কি হয়েছে ? ছেলে না মেয়ে ? উত্তর টা যদি মেয়ে হয় তবে পরিবারের সদস্যদের মুখ আর মনের অবস্থা হয় বসন্ত কালে ঘূর্ণিঝড়ের মত।
যার জন্মের পর বাবা মার চিন্তার জন্ম হয় তার বাকী জীবন যে খুব চিন্তামুক্ত থাকবে তা দুঃস্বপ্ন।
মেয়ে যখন একটু বড় হয়ে ওঠে তখন থেকে তার মনে একটা বিভাজন তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব মা নিয়ে নেয়। মেয়ে কে বোঝানো হয় তার ভাই থেকে সে সব দিক থেকে আলাদা । তার ভাইয়ের মত যা খুশি করার ক্ষমতা তাকে সমাজ দেয় না্ই । তাকে একটা গন্ডির মধ্যে থাকতে হবে ।
জানেন মেয়েদের অভিশাপ কখন থেকে শুরু হয় ? যখন সে মেয়ে বলে মেয়ে শিক্ষকের কাছেই পড়তে হয় , যদিও শিক্ষক খারাপ তারপরও তাকে মেয়ে শিক্ষকের কাছেই পড়তে হবে । কারন ছেলে শিক্ষক নিরাপদ না । এই থেকে শুরু হয় একটা মেয়ের পিছিয়ে পড়া । যা সারা জীবন ধরে বয়ে যেতে হয়।
মেয়েদের সব চেয়ে বেশি অবহেলা করা হয় তাদের মত প্রকাশের ক্ষেত্রে, তারা কি চায় তার গুরুত্ব খুব কম সময়ই দেওয়া হয়। একটা ছেলে যত ইচ্ছা উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারে কিন্ত মেয়েদের ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা বলতে এইচ.এস.সি পর্যন্ত। এর পরই মেয়ে বাবা মায়ের কাছে বোঝা হওয়া শুরু করে । এক্ষেত্রে সম্পূর্ন দোষ বাবা মার না, সমাজ তাদের বাধ্য করে মেয়ের বিয়ে সম্পর্কে ভাবতে । অাত্নীয়-স্বজন রা একরে পর এক বিয়ের প্রস্তাব আনা শুরু করে , আর বাবা মা দের রাতের ঘুম হারাম করে দেয় । যার ফলাফল অনার্স ভর্তির আগেই বা অনার্স ১ম বর্ষের মধ্যেই ৯০% মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় বিয়ে পরও মেয়েরা পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চায় , স্বামীও আগ্রহ দেখায় কিন্তু বছর না ঘুরতেই শ্বশুর - শ্বাশুরির নাতি -নাতনির মুখ দেখার ইচ্ছা হয় । যা চাপে মেয়ে টি বাধ্য হয়ে কনসিভ করে আর উচ্চ শিক্ষাকে বিদায় জানায় । এই হলো আমাদের বর্তমান আবস্থা।
আমারা কেন এই অবস্থা থেকে বের হতে পারছি না তার কিছু কারন আমি খোজে বের কারার চেষ্ঠা করেছিঃ
১. দারিদ্র । আমাদের অনেক বাবা মা টাকার অভাবে চাইলেও তাদের মেয়ে কে উচ্চ শিক্ষা দিতে পারে না।
২. মানসিকতা । অনেক বাবা মার মানসিকতা হলো যে মেয়ে বিয়ে দিলে পরের হয়ে যাবে , পরের মেয়েকে টাকা নষ্ট করে উচ্চ শিক্ষা দেওয়ার কোন মানেই হয় না।
৩. সহজলভ্যতার অভাব। বাংলাদেশে এখনো উচ্চশিক্ষা সহজ লভ্য না । বেশিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ গুলো জেলা শহর বা বিভাগীয় শহরে । বাড়ি থেকে দূরে বিধায় অনেক বাবা মা মেয়েকে উচ্চ শিক্ষা দিতে অগ্রহ দেখায় না।
৪. বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব। বর্তমান সময়ে বাবা মা রা তাদের মেয়ে কে বিশ্বাস করতে পারে না । কারন কখন কার সাথে প্রেম করে বেড়ায় , যদি চোখের সামনে থাকে তবে সেই সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মেলে । তাই তারা বাড়ি থেকে দূরে মেয়েকে পড়াতে মোটেও আগ্রহী হয় না।
৫.ধর্মীয় গোড়ামি। ( এইটা পাঠক নিজেরা বুঝে নিবেন )
৬. যাতায়াত অনিরাপদ। মেয়েদের জন্য বিভাগীয় শহর গুলোতে যাতায়াত খুবই অনিরাপদ । আমি আজও দেখেছি এক মেয়ে শ্যামলি ৩০ মিনিট দারিয়ে থেকেও মিরপুর -১ এর কোন বাস বা লেগুনা তে উঠতে পারে নি। ছেলেরা চাইলে লেগুনার পিছনে বা বাসে দারিয়ে চলে যেতে পারে কিন্তু মেয়েরা পারে না ।
৭. থাকার সমস্যা। মেয়েদের ঘরভাড়া পাওয়া ছেলেদের চেয়ে কঠিন। বিশেষ করে ঢাকাতে।
এই সব ছাড়াও আরও অনেক সমস্যা আছে যা মেয়েদের সমাজের কাছে , বাবা মায়ের কাছে অভিশাপ করে তুলেছে। যার মধ্যে যৌতুক আরও একটি ভয়াবহ কারন।
আমি জানি না মরার আগে একটি বৈষম্যহীন সমাজ দেখে যেতে পারবো কি না।
ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



