আনিস চট্টগ্রামে থাকাকালে আমার সাথে পরিচয়। দেশের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ। ছোটবেলা মেঘনায় সাতার কেটেই চলে যেত তার দিন। আনিসের বাবা মুহিত সাহেব তখন গজারিয়া হাই স্কুলে পড়াতেন। বাবার আদর্শে বড় হওয়া ছেলে গ্রামে ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত। এস,এস,সির পর সে বড় চাচার বাসায় চলে আসে চট্টগ্রামে। চাচা একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করতো। ইন্টারমিডিয়েটে থাকাকালে তার সাথে আমার পরিচয়। আমরা একই স্যারের কাছে পড়তাম। পড়ালেখায় ভালো ছিলাম বলে স্যারের কাছে সুনাম ছিলো। পরে আমি ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম আর আনিস চলে গেলো রাজশাহীতে। কিন্তু মোবাইলের সুবাদে যোগাযোগ হতো।
কিছুদিন পর জানতে পারলাম রিমি নামের এক মেয়ের প্রেমে পড়েছে। রিমি রাজশাহী মেডিকেলে পড়তো।
আমি অনার্স- মাস্টার্স শেষ করে ঢাকাতেই চাকুরী জুটিয়ে নিলাম। অফিসের ফোনটা ফ্রি থাকায় মাঝে মাঝে আনিসের সাথে হতো। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সে তার বাবা-মাকে রাজি করিয়েছে। রিমির সম্পর্কে যা জানতাম সে দেখতে ভালোই ছিলো।আর সুন্দর আবৃত্তি করতে পারতো। মেডিকেলের প্রতিটি প্রোগ্রামে সে থাকতো সামনের সারিতে। আনিসের কাছে শুনতাম বিয়ের পর ওরা রিমির আবৃত্তির একটা ক্যাসেট বের করবে। আর বন্ধু হিসেবে ওকে উৎসাহ দেওয়া ছিলো আমার কাজ। মা-বাবা আর দুই ভাই-বোনের সংসারে রিমির জন্য এমনই একটা ছেলে চাই সবার। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ওদের বিয়ে হয়ে গেলো। ইন্টার্নী শেষ করার আগেই বিয়ে করলো রিমি। সোনায়-সোহাগা যাকে বলে আরকি। বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক মজা করলাম।
অফিসে এসে জানতে পারলাম আমাকে প্রোমোশন দিয়ে অন্য একটা সেকশন এ পাঠানো হবে।কাজের জন্য তাই ট্রেনিং এ যেতে হবে থাইল্যান্ড এ।থাইল্যান্ড আসার পর আনিসের সাথে যোগাযোগ কমে আসলো
তিন বছর পর দেশে ফিরে নিজের বন্ধুদের অনেক মিস করছিলাম
অনেক আকাঙ্ক্ষিত যে শিশুটি তাদের উভয় পরিবারের আলো হয়ে এসেছিলো তার একটা ক্রমোসোম সাধারন মানুষের মতো নয়। একটু বড় হওয়ার পর ব্যাপারটা চোখে পড়ে। বাচ্চাটা চলে গেলো তার মতো আরও অনেক অপূর্ণ শিশুদের মেলায়।
পূনশ্চঃ আমি আনিসকে অনেক খুঁজেছি। দেশের বাড়ির সব সম্পত্তি বিক্রি করে চলে গেছে ওদের ফ্যামিলী। হয়তো সমাজের প্রশ্ন এড়াতে। চট্টগ্রামের চাচাও তার বাসা বদলেছে । বদলায়নি ‘ওই’ শিশুদের ভাগ্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



