somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হৃদয়কে নিংড়ে দিয়ে চোখের পানি বের করলো যে মুভিটি

০২ রা মে, ২০১৫ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন পর একটি মুভি দেখে কাঁদলাম আমি। অনুভূতি এমনিতেই দুর্বল হয়ে গেছে এই জটিলতর সমাজে। কিছুতেই সহজে অবাক হতে মন চায় না। অল্প সময়ের জীবনে অনেক কঠিন করেই চিন্তা করি আমি। যতো কঠিন করে চিন্তা, ততো বেশী যেন কঠিন ঝামেলা চেপে ধরে জীবনে। সহজ করে ভাবতে গেলে বিপদ। লোকে বলে বোকা!
তবুও কি সহজ গল্পে মানুষের লোভ, ধ্বংসযজ্ঞ, ভালোবাসা আর মৃত্যু ফুটে উঠে শিল্পে!
যে ছবির ব্যপারে এতো ভণিতা করছি, সেটা ১৯৮৮ সালে জাপানে নির্মিত একটা কার্টুন ছবি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মানুষের নষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ দ্বারা সংঘটিত অমানবিক অবস্থার একটি মাত্র চিত্র দ্বারা পরিচালক কতো সহজে সমগ্র মানবজাতির দু:খ-কষ্টগুলো তুলে ধরেছেন!
ছবির মূল চরিত্ররা হচ্ছে- সিতা নামের একটি টিনএজ ছেলে এবং তার ছোট্ট বোন, সেতসুকো নামের একটি মিষ্টি বাচ্চা মেয়ে। বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার ফায়ার বম্বিংএর পর এই দুই ভাই-বোন নি:সঙ্গ ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাদের মা-বাবা বিশ্বযুদ্ধের আক্রমণের স্বীকার হয়ে মারা যায়। অদ্ভুত নিষ্ঠুর এক দুনিয়ায় তারা পড়ে যেখানে বেঁচে থাকা মানে শরীরে বেঁচে থাকার শক্তি থাকা। টিনএজ ছেলেটি ছোট হলেও পৃথিবীর নিষ্ঠুরতা তাকে সাহসী করে তোলে। সে শক্ত হৃদয়ে কোমল পরশে মিষ্টি ছোট্ট বোনকে যুদ্ধের সমস্ত অাতঙ্ক ও বিভীষিকা থেকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। অভিভাবকহীন, আশ্রয়হীন চরম পৃথিবীতে টিকে থাকার চরম যুদ্ধে হাঁপিয়ে যায় ভাইটি। তবুও বোনকে সে বুঝতে দেয় না। পরম মমতায় শুধু বেঁচে থাকার আশা নিয়ে দু'জন একসাথে থাকে। জোনাকী পোকদের কবর রচনা হয়। সেই সাথে যেন স্পষ্ট অনুভব করা যায় অগণিত মানুষের মৃত্যু কবরের হাহাকার।
হৃদয়ভাঙ্গা করুণ পরিণতি ছবিতে ঘটা সমস্ত চেষ্টাকে যখন ব্যর্থ প্রমাণ করে, তখন চোখের পানিকে আর বাঁধ মানানো যায় না।
মানুষ যে পৃথিবীতে বড় হতে হতে লোভী হয়, নিষ্ঠুর হয় আর বাস্তববাদীর নামে প্রকৃতির স্বাভাবিক বেগকে অশান্ত করে তোলে, তা মনে হতে বাধ্য। ভাই-বোনের এই একটি চিত্র দ্বারাই স্পষ্ট বোঝা যায় মর্ত্যের দুনিয়াতে মানুষের মৃত্যুর তান্ডব। হৃদয়ভাঙ্গা এ ছবির গল্প একটি সত্যি ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত করেছেন পরিচালক "ইসাও তাকাহাতা"।
ছবিটি শুধুমাত্র তাদের জন্য, যাদের মানুষকে ভালোবাসতে মনে চায়।
Grave of the Fireflies- এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
A film of 1988
8.5/10·IMDb
My Rating- 9/10
Initial release: April 16, 1988 (Japan)
Director: Isao Takahata
Running time: 1h 30m
Production company: Studio Ghibli
Story by: Akiyuki Nosaka
Featured song: Home! Sweet Home

১১টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×