somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়ে কেন অভিশাপ?

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি হয়েছে ? ছেলে না মেয়ে ? উত্তর টা যদি মেয়ে হয় তবে পরিবারের সদস্যদের মুখ আর মনের অবস্থা হয় বসন্ত কালে ঘূর্ণিঝড়ের মত।
যার জন্মের পর বাবা মার চিন্তার জন্ম হয় তার বাকী জীবন যে খুব চিন্তামুক্ত থাকবে তা দুঃস্বপ্ন।
মেয়ে যখন একটু বড় হয়ে ওঠে তখন থেকে তার মনে একটা বিভাজন তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব মা নিয়ে নেয়। মেয়ে কে বোঝানো হয় তার ভাই থেকে সে সব দিক থেকে আলাদা । তার ভাইয়ের মত যা খুশি করার ক্ষমতা তাকে সমাজ দেয় না্ই । তাকে একটা গন্ডির মধ্যে থাকতে হবে ।
জানেন মেয়েদের অভিশাপ কখন থেকে শুরু হয় ? যখন সে মেয়ে বলে মেয়ে শিক্ষকের কাছেই পড়তে হয় , যদিও শিক্ষক খারাপ তারপরও তাকে মেয়ে শিক্ষকের কাছেই পড়তে হবে । কারন ছেলে শিক্ষক নিরাপদ না । এই থেকে শুরু হয় একটা মেয়ের পিছিয়ে পড়া । যা সারা জীবন ধরে বয়ে যেতে হয়।

মেয়েদের সব চেয়ে বেশি অবহেলা করা হয় তাদের মত প্রকাশের ক্ষেত্রে, তারা কি চায় তার গুরুত্ব খুব কম সময়ই দেওয়া হয়। একটা ছেলে যত ইচ্ছা উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারে কিন্ত মেয়েদের ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা বলতে এইচ.এস.সি পর্যন্ত। এর পরই মেয়ে বাবা মায়ের কাছে বোঝা হওয়া শুরু করে । এক্ষেত্রে সম্পূর্ন দোষ বাবা মার না, সমাজ তাদের বাধ্য করে মেয়ের বিয়ে সম্পর্কে ভাবতে । অাত্নীয়-স্বজন রা একরে পর এক বিয়ের প্রস্তাব আনা শুরু করে , আর বাবা মা দের রাতের ঘুম হারাম করে দেয় । যার ফলাফল অনার্স ভর্তির আগেই বা অনার্স ১ম বর্ষের মধ্যেই ৯০% মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় বিয়ে পরও মেয়েরা পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চায় , স্বামীও আগ্রহ দেখায় কিন্তু বছর না ঘুরতেই শ্বশুর - শ্বাশুরির নাতি -নাতনির মুখ দেখার ইচ্ছা হয় । যা চাপে মেয়ে টি বাধ্য হয়ে কনসিভ করে আর উচ্চ শিক্ষাকে বিদায় জানায় । এই হলো আমাদের বর্তমান আবস্থা।

আমারা কেন এই অবস্থা থেকে বের হতে পারছি না তার কিছু কারন আমি খোজে বের কারার চেষ্ঠা করেছিঃ
১. দারিদ্র । আমাদের অনেক বাবা মা টাকার অভাবে চাইলেও তাদের মেয়ে কে উচ্চ শিক্ষা দিতে পারে না।
২. মানসিকতা । অনেক বাবা মার মানসিকতা হলো যে মেয়ে বিয়ে দিলে পরের হয়ে যাবে , পরের মেয়েকে টাকা নষ্ট করে উচ্চ শিক্ষা দেওয়ার কোন মানেই হয় না।
৩. সহজলভ্যতার অভাব। বাংলাদেশে এখনো উচ্চশিক্ষা সহজ লভ্য না । বেশিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ গুলো জেলা শহর বা বিভাগীয় শহরে । বাড়ি থেকে দূরে বিধায় অনেক বাবা মা মেয়েকে উচ্চ শিক্ষা দিতে অগ্রহ দেখায় না।
৪. বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব। বর্তমান সময়ে বাবা মা রা তাদের মেয়ে কে বিশ্বাস করতে পারে না । কারন কখন কার সাথে প্রেম করে বেড়ায় , যদি চোখের সামনে থাকে তবে সেই সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মেলে । তাই তারা বাড়ি থেকে দূরে মেয়েকে পড়াতে মোটেও আগ্রহী হয় না।
৫.ধর্মীয় গোড়ামি। ( এইটা পাঠক নিজেরা বুঝে নিবেন )
৬. যাতায়াত অনিরাপদ। মেয়েদের জন্য বিভাগীয় শহর গুলোতে যাতায়াত খুবই অনিরাপদ । আমি আজও দেখেছি এক মেয়ে শ্যামলি ৩০ মিনিট দারিয়ে থেকেও মিরপুর -১ এর কোন বাস বা লেগুনা তে উঠতে পারে নি। ছেলেরা চাইলে লেগুনার পিছনে বা বাসে দারিয়ে চলে যেতে পারে কিন্তু মেয়েরা পারে না ।
৭. থাকার সমস্যা। মেয়েদের ঘরভাড়া পাওয়া ছেলেদের চেয়ে কঠিন। বিশেষ করে ঢাকাতে।
এই সব ছাড়াও আরও অনেক সমস্যা আছে যা মেয়েদের সমাজের কাছে , বাবা মায়ের কাছে অভিশাপ করে তুলেছে। যার মধ্যে যৌতুক আরও একটি ভয়াবহ কারন।
আমি জানি না মরার আগে একটি বৈষম্যহীন সমাজ দেখে যেতে পারবো কি না।
ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২০
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×