somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গি অর্থায়ন, সাম্প্রদায়িকতা, বাংলাদেশের ভবিষ্যত এবং একটি পক্ষপাতহীন বিশ্লেষণ এর যথাসাধ্য চেষ্টা

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে যুদ্ধবিধস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করার পরে যে অমিয় সম্ভবনা নিয়ে দেশটির ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল, যুদ্ধবিধস্ত দেশের বিধস্ত অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে পরাজিত শক্তির কূটকৌশলে তখন সেই সম্ভবনা আর আলোর মুখ দেখেনি।বরং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং সামরিক শক্তির হাতে ক্ষমতা, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কালো হাতকেই শক্তিশালী করেছে দিনের পর দিন।এই দেশ এ বিভিন্ন সামরিক শক্তি ক্ষমতায় থাকার মোহে নানাভাবে তাদের ছাড় দিয়েছে।ফলশ্রুতিতে তারা হয়েছে আরো সংগঠিত।পরাজিত শক্তির সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীরা ধীরে ধীরে তাদেরকে এদেশে অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে এমন অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে যে আজ তারা সাবলম্বী।হাজার কোটি টাকার জঙ্গি অর্থায়ন আজ তাদের হাতে।দেশে বিদেশে তারা আজ কাড়িকাড়ি টাকা দিয়ে যে এই বিচারকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে তা আজ উন্মোচিত সত্য।তার চেয়েও বড় চিন্তার বিষয় হল তারা এদেশেই তাদের পক্ষে তিনশ্রেনীর বিপুল মানুষকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।

একশ্রেনীর মানুষ যারা চরম দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে।তারা তাদের সন্তানদের মুখে দুইবেলা অন্নের সংস্থান এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষালাভের নিমিত্তে এদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন মাদ্রাসার দ্বারস্থ হচ্ছে।এসব প্রতিষ্ঠান এর পাঠ্যসূচি ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে তারা মুক্ত ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা করতে না পারে এবং একটি বিজ্ঞানবিমুখ ধর্মান্ধ গোষ্ঠীরুপে গড়ে ওঠে।ফলশ্রুতিতে যুদ্ধাপরাধীরা তাদেরকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে পারে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে।

দ্বিতীয়শ্রেনীর মানুষ যারা এদের জঙ্গি অনুদান থেকে নিয়মিত মাসোহারা পায়।এরা খুবই চতুর এবং জ্ঞানপাপী।এরা সংখ্যায় কম, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং দেশে বিদেশে গোয়েবলসীয় প্রপাগান্ডা চালাতে তৎপর।

আর রয়েছে এক ধর্মভীরু মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী যারা আসলে দিকভ্রান্ত।এরা বিভিন্ন সময় দেশে ন্যায়বিচার ও সুশাসনের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইসলামের ছায়ায় এসে আল্লাহর নিকট এর বিচার চেয়েছে।চতুর যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসররা এদেরকে ইসলামী শাসনের স্বপ্ন দেখিয়ে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছে।এই তিনশ্রেনীর জনগনের মধ্যেই তারা ধীরে ধীরে বপন করেছে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প।

অপরদিকে সমাজের অপেক্ষাকৃ্ত অগ্রসরমান জনগোষ্ঠী এবং তাদের উত্তরসূরীরা আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশকে প্রগতি ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় সামিল করতে হয়েছে বদ্ধপরিকর।এ যেন দুই বিপরীত পথে সমাজের দুইমেরুর মানুষের একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে এক বিরুদ্ধযাত্রা।প্রগতিশীলদের কলমের জবাবে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের ছত্রছায়ায় লালিত ধর্মান্ধরা হাতে তুলে নিয়েছে চাপাতি।কারন কলমকে তাদের খুবই ভয়।

কিন্তু আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত যে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনই সকল নাগরিকের অংশগ্রহন ছাড়া সম্ভব নয়।আমরা যদি এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের কালো থাবার হাত থেকে বের করে বিজ্ঞান ও প্রগতির পথে না আনতে পারি তাহলে হয়তবা যুদ্ধাপরাধীদের উওরসূরীরা তাদের নিয়ে ভবিষ্যতে আবার কোন নোংরা খেলায় মেতে উঠবে।আর এর শিকার হবে বাংলাদেশের সংখ্যা্লঘু সম্প্রদায়, প্রগতিশীল মুসলমান এবং মুক্তচিন্তার মানুষরা।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হবার পর থেকেই দুষ্টচক্রের এই কূটকৌশলের বিষয়ে সবাই কমবেশি অবগত আছে।দিনে দিনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুতগতির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এদের তৎপরতা।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ, মাদ্রাসা শিক্ষার যুগোপযোগী আধুনিকায়ন,দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে আসা, জঙ্গি অনুদানপ্রাপ্ত জ্ঞানপাপীদের চিহ্নিতকরন ও তাদের মুখোশ উন্মোচন এবং সাধারন ধর্মভীরু মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা খুবই জরূরী হয়ে উঠছে।এসব ছাড়া এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের কালোথাবা থেকে বের করে আনা খুবই কঠিন হবে। আমি চিন্তিত বোধ করি যখন দেখি দেশের সেরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে আসীন ব্যাক্তি একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর পক্ষা্লম্বন করে এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রদান করে।এই বিষয়গুলোকে এখন আর ছোট করে দেখার উপায় নেই।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এদেশের মাটিতে যেভাবে হাজার বাধা বিপত্তি ও প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করা এবং রায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে, হচ্ছে এবং আশা করি হবে, ঠিক একইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা, সুশাসন, সাম্য এবং প্রগতি।যেখানে থাকবে না কোন সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প।বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা পাবে একটি ৭১ এর চেতনার উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে।যেখানে যুদ্ধ হবে মেধার ও মননের। কলমের বদলে কলমই চলবে, চাপাতি নয়। তবে সেক্ষেত্রে ৭১ এর চেতনায় উদ্ভুদ্ধ সকল শক্তিকে যে কোন মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ধারন করতে হবে অপরিসীম ধৈর্য এবং শক্তহাতে অসীম সাহস নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে যেকোন প্রোপাগান্ডার আর যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের ইসলাম গেল ইসলাম গেল ধ্বনির বিরুদ্ধে দিতে হবে কঠোর জবাব।কারন নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশ এ সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করলে ধর্ম হারিয়ে যাবার প্রশ্নই আসেনা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×