somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মের কারনে পৃথিবীতে মানুষে মানুষে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে?

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম বিদ্বেষীরা একটা সহজ সরল উদাহরন দিয়ে বুঝাতে চান যে, পৃথিবীর সকল মানুষ শান্তিতে মিলে মিশে বসবাস করছিল, ধর্ম এসেই মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে নানা যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্ম দিয়েছে। ধর্ম না থাকলে পৃথিবীতে আবারও শান্তি ফিরে আসবে। তাই ধর্ম ত্যাগ করার মধ্যেই মানবতা ও কল্যাণ আছে বলে তারা প্রচার চালান। আপাতঃ দৃষ্টিতে দেখলে তাদের এসব কথায় যুক্তি আছে বৈকি।
কিন্তু তাদের একথা একেবারেই সত্য নয় যে, একটা সময় পৃথিবীতে কোন ধর্ম ছিল না। যেদিন থেকে মানুষের বিবেক ডেভেলপ শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই ধর্ম পৃথিবীতে স্থান গেঁড়ে নিয়েছিল। আব্রাহামিক ধর্মই ছিল গোড়া থেকে। একের পর এক নবি রাসুল পৃথিবীতে এসেছেন এবং আল্লাহর বানী মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কোন নবি রসুল কখনোই কোন বিভেদ ছড়াননি। তারা একেশ্ববাদ প্রচার করেছিলেন মাত্র।
একটিবার পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখুন তো, সামান্য কারনেই ভাইয়ে ভাইয়ে হানাহানি, কালোয় সাদায় হানাহানি, এক বাড়ির লোকের সাথে আরেক বাড়ির হানাহানি, এক পাড়ার লোকের সাথে আরেক পাড়ার হানাহানি, এক সম্প্রদায়ের সাথে আরেক সম্প্রদায়ের, এক জাতির সাথে আরেক জাতির, একদেশের সাথে আরেক দেশের হানাহানি। এখানে কি কেবল ধর্মই বিভেদ সৃষ্টি করেছে? একই ধর্ম আর একই মতাদর্শের হওয়া সত্বেও এরা হানাহানি করেই চলেছে।
একটা গল্প শুনুন।
আপেল গাছের এক আপলে আরেক আপেলকে বলছে, পৃথিবীর দিকে একবার তাকিয়ে দেখ। মানুষে মানুষে কত হিংসা, কত হানাহানি। এইভাবে হানাহানি করতে করতে মানুষ জাতি এক সময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর তখন গোটা পৃথিবী আমরাই শাসন করবো। অপর আপেলটি বললো, তা তো ঠিক। তবে আমাদের মধ্যে কারা? কাঁচারা নাকি পাকারা?’
পৃথিবীর নানা বিভেদ আর হানাহানির জন্যে যারা কেবল ধর্মকেই দায়ী করছেন, তারা তাদের দৃষ্টিকে একটু প্রসারিত করলেই বুঝতে পারবেন, পৃথিবীর মানুষে মানুষে নানা ধর্মের বৈচিত্র্যের কারনে বিভেদ একটু সৃষ্টি হয়েছে এটা কিঞ্চিৎ সত্য হলেও, প্রকৃত সত্য আসলে তা নয়। এই বিভেদ মানুষের সহজাত। এটাই সৃষ্টির বৈচিত্র্য।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:৫২
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসালসুল (অনন্ত পশ্চাদগমন), প্রথম সৃষ্টি ও ‘আকল’: কুরআন-সুন্নাহর আলোকে একটি সতর্ক অনুসন্ধান

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭


ভূমিকা
সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের অন্যতম প্রাচীন প্রশ্ন হলো,সবকিছুর শুরু কোথায়? যদি প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুর অস্তিত্বের জন্য তার আগে আরেকটি সৃষ্ট বস্তুর প্রয়োজন হয়, এবং সেই নির্ভরতার ধারা কখনো শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরিয়ম খাতুন জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৮



মরিয়ম খাতুন। মাত্র ১৯ বছরের একটি মেয়ে। ৭৫ বছরের বুইড়া পাঁঠা গাজী নজরুলের লালসার শিকার হয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে। শুধুমাত্র একটি ছোটখাটো চাকুরী সুপারিশের জন্য গিয়েছিল। তখনই ১৯... ...বাকিটুকু পড়ুন

⌛️ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫



প্রাচীন গ্রিক দর্শনের মহান পুরুষ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান বা "নিজেকে জানো" তত্ত্বটি মানুষের ভেতরের ঘৃণা, গোঁড়ামি এবং অজ্ঞানতা দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সক্রেটিসের মতে, মানুষের সমস্ত নৈতিক স্খলন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



রাজধানী ঢাকা সহ দেশের নানা অঞ্চলে টমটম, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন চলাচল করে। বেশ মানুষজন পরিবহন সহ মালামালের বস্তাও টানাটানি করতে দেখা যায়। কিন্তু এইগুলোর দেশ হচ্ছে গ্রাম গঞ্জের বাজার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৪


আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না
আমার ডক্টর উপাধিটি মুছে দিও
জ্ঞানী, কবি, দরবেশ, সাধক, সফল, ব্যর্থ
এসব কোনো শব্দই যেন
মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আমাকে আলাদা না করে।

কারণ আমি দেখেছি
অহংকার খুব সূক্ষ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×