদের সবকটাকে একশবার কান ধরে ওঠবস করিয়ে ছেড়ে দিলেন।
পাড়ায় ফিরে মুখ দেখাতে পারছিলাম না। অপমানের বদলা না নিলেই নয়। অনেক ভেবেচিন্তে দু'দিন পর রাজাদার কাছে গিয়ে হাজির। কেঁদে কেটে, ইনিয়ে বিনিয়ে রাজাদার মন পেয়ে গেলাম।
রাজাদা বললো, অমবস্যা কবেরে? দৌড়ে ঠাকুমার পাঁজি দেখে জানিয়ে দিলাম, অমাবস্যা আর দু'দিন পরেই। রাজাদা বললো, তবেতো আজ থেকেই কাজ শুরু করতে হয়।
অমাবস্যার দিন পাড়ায় কমন্ডলু নিয়ে জটাওয়ালা, লাল কৌপীন পরা এক সন্ন্যাসী দেখা গেল। ঐ বাড়ির সামনে গিয়ে তিনি কয়েকবার 'জয় কালী' 'বোম কালী' হাঁক পেড়ে ঘোরাঘুরি করলেন।
পরদিন ঐ বাড়ির সামনে প্রচুর ভীড়। নারকেল গাছতলায় বেদী বানিয়ে লাল শালু কাপড় বেধে মড়ার খুলি আর হাড়গোড় রেখে কেউ ধুপ, বেলপাতা, জবাফুল দিয়ে পূজো করে গেছে। নানা লোকের নানান কথা। কেউ বলছে সন্ধ্যেবেলায় দেখা ঐ সন্ন্যাসীটাই তুকতাক করে গেছে। বাড়ির সবাই ভয় পেয়ে গেছেন। মহিলারা কান্নাকাটি করছেন। একজন বলছিল, ঐ ছোঁড়াগুলোর কাজ। আমরা ভয় পেয়ে চলে এলাম।
শেষমেষ, রাজাদার পরামর্শে আনন্দ বলে পাড়ার শ্মশানের এক সন্ন্যাসীর ডাক পড়লো। তিনি এসে শান্তি যজ্ঞানুষ্ঠান করে পাড়ার সবাইকে খাওয়ানোর বিধান দিলেন এবং নিজে যথেষ্ট পরিমানে দক্ষিনা নিয়ে বিদেয় হলেন। আমরা কেউ ভয়ে খেতে যাইনি।
সেই জটাওয়ালা সন্ন্যাসী আর কেউ ছিলেননা উনি ছিলেন আমাদের রাজাদা। পোশাক, জটা, মালা, কমন্ডলু ভাড়া করা হয়েছিল। মড়ার খুলি, হাড়গোড় শ্মশানের আনন্দ সন্ন্যাসীর কাছ থেকেই যোগাড় করা হয়েছিল।
আনন্দ সন্ন্যাসী বেশী উত্সাহিত হয়ে গাছটাও কেটে ফেলার ফরমান জারী করেছিলেন কিন্ত রাজাদার চেষ্টায় সেটা রক্ষা পেয়েছিল। কারন ঐ গাছের নারকেল আমাদের ফুটবল, ক্রিকেটের সরঞ্জাম যোগাত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




