বাঙালির পায়ে এখন পরিবারতন্ত্রের শিকল। আমরা এখন আওয়ামিলিগের অধিনে, তার কাগে পাকিস্থানের অধীন তার আগে বৃটিশ, এর আগে মুগল, তার আগে ইত্যাদি ইত্যাদি--
কোন এক সময় হয়তো আমারা স্বাধিন ছিলাম, তখন আমাদের কোন রাজা ছিলোনা কোন রাজ্য ছিলোনা। আমাদের বিচরণ কেবল দু-তিন ধেনু পর্যন্ত ছিলো, আমাদের জীবন ছিলো ধান তামাক আর পশুশিকারে মাঝে শান্তিময়। সেই আমাদের মানে আমাদের পূর্বপুরুষদের কোন এক প্রজন্মের কথা বলছি।
সে অনেক দূরের ফেলে আসা দিনের কথা। এখন আমরা রাজনীতি শিখে ফেলেছি। আমরা রাষ্ট্র বানাতে পানি। আমরা অর্থনীতি নিয়ে আলোচনার টেবিলে ঝড়তুলি। আমরা নির্বাচন করতে পারি, আমরা স্লোগান দেই, আমার ভাই তোমার ভাই== অমোক ভাইয়ে চরিত্র ফুলের মত পবিত্র ইত্যাদি ইত্যাদি।
নৈতিকতার বিচারে অনেকেই মনেকরে বর্তমান সরকার অবৈধ। মোটামুটি ভোটারহীন নির্বাচনের মাধ্যমে তারা গায়ের জোড়ে খমতায়। তাই বিএনপি বর্তমান সরকার মানেনা, আবার এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যায় কেমনে বুঝিনা।
পাকিস্থানের সাথে আমাদের জায়না, ভাষানিয়ে দন্দ, জাতিগত বৈপরিত্য। ভৌগুলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক বৈশম্য ইত্যাদি নানাবিধ কারণে তাদের সাথে আমাদের আর চলেনা। তখনই আমাদের মৌলানা সাহেব, মানে মৌলানা ভাসানি সাহেব বল্লেন একদফা একদাবি স্বাধীনতা চাই। স্লোগান তোল্লেন "ভোটের বাক্সে লাত্থিমার বাংলাদেশকে স্বাধীন করে"।
কিন্তু আমারা নির্বাচনে গেলাম, ঠিক বিএনপি যেমন গেলো। তখন আমাদের রাজনীতিক নেতারা ঠিক স্বাধীনতা চাচ্ছিলো নাকি শাসন খমতা চাচ্ছিলো বোঝা দায়।
তিরিশ লাখ হৃদয় ভরা রক্ত কেনো গিয়েছিলো, কার গিয়েছিলো। তারা কি স্বাধীনতা কী জান্ত। তারা কি স্বাধীন হবার প্রয়োজনীয়তা বুঝে জীবন দিয়েছিলো। সবাই না হোন সিংহভাগ মানুষ নির্মুহ নির্লি্প্ত অতি সাধারণ মানুষ ছিলো। কিছু বুঝেউঠার আগেই অনেকটা না বুঝেই প্রাণ দিতে হলো তাদের।
তবু সচেতন সমাজের একটাই দাবি ছিলো, আমরা স্বাধীনতা চাই। নীরস্ত্র তবু নীর্ভিক বাঙালি ঝাপিয়ে পড়লো যুদ্ধে। আরও প্রাণ দিতে থাকলো। প্রাণ দিলো বুদ্ধিজীবিরা। কিন্তু প্রাণ দিলোনা যারা তখন ছিলো রাজনীতিবিদ। যারা স্বাধীনতার দাবি ছেড়েদিয়ে নির্বাচণ করেছিলো অবিভক্ত পাকিস্থানের খমতার ভাগিদার হবার জন্য।
কিন্তু খমতা লোভি ভন্ড পাকিস্থানি খমতা দিতে রাজি হলোনা। এবার আবার আমরা ফিরে আসলাম আমাদে আগের দাবিতে। স্বাধীনতা চাই স্বাধীনতা চাই স্বাধীনতা চাই। এবারের সঙ্গ্রাম স্বাধীনতার সঙ্গ্রাম।
আমরা কেবল মার খাচ্ছিলাম আর মরে যাচ্ছিলাম, হঠাত আমাদের ত্রাতা হয়ে আমাদের পাশে দাড়ালো রাশিয়া। তাড়া তাড়া অস্থ দিয়ে তারা আমাদের হাতকে করলো শক্তিশালী। আমাদের কাঁধে কাধ মিলিয়ে যুদ্ধে যোগ দিলো ইন্ডিয়া। পাকিস্থানের অধীন থেকে অবশেষে আমরা বেড়িয়ে আসলাম। আমরা এখন মুক্ত মুক্ত মুক্ত।
কিন্তু তখনোকি আমরা জান্তাম যে আমরা কেবল পাকিস্থানী হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত হয়েছি মাত্র স্বাধীন নয়, এবং ধীরে ধীরে অন্য কারো অধিনে চলেযাচ্ছি? আমাদের ঘ্রাস করছে পরিবারতন্ত্র নামের এক হিংস্র দানব?
আমরা আসলে স্বাধীন হইইনি, কেবল অধীন বদল হয়েছে।
আগে ছিলাম পাকিদের অধীন চলে এলাম একটি অহংকারের অধীন। কেউ কেউ ভাবতে লাগলো বাঙালিকে শাসন করার জন্য তারা সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত। এখানে তাদের একছত্র অাধিপত্যই হলো একমাত্র সত্য। আমরা আবার স্বাধীনতা হারালাম আমাদের নিজেদের মাঝে। সেই থেকে আমরা আমাদেরই হাতে বন্দি।
মানুষ অন্যকে আগলি করে কাঁধে তুলতে পারে। কিন্তু নিজেকে নিজে আগলানো যায়না। ঠিক তেমনি অন্যের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়া যায়। কিন্তু নিজের কাছ থেকে আমাদের কে স্বাধীন করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


