somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদ যাদের কাছে ঈদ নয়!

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈদ আসে এক অনাবিল আনন্দ হয়ে। সারাদিন হৈ চৈ আর প্রিয়জনের সঙ্গে প্রতিটি মুর্হুতের ভাগাভাগি। বাঙালি তথা মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে বড় ধর্মীও উৎসব এটি। খুশির বার্তা নিয়ে যা হাজির হয় সবার কাছে। কিন্তু এই নগরীতে এমন অনেকেই আছে যাদের ঈদ, ঈদের আনন্দ হয়ে আসেনা। আনন্দের আগে দায়িত্ব যাদের কাছে জরুরি হয়ে দেখা দেয়। এই শহরে এমনকি সারাদেশে রয়েছে এরকম কিছু মানুষ। যারা ঈদের দিনও দায়িত্ব পালন করে চলেন নিষ্ঠার সঙ্গে। প্রিয়জনও তাদের সার্ণিধ্য পায়না। ঈদের পুরোটা দিন তারা পালন করে পর্ব নির্ধারিত কাজের সময়সচী অনুযায়ী।

এরকম তালিকায় শুরুতেই রয়েছে ডাক্তারদের নাম। যারা দেশের বিশেষ করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ঈদেরও দিনও কর্মরত থাকেন। প্রতিটি হাসপাতালে বর্হিবিভাগ সেদিন বন্ধ থাকলেও খোলা থাকে জরুরি বিভাগ। হাসপাতাল খোলা রাখার বড় কারণ এদিনও মানুষ অসুস্থ হতে পারে। রোগ বালাই তো আর ঈদ বোঝে না। এছাড়া যে কোন ধরণের দর্ঘটনার ভয় তো আছেই। তাই হাসপাতাল যেমন খোলা থাকে তেমনি দায়িত্ব পালন করতে হয় ডাক্তারদের। তাদের কাছে সেদিন আসলে ঈদ হয়ে আসেনা। সরকারি এবং বেসরকারি দুই ধরণের হাসপাতালেই জরুরি বিভাগ খোলা রাখতে জনগনের স্বার্থে। ডাক্তারও তার সেবার ব্রত নিয়ে সকল আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করে যান। একই সঙ্গে এদিন ঔষধের দোকানও খোলা রাখতে হয়। যারা ঔষদের দোকানের কর্মী তাদের কাছে ঈদ সেদিন ঈদের বার্তা নিয়ে আসেনা। তবে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করার ফলে ফার্মেসির অনেক কর্মী খানিকটা ছুটি কাটাতে পারে। কিš যারা ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে চান তারা কয়েকদিনের ছুটি না পেলে যেতে পারেন না। তাই এরকম দায়িত্ব পালন করতে থাকা মানুষের কাছে ঈদের আনন্দ বয়ে নিয়ে আসে না ঈদ।
একই অবস্থা দেশের সংবাদ ও টেলিভিশন মাধ্যমে কাজ করতে থাকা কর্মীদের। তারা দর্শকদের আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে দিতে নিজেরা আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন। দেশের যে কয়েকটি স্যাটেলাইট চ্যানেল আছে সবগুলির সংবাদ এবং চ্যানেলের স¤ক্স্রচারের সঙ্গে জড়িতদের কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হয় ঈদের দিনও। ঈদের দিন দর্শকদের তরতাজা সংবাদ ও নিত্যনতুন অনুষ্ঠান দেখানোর দায়িত্ব তাদের।
একই সঙ্গে অনলাইন নিউজ পেপার বা সংবাদ মাধ্যমে কাজ করেন তাদের জন্যও ঈদ আনন্দ হয়ে আসেনা। ঈদের দিনও তারা দায়িত্ব পালন করেন। তবে সাধারণত এখানে দুই ঈদে দায়িত্ব ভাগ করে নেয়া হয়। এক ঈদে যারা দায়িত্ব পালন করে পরের ঈদে তাদের ছুটি দেয়া হয়। এ হিসেবে অবশ্য অনেকেই এক ঈদের আনন্দ পালন করতে পারে অনেকে।
ঈদের আনন্দ থেকে অনেকটা বঞ্চিত থাকেন দেশের মোবাইল ফোন অপারেটর ও টেলিফোন অপারেটর কর্মীরা। ঈদের দিন গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি আপনজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। তাই সেদিন স্বভাবতই নেটওয়ার্ক ব্য¯ থাকে। একারণে এদিন ব্য¯ থাকতে হয় অপারেটরের কর্মীদেরও। গ্রাহকের প্রিয়জনদের কাছে রাখতে তারা থাকেন প্রিয়জন থেকে দরে। ঈদের আনন্দ ছুঁয়ে যায়না তাদের।
এছাড়া বিমানের পাইলট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ব্য¯ থাকে এদিন। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান হলেও দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই আসে। তাই পাইলটদের সঙ্গে এয়ারর্পোটে কর্তব্যরত ব্যক্তিরাও ব্য¯ থাকেন এদিন। বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিরা দেশ থেকে দেশের বাইরে যান এবং বিদেশ থেকে অনেকেই দেশে আসে। তাই ব্য¯ থাকতে হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
শুধু পাইলটরাই নয়, ব্য¯ থাকে দেশের বাস ও ট্রেনের চালকরা। অনেক স্বজনদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যেতে ব্য¯ থাকে তারা। আপনজনদের থেকে দরে গিয়ে যাত্রীদের স্বজনদের কাছে পৌছে দিতে কেটে যায় তাদের ঈদের দিন।
আর দায়িত্ব পালন করে দেশের মসজিদ ও ঈদগাঁয়ের হুজুররা। ঈদের দিনও তারা বিভিন্ন মসজিদে তারা নামাজ পড়ানোতে ব্য¯ থাকেন। কারণ দেশের বেশিরভাগ মসজিদ ও ঈদগাঁহয়ের ঈমাম ও হুজুররা এক জেলা থেকে এসে আরেক জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। তাই তারা দায়িত্ব এড়িয়ে চলতে পারেনা। ঈদের আনন্দ থেকে তারা অনেকটাই বঞ্জিত।
তবে ঈদের দিন সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেন আইন-শৃখলা বাহিনীর কর্মীরা। ঈদের নামাজ থেকে শুরু করে যারা সেদিন ঘুরতে বের হন সবারই নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকে আইন-শৃখলা বাহিনীর হাতে। এছাড়া রা¯া সেদিন ফাঁকা থাকলেও বাসা-বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া ফাঁকা রা¯ায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ কারণে সেদিন এ বাহিনীকে সজাগ থাকতে হয়। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় থাকলে বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ঘটে। তাই সবজায়গার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয় তাদেরই। একারণে ঈদের দিন ব্য¯ থাকেন আইন-শৃখলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও কমীরা। দেশের মানুষকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তারা আপনজনদের থেকে দরে থাকেন। এরইমধ্যে রোজা ও ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাপক কর্মসচি হাতে নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও দেশের পুলিশ বিভাগ।
তাই এসব মানুষের কাছে ঈদের আনন্দ, আনন্দ হয়ে আসেনা। অন্যর আনন্দ নিশ্চিত করতে তারা দায়িত্বপর্ণ কাজে ব্য¯ থাকেন সেদিন। ঈদ তাদের কাছে ঈদের বার্তা হয়ে আসেনা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×