২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর আমাদের পৃথিবীতে ঘটতে যাচ্ছে ধ্বংসলীলা এমন খবর শোনা যাচ্ছে। বিশ্ব জুড়ে এমন হই চই দেখে নাসা তাদের ওয়েবসাইটে এই বিষয়ক বক্তব্য দিয়েছে । নাসা আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে এ বছরই পৃথিবী ধ্বংসের কোন কারণ নাই, এবং এই বিষয়ক তারা যুক্তিও দিয়েছে।
Click This Link
পৃথিবী ধ্বংসের তারিখ ঘোষণা নতুন নয়, এর আগে ২০০০ সালের ৫ মে তারিখকে পৃথিবী ধ্বংসের তারিখ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। অনলাইনের অনেক ওয়েব সাইট আবার ২১ ডিসেম্বরের দিনকে কেন্দ্র করে ক্ষণ গণনা শুরু করেছে। কেন কিসের জন্য এমন ধারণা হল এবং সেগুলো কেন গুজব তা বর্ণনা করা হল
ঘটনা ১ মায়ান সভ্যতাঃ
২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার প্রধান যে যুক্তি সেটি হচ্ছে মায়াদের বর্ষপঞ্জি। মায়া সভ্যতার জনক এই অদ্ভুত জাতি একটি বিশেষ পঞ্জিকা অনুসরণ করে চলত।এই পঞ্জিকাটিতে খ্রিস্টের জন্মের ৩১১৩ বছর আগের থেকে দিন-তারিখের হিসাব দেওয়া আছে। ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর আর কিছুই এখানে উল্লেখ নেই। মহাপ্রলয়ের এমন ভবিষ্যদ্বাণী অনেক বার করা হয়েছে অতীতে।
এটি কেন গুজবঃ মায়ানরা খ্রীস্ট জন্মের প্রায় ৩ হাজার ১১৪ বছর আগে থেকে সময় গণনা করা শুরু করেছে। আমাদের বর্তমান পঞ্জিকার মতে, খ্রীস্টের জন্মের বছরের জানুয়ারি থেকে প্রথম বছর গণনা করা হয়। আর মায়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছরকে হিসাব করা হয় শূন্য বছর। এই সময়টাকে লেখা হয় এভাবে ০-০-০-০-০। একটা নতুন চক্র শুরু হওয়ার আগের ১৩ চক্রে ৩৯৪ বছর শেষ হয়ে যাবে। আর নতুন চক্রটি শুরু হবে ২০১২ সালের। ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর থেকে মায়ান পঞ্জিকাতে আর কোন দিনের উল্লেখ নেই। এই দিনটিকে মনে করা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশেষ দিন। নিউইয়র্কের কোলগেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মায়া সভ্যতার বিশেষজ্ঞ ডেভিড স্টুয়ার্ট বলেছেন, মায়ার লম্বা বর্ষপঞ্জি শেষ হয়ে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পরের দিন শেষে আবারও মায়ার লম্বা বর্ষপঞ্জির নতুন যাত্রা শুরু হবে, ঠিক যেমন ৩১ ডিসেম্বর শেষে আমরা ঘরের দেয়ালে পুরনো বর্ষপঞ্জি ফেলে দিয়ে নতুন বর্ষপঞ্জি টানিয়ে দেয়। কাজেই ২১ ডিসেম্বর কোনভাবেই শেষ দিন নয়।
ঘটনা ২ লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারঃ
২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংসের আরেকটি প্রধান যে কারণ দাড় করানো হয়েছে সেটি হচ্ছে ‘লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার’। পৃথিবীর জন্ম রহস্য পরীক্ষা করার জন্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মাটির নিচে তৈরি করা হয়েছে মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার। বিজ্ঞানীদের ধারনা এই পরীক্ষায় যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে তবে পৃথিবীর একটি বিরাট অংশ ধ্বংস হয়ে যাবে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন এটি হতে পারে পৃথিবীর জন্য একটি ভয়াবহ অবস্থা। অবশ্য আমরা নিজেরাই যদি নিজেদের বিপদ সৃষ্টি করি তবে তার জন্য নিশ্চয়ই ২০১২ সালেকে বা অন্য কোনও কারণকে দায়ী করলে চলবে না।
ঘটনা ৩ সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত গ্রহ নিবিরু আর পৃথিবীর কক্ষপথ একই রেখায় চলে আসার তত্ত্ব :
সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত গ্রহ নিবিরু আর পৃথিবীর কক্ষপথ একই রেখায় চলে আসার তত্ত্ব নিয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে চিন্তা, ভাবনা ও আতংক। বর্তমান নাসার বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত তত্ত্বটি ছিল অনুমান নির্ভর। কারণ, তাদের সময় বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি বর্তমান সময়ের মতো আধুনিক ছিল না। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহ ছিল সেজন্য তারা বেশ কিছু তত্ত্বের উদ্ভব ঘটিয়েছিল। তবে তাদের সকল তত্ত্ব যে সঠিক হবে সে ব্যাপারে কোনও নিশ্চয়তা নেই। নিবিরু নামের কল্পিত সেই গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছে নাসা। নাসার এস্ট্রোবায়োলজির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ডেভিড মরিসন বলেছেন, ‘সুমেরীয়রা যে তত্ত্বের কথা বলেছে এ ধরনের কোনও কিছুর অস্তিত্বই নেই, সম্পূর্ণটাই কল্পনা নির্ভর। ফলে এই বিষয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।’
ঘটনা ৪সূর্য ঝড় :
২০১২ সালে সানস্ট্রম ও সূর্য ঝড় পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হবে। তাদের মতে২০১২ সালে সূর্যের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ এনার্জি তৈরি হবে, যার নাম ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’। এই সৌরঝড়ের ভয়ংকর রেডিয়েশন এবং এনার্জি নির্গমনের ফলে ভূপৃষ্ঠে বা মহাকাশে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দিবে। বিজ্ঞানী মরিসন বলেছেন, এ বছর সোলার ফ্লেয়ার একটু বেশি হবে। তবে তাতে পৃথিবী ধ্বংস নয়,বড়জোর সমস্যা হতে পারে স্যাটেলাইট যোগাযোগের ক্ষেত্রে।
এছাড়া আমেরিকার ইয়েলোস্টোন ভলকানো আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ, পৃথিবীর ধ্বংসের কারণ হবে বলে গুজব ছড়ানো হয়েছে।
তাই বলা যায়, অনেক পথ পেরিয়ে আমাদের সভ্যতা এই আধুনিক যুগে এসে পড়েছে। ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের আশংকা শুধুই গুজব ও তথ্য উপাত্তের ভিন্ন বিশ্লেষণ।
তথ্য সুত্রঃ
NASA
(Click This Link )
BBC
(Click This Link)
সমকাল
(Click This Link)
জনকণ্ঠ
(Click This Link)
আল মুতাসিম বিল্লাহ (সুমন) এর বাংলা ব্লগ
(Click This Link )
এবং ইন্টারনেট এর আরও ওয়েবসাইট ঘেঁটে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


