somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেদিন তোমার শহরে আমি

১৭ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তুমি বুঝবে না,
অথবা বুঝেও না বোঝার ভান করবে।
জানি এটা তোমার ইচ্ছাকৃত। মিথ্যা।
ভালবাসার সমুদ্র ঠিকই চেন, সমুদ্রকন্যা।

যে বছর তোমার হাসির মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল
সে বছরই আমি তোমার প্রেমে পড়ি।
আবার ভেবো না,
নিয়মিত প্যান্ট-শার্ট পরার মতো রেগুলার ব্যাসিসে রেগুলার প্রেমে পড়ি আমি।
তারও ঠিক তিন বছর পর,
তোমার ভালবাসা তলানিতে ঠেকে ছিল যে বছর,
শ্বাস নেবার মতো কিছু দীর্ঘশ্বাস ছিল হয়তো।
অথবা, আমাকে ভূলতে চাওয়ার সব চেষ্টাই প্রায় সফল পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলে তুমি।
সে বছরই, শ্যামলী পরিবহনের চাকা ব্রন ওঠা তরুনীর
গালের মতো রাস্তা স্পর্শ করতে করতে তোমার শহরে পৌছায়।
সঙ্গে আমিও।

কতদিন ভোর দেখিনি! আমরা যারা ভূইফোড় শহরবাসী,
তারা শহরে এসে প্রথম যা করি তাহলো, দেরীতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস।
তাইতো একেকটা ভোরে কতগুলো পাখি চেচাঁয়
কত বড় সূর্য ওঠে
কতগুলো পতিতা রাতকর্ম ছেড়ে বিছানায় যায়,
তার কিছুই দেখা হয় না।

অথচ তোমার শহরে এসে যে জিনিষটা প্রথম উপভোগ করলাম
তা হলো ভোর।
সারারাত নির্ঘূম থাকার পরও শুধু,
তোমাকে দেখবো বলে রেল লাইনের মতোই
দু চোখের পাতা এক হয়নি আমার।
আমি জানি অতটা ভোরে তোমারও ঘুম ভাঙেনা।
একটা পুরুষের বাহু ও গরম বিছানা। দুটোই তো আটকে রাখার জন্য যতেষ্ট।
অবশ্য তুমি সেদিন ছেড়ে ছিলে, আমি আসবো সেটা তো জানতেই।

তোমার শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা।
হাত ধরে এক সাথে তোমার পদ্মা দেখবো এমন কথা হয়ে আছে আমাদের।
অথচ সে পদ্মার পারে আমি একাই গেলাম। ভরা বর্ষায়
পদ্মা এখন উথাল-পাথাল। ভরা যৌবনের নারীর মতো ফুলে উঠেছে পদ্মা।
অথব সেসব আমাকে টানছে না।
আমার অপেক্ষা তোমার জন্য।
আদৌ কি তুমি আসবে?
তবে কি তোমার শহরে এসে কি তোমাকে না দেখেই ফিরে যাবো?
ভোর যে সকাল হয়েছে কখন!
নাকি পদ্মা মানেই তোমাকে দেখা!
না, সকল কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তুমি এলে...
কি অদ্ভূত, সমুদ্রে দেখা তুমি এখনও সমুদ্র কন্যার মতোই।
সমুদ্রে হাটু সমান পানিতে দাড়ালে
একেকটা ঢেউ যেভাবে ধাক্কা দেয়
সেভাবেই তোমার আগমন আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে।
তোমার পাশে কখনও বসে থাকা হবে,
হুড তোলা রিকশায় তোমার শরীরের গন্ধ নিতে নিতে
একেকটা স্পীড বেকার পার হবো
তা কল্পনাও করিনি কখনও।

অথচ কি অবলীলায়, কি ভালবাসায় সে স্বাধ দিলে তুমি।
আমি জানি, অতটা গভীরে কখনই যাওয়া হবে না আমার।
যতটা গভীরে গেলে তীব্র শীতেও তোমাকে ঘামিয়ে তোলা যাবে
যতটা গভীরে গেলে তোমার কিছু কামার্ত শ্বাস বিধবে আমার পাঁজরে।
যতটা গভীরে গেলে আরও গভীরতা খুঁজতে চাইবে মন!

আমি জানি সেসবের কিছুই হবে না।
তোমার মুখে যেটা ‘সম্ভব নয়’ হয়ে বেরোবে।
তবুও কম কিসে,
এই যে হুড তোলা রিকশায় শরীরে শরীরে ঠোকাঠুকি
এই যে পরীর চুল স্পর্শ করা,
এই যে ভালবাসতে বাসতে ঠোঁট দুটো দখলে নেয়া
ইটের ওপর ইট সাজিয়ে চুম্বনের স্তর রচনা করা
বন্য এবং মনুষ্য জাতীয় প্রানীদের মধ্যে এসেও সবাইকে অন্ধ ভেবে
একে অপরকে জড়িয়ে ধরা।
এটাই বা কম কিসে?

তারপর..
কিছু দীর্ঘশ্বাসের পূনরাবৃত্তি করে
তোমার ফিরতি যাত্রা।
স্পর্শ কাতর জায়গাগুলোতে স্পর্শ করার তীব্রআকাঙ্খা নিয়ে
পুরুষ হওয়ার বাসনায় তোমার শহর ছাড়া।
গুডবাই পরী, গুডবাই।

কৈফিয়ত: আমি কবি নই। কবিতা লিখতেই পারিনা। এটা কোন কবিতা হই নাই বলে নাক সিটকাবেন তাদের কাছে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ৯:৪৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×