অফিস থেকে বেরিয়ে রিকসার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ মনে হল পেছন থেকে কে যেন কি বলছে। খেয়াল করলাম ছোট্ট একটা ছেলে গেটের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে আধো আধো বোলে কি যেন বলছে। এগিয়ে এল দ্বাররক্ষী সামছু মিয়া। বলল স্যার আমার ছেলে। আপনাকে বলছে- আপনি কি সাহেব?
কৌতুহল জাগল- আমাকে সাহেব ভাবার কারণ কি? এগিয়ে কাছে ডাকলাম। বীরদর্পে বেরিয়ে এসে আরো কিছু বোঝাতে চাইল। বুঝলাম না কিছুই। সামছু মিয়াই পরিস্কার করল বিষয়টি।
ও বায়না ধরেছে গেটে দাঁড়িয়ে থাকবে। সামছু মিয়া ওকে সাহেবের ভয় দেখিয়েছে। বলছে সাহেব এখনই আসবে। তাই ছোট্ট বালকের এই উৎকণ্ঠা। এই বুঝি সাহেব এল। মনটা কেমন করে উঠল। মুখে শুধু বললাম না-রে আমি সাহেব নই। হতেও চাই না।
রিঙ্ায় কিছু দূর আসতেই রাস্তা বন্ধ। কারণ জানতে চাইলাম। এমপি সাহেব আসছেন- তাই রাস্তা কিয়ার। মিনিট দশেক বসে থাকার পর সাহেব এলেন। ছাদ খোলা গাড়িতে ফুলের মালায় আচ্ছাদিত সাহেবকে চেনার উপায় নাই। রাস্তায় ভুক্তভোগী পথচারী ছাড়া এমন কেউই ছিলনা যে বা যারা সাহেবকে এক পলক দেখার জন্য রাস্তার দাঁড়িয়েছেন। অথচ সাহেবটি রোবটিক স্টাইলে হাত নেড়ে অভিনন্দিত করেই চলেছেন তার সুভানুধ্যায়ীদের। বেজায় হাসি পেল। এই তাহলে সাহেব তন্ত্রের মাহাত্ম।
রিঙ্ায় যেতে যেতে দুটো ঘটনার যোগসূত্রতা মেলাতে থাকলাম। চমৎকার যোগসূত্র রয়েছে। গোটা দেশটাই চলছে এখন সাহেবতন্ত্রের অঙ্গুলি নির্দেশে। সাহেব তন্ত্রের দোলায় দোলায়িত হয়ে কেউ হচ্ছে সর্বহারা- কেউবা রাতারাতি দস্তুর সাহেব বনে যাচ্ছেন। এই সাহেব তন্ত্র টিকিয়ে রাখতেও চলছে নানা ম্যাকানিজম। সামছু মিয়ার ছোট্ট বাচ্চার মত গোটা দেশটাকেই মগজ ধোলাই দেওয়া হচ্ছে। দেশ-দেশের সম্পদ সবইতো ওই সাহেবদের। আমাদের রুটি রুজির মালিকও তো ওঁরা। আমরা কেবল ওদের করুণার পাত্র। তাই সাহেবতন্ত্রের দাসানুদাস হয়ে রই আজীবন। সাহেবদের জন্য কৃষক, শ্রমিক, জেলে, মজুর খেটে মরছে নিরন্তর। সাহেবদের শৌর্য-বীর্যের রকও ওই ওরা। অথচ...
ভাবতে ভাবতে মাথাটা গুলিয়ে আসছিল। একটি আশাজানিয়া ঘটনাও অবশ্য ঐদিন ঘটেছিল। সামছু মিয়ার ছেলেটি বুঝুক আর না-ই বুঝুক বীরদর্পে কিন্তু সাহেববের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। এটাই আশা। মানুষ সজাগ হতে শুরু করেছে। ধীরে হলেও হিস্সা বুঝে নিতে "মানুষ জাতবে ফের"।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







