somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রযুক্তির ফাঁদে বন্দি সবাই/আম-ছালার কাহিনী

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৮:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঘটনাটা গত মার্চের। বিকাশে টাকা ট্রান্সফার করার সময় নাম্বার ভুল হওয়ায়, অন্য নাম্বারে ১০,০০০৳ চলে যায়। বিষয়টি বুঝতে পারার পর ঐ নাম্বার কল দিলে ওপাশ থেকে বলে, "এ নাম্বারে কোন বিকাশ অ্যাকাউন্ট নেই, টাকাও আসে নি"(ডাহা মিথ্যা কথা)। ট্রান্জেকশন আইডির কথা বলেও লাভ হল না। তারপর থেকে ঐ নাম্বার বন্ধ(তড়িঘড়ি করে কল দেয়ায়, কলটা রেকর্ডিংও করা হয় নি)।
ওপাশেরর কথা শুনে মাথায় বাজ পড়ার মত অবস্থা। নিন্ম মধ্যবিত্তদের কাছে দশ হাজার টাকাই অনেক কিছু। বিকাশের কাস্টমার কেয়ারে(১৬২৪৭) কল দিয়েও কোন লাভ হল না, ওরা গ্রাহকের কোন তথ্য দিতে রাজি নয়। পরে ঠিক করা হল, থানায় জিডি করা হবে। বিকাশের ঐ নাম্বার, ট্রানজেকশন নাম্বার নিয়ে থানায় যাওয়া হল। কয়েক দিন পর থানা থেকে বগা মিয়ার(মি. ম) লোকেশন জানানো হলো(ঐ নাম্বারটা যে NID থেকে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল, তার ঠিকানা)। দেখা গেল সেটা আমাদের এক পরিচিতের পাশের ইউনিয়নে। স্থানীয় এক ভাইকে(ক) তাদের ঠিকানা দিয়ে খোঁজ নিতে বলা হল। ওই ঠিকানায় গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হলে ওরা(ম) টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। কথা শুনে আমরা তো পুরাই অবাক! এ কোন মগের মুল্লুক রে বাবা! যাই হোক, এলাকার হাবভাব দেখে সেদিনের মত অভিযান সমাপ্ত করা হল।

এরপর ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিল। সোজা কথায় কাজ না হওয়ায় ওখানকার ছাত্রলীগের ছেলেদের(আরেক ভাইয়ের লিংকে) সাথে যোগাযোগ করা হল। পরের দিন ওরা দলবল নিয়ে গিয়ে ওদের বাড়ীতে তুলকালাম কান্ড শুরু করলো। এরপর আসলো ফোন, তাও আবার অন্য নাম্বার থেকে অারেক জনকে দিয়ে। তাঁর বর্ণনা থেকে বোঝা গেল, সিমটা এক ছেলের আইডি দিয়ে খোলা। সেটা ব্যবহার করতো তার মা। কয়েক দিন আগে উনার ফোনে টাকা গিয়েছে, আর খুশিতে(ঠেলায়) তিনি টাকা তুলে নিয়ে খরচ করে ফেলেছেন।(এর আগে তার কয়েক হাজার টাকা নাকি ভুলে কার কাছে চলে গিয়েছিল। তিনি মনে করেছিলেন, ওরা টাকা ফেরত দিয়েছে) .... আরো অনেক কাহিনী। কথার শেষে, ওরা সাত হাজার টাকা দিতে সম্মত হল। এর ওর কাছ থেকে ওরা টাকাটা সংগ্রহ করেছে, ওদের কাছে আর টাকা নেই।

এটা শোনার পর আমাদের পক্ষ থেকে কল দেয়া হল। যথারীতি ফোন ধরলো তৃতীয় ব্যক্তি। ভাল-মন্দ অনেক কথা হল, উনারা সময় নিতে চাইলে সেটার প্রস্তাবও করা হল। উনাদের শেষ কথা, আট হাজার টাকা ফেরত দিবে বাঁকিটা দিতে পারবে না/দিবে না।
যাক, অন্তত ৮০০০টাকা তো পাওয়া গেল। এটা ভেবে ২০০০টাকার শোক যখন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে তখন ঘটলো আরেকটি ট্র্যাজেডি। ছাত্রলীগের ওরা দাবী করে বসেছে ৩০০০টাকা, ওরা পিকনিক করবে। আমি ভেবেছিলাম, মিস্টি খাবার জন্য ১০০০-১৫০০টাকা দিলেই চলবে। জোরাজুরি করলে না হয় আরো ৫০০ যাবে। শেষে কীনা দিতে হল পুরো ৩০০০! এ যে আম ছালা দুই শেষ!

হিসেব পাতিঃ ("নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল")
টাকা গিয়েছে= ১০,০০০৳ সাথে জিডি করা(টাকার পরিমানটা জানি না)
পাওয়া গেছে= ৫,০০০(বিকাশে) ও ৩০০০(ছাত্রলীগ)
পাওয়া যেতে পারে= ৫০০(ওরা পরে দিতে চেয়েছে, তবে দেবে কী না সন্দেহ।)
প্রশ্ন উঠতে পারে, পুলিশকে দিয়ে কাজটা করানো হল না কেন? বিষয়টি আমিও ভেবেছি। উত্তর পাই নি। বরং মনে প্রশ্ন জেগেছে, তখন কী ৩০০০টাকায় কাজটা হত? তাও আবার একদিনে?

(ঘটনাটা ঘটেছে, আমার পাশের রুমের এক পরিচিতের সাথে। আমি ঘটনার সাক্ষী, দু-পক্ষের ফোন কলগুলো কাছ থেকে শুনেছি, মতামত দিয়েছি।)
[এমন ঘটনা যে কারো সাথে হতে পারে, মোবাইলে টাকা লেনদেনের সময় সতর্ক থাকবেন।]
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৮:৫৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×