কলতলায় জল পড়ছে খলখল করে। প্রচন্ড রোদ খোলা আকাশে অকাতরে বিলোচ্ছে। কেউ কেউ কাপড় কাঁচছে খচখচ করে শব্দে। 570 সাবানের ফর্সা ফেনা,আশেপাশে মৌতাত দুপুরের গন্ধ। চারদিক গরমের অনাবিল অলসতা কান্তি। কাগজওয়ালা ছায়ায় বসে ঝিমোচ্ছে,বাটখারার নীচে আঁঠা লাগাচ্ছে ওজন ফাঁকি দেবে বলে। একটু দূরে নরেশ কুমার বৈদ্য আমাদের নরেশদা বাঁ হাতে বল করছেন। স্লো মিডিয়াম পেস। নরেশদার বল করবার ভঙ্গি চমৎকার,কপিল দেবের মতো। হঠাৎ বল গিয়ে ব্যাটসম্যানের সামনের পায়ে লাগাতে সবাই একযোগে 'হাউজ দ্যাট' বলে চিৎকার করে ওঠে,ওই দুপুর বেলায়। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন সদ্য নির্বাচিত একজন সুদর্শন সাংসদ। 'হাউজ দ্যাট'শুনে চমকে তাকালেন সানগ্লাস খুলে মাঠের দিকে। না,তার ব্যাপারে না,ফিল্ডাররা ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে আপীল করছেন আম্পায়ারের কাছে। ফুস করে মাননীয় সাংসদের ফুসফুস থেকে এক ঝলকা তৃপ্তির বাতাস বেরিয়ে গেল। তিনি হেঁটে নরেশদার কাছে গেলেন,পিঠ চাপড়ে দিলেন।
: কোন দলে খেলো বাবু নরেশ?
নরেশ বৈদ্য চুপ করে থাকলেন। নরেশদার বাবাকে এই সুজনেষু সাংসদের কেউ মেরে পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন সপ্তাহ দু'আগে। নিরীহ নরেশদা সকল শোক ােভ প্রকাশ করছেন তার মিডিয়াম পেস বলে।
নরেশ কুমার বৈদ্য এই নাম শুনে আবার আপনারা কেউ সামপ্রদায়িক ইস্যু ভেবে বসবেন না। না না এই চমৎকার অলস মাখানো দুপুরে আমি কী করে সামপ্রদায়িক প্রসঙ্গ তুলি ! তার চেয়ে যেভাবে চলছে চলুক না। খামোকা..
জল পড়ছে,কল খুলছে,ক্রিকেট হচ্ছে,রোদ বাড়ছে।
কা তব কান্তা।
তবে তাই হোক !
রচনা : 31 মার্চ 2002
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০