somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ষণ ও আমার ভাবনা।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে ইদানিং কালে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে গিয়েছে নাকি গণমাধ্যম আগের চেয়ে অধিক সচেতন- এই নিয়ে গতকাল এফ এম 89.2 তে অভিমত জানতে চেয়েছিলো। ইদানিংকার ফেইসবুক আর ব্লগের মতই সেই ক্ষুদে বার্তার অভিমত রূপ নিয়েছিলো- পর্দা প্রথা, নারীর পোষাকের সাথে নারীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ- এই দুইয়ের হিন্দি সিরিয়ালী রূপ।

রক্ষণশীলতার ধ্বজাধারী গোষ্ঠীর একমাত্র বা কদাচিত অন্য কিছু কারণ সহ মূল অভিমত-বেপর্দা নারীরাই ধর্ষণের শিকার হয় আর পর্দাই পারে পদ্মাপাড়ে পুকুরপাড়ে নদীর পাড়ে নারীর ধর্ষণ রোধ করতে। ব্যাপারটা আমার কাছে “ধর্মীয় অনুশাসনই এইডস প্রতিরোধের একমাত্র উপায়” এর মত ঠেকে। বস্তুত ধর্মীয় অনুশাসন না মেনেও যেমন লক্ষ নিযুত মানুষ এইডসে আক্রান্ত না হয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করেছে তেমনি ধর্মীয় অনুশাসন মেনেও দূষিত রক্ত বা অসচেতনতা বা দূর্ঘটনার কারণে যে কেউ এইডসে আক্রান্ত হতে পারে।
ওড়নার প্রসঙ্গে একটু বলা যাক। বাংলাদেশে চাকমা, মারমা বা অন্যান্য আদিবাসী মেয়েরা ওড়না পরে না, থামির সাথে ওড়না পড়া আদি আদিবাসী সংস্কৃতিতে নেই। রক্ষনশীলতার সূত্রমতে তাহলে আদিবাসী নারীদের সবারই ইতোমধ্যে একবার করে ধর্ষিত হয়ে যাবার কথা। পার্বত্য এলাকার আরো ভিতরে যান। কয়েকটা আদিবাসী জাতির মেয়েরা শরীরের উর্ধাংশে কাপড়ই পরে না, সূত্রমতে তাদের প্রত্যেককে সহস্রবার ধর্ষিত হবার কথা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ধর্ষিত হয় বেশিরভাগ গার্মেন্টসে কর্মরত মেয়েরা ( পত্রিকার খবরে বেশিরভাগ ভিকটিম হিশেবে এদেরকে দেখা যায়)- যাদের বেশিরভাগই সচারচর সেলোয়াড় কামিজই পড়ে। আমার মতে একটা নিজস্ব ঐতিহ্যের পোষাক কখনই ধর্ষনের নিয়ামক হতে পারে না। মুগদাপাড়ায় থাকতে প্রতিদিন অজস্র মেয়েকে দেখতাম গার্মেন্টসে যেতে, যাদের হয়ত দু একজনকে আধুনিক পোষাক পরতে দেখতাম। সময়টা ২০১০ হলেও ২০১৩তে এসে নিশ্চয় দ্রব্যমূল্যের মত পোশাক আশাক চেঞ্জ করে ফেলেনি মেয়েরা । আর সমাজের যে শ্রেনীতে পাশ্চাত্যের জামা কাপড় বেশি দেখা যায় তাদের কয়জন ধর্ষণের শিকার হয়? আর তাই মনে করি ধর্ষনের ক্ষেত্রে কাপড়ের ভূমিকা আসলেই নগণ্য, নিরাপত্তা তার চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে আমার মনে হয়।

সূর্যের তাপমাত্রা বেশি কিন্তু কত বেশি সেটা যেমন অনুভব করা যায় না, তেমনি একজন খুনি বা ধর্ষক নিশংস কিন্তু কতটা সেটাও খুব সহজেই বলা যায় না। পেশাদার খুনির মানসিকতা আসলে কেমন, তারা আসলে কি ভাবে সেটা নিশ্চয় এক কথায় বলে দেয়া যায় না। ঠিক তেমনি এক কথায় বলে দেয়া যাবে না একজন পুরুষ হঠাত কেন পুরুষ পশুতে পরিণত হয়। আইনের কড়াকড়ি আর বিচার আসলেই কি পারবে নারীকে ধর্ষনের হাত থেকে রক্ষা করতে ? একজন ধর্ষক কি ধর্ষনের সময় বিচারের কথা ভাবে ? আইন পারবে ধর্ষকের বিচার করতে, ধর্ষনের হাত থেকে নারীদের বাচাতে আরো গভীর ভাবনার অবকাশ আছে।

২০০৯ সালে মানবাধিকারের উপর ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে
ডিপ্লোমা করার সময় দেখেছি বিভিন্ন গবেষক, এনজিও যৌনকর্মী, সমকামী, হিজড়া – এইসব হট টপিক্সের উপর বই প্রকাশ করে থাকে। কেন ধর্ষন হয় তার উপর বই হয়তো আছে, কিন্তু আমার চোখে এখন পর্যন্ত একটাও পড়েনি। আমি মনে করি মনোবিজ্ঞানী আর সমাজবিজ্ঞানীদের এই ক্ষেত্রে ব্যাপক গবেষনা করা দরকার। বাংলাদেশে বিবিএর স্টুডেন্টের থেকে সমাজ বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট কম হবার কথা নয়। সরকার এইসব নিয়ে কখনো ভাবে না, সবসময় থাকে ঠেকনা দেবার প্রবণতা, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উপায় খোঁজার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করা মানুষদের এগিয়ে আশা উচিত। সে ক্ষেত্রে সমাধান না পাওয়া যাক, একটা গাইডলাইন পাওয়া যেতে পারে। ধর্ষনের কারণ খুঁজতে হবে ধর্ষকদের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে, স্বাভাবিক মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না। হয়তো তাতেই নারী ধর্ষন আর শিশু ধর্ষনের ( শিশু ধর্ষনের কারন কি, রক্ষনশীল গোষ্ঠী?) কারণ কি তা আসলেই জানা যাবে।

(এটা আমি ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ লিখেছিলাম ৬ ফেররুয়ারির একটা এফ এম রেডিওর অনুষ্ঠানের পরিপ্রেক্ষিতে।)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৪:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসের ঘর বনাম বাস্তব হিসাব

লিখেছেন মোবারক, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২০

পরিবারে বড় ভাই হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্যাগী বা মহান হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, পরিবারের প্রথম সন্তান মানেই তিনি অনেক ত্যাগ করবেন এবং ভাইবোনদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×