'৭১ এ আমরা অনেক অমূল্য রত্ন হারিয়েছি।শহীদ রুমির সম্পর্কে আমরা অল্প বিস্তর জানতে পেরেছি।সুরকার শহীদ আলতাফ হোসেনের সাথে তাকে এবং তার কিছু বন্ধুকে ধরে নিয়ে যায় হানাদাররা এবং নির্মমভাবে হত্যা করে।এই বন্ধুদের মাঝে একজন ছিলেন শহীদ আজাদ।আজাদ সম্পর্কে যতদূর জানা যায় তিনি ছিলেন ধনী বাবার সন্তান।সেই সময়ে এক হাজার টাকা খরচ করে এলভিস প্রিসলির রেকর্ড কিনে ফেলতেন।তাকে রুমি এবং আলতাফ মাহমুদের সাথে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।বন্দী অবস্থায় আজাদের সাথে তার মা দেখা করতে যান।আজাদ বলে মাকে "মা,ওরা বলেছে আমি সবার নাম বললে ওরা আমাকে ছেড়ে দেবে।আমি কি করবো?"আজাদের মা বলেন "বাবা,আরেকটু কষ্ট কর।তবু ওদের নাম বলিস না।"আজাদ প্রতিউত্তরে বলে "তুমি যা বলবে আমি তাই করবো।কষ্ট লাগে।অনেক দিন ভাত খাই না।তুমি দোয়া করো মা"।সেটা ছিলো আজাদের সাথে তার মায়ের শেষ দেখা।আজাদের মা এরপর যতদিন বেঁচে ছিলেন তিনি আর ভাত স্পর্শ করেননি।
আমাদের দেশে প্রতি বছর আজাদ প্রোডাক্টস "রত্নগর্ভা মা" পদক দিয়ে আসছে।যে নারীর নূন্যতম তিনজন সন্তান গ্রাজুয়েট তারা এই পদকের জন্য আবেদন করতে পারে।রুমি,আজাদের মায়েরা "রত্নগর্ভা মা" না কারন তাদের তিনজন সন্তান গ্রাজুয়েট না।তাদের একমাত্র রত্নভান্ডার সন্তানরা(রুমি) বিদেশ ডিগ্রী গ্রহন করতে না যেয়ে দেশ স্বাধীন করতে পথে নেমে প্রান দিয়েছে।তাদের হতভাগী মায়েরা বিদেশ বিভূইয়ে পুত্রশোকে কাতর হয়ে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন তাদের নিয়ে আমাদের মোটেও ভাবনার সময় নেই।আমদের ক্ষমতাসীন সরকারেরা প্রতি মেয়াদে যে ইতিহাস জন্ম যে সেখানে কয়েকজন জনপ্রিয় নেতা আর অধিকাংশ যুদ্ধপরাধী ছাড়া কোন শহীদের নাম নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




