somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুভ বিবাহ

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অসহ্য গরম। চারদিকে মানুষ
গিজগিজ করছে। বাড়িটাকে
কেমন যেন রেল স্টেশনের মত
লাগছে। সবার মধ্যে একটা
চাঞ্চল্য। যেন খুব তাড়া। এখনি
ট্রেন ছেড়ে দেবে, এটাই শেষ
ট্রেন, ধরতে না পারলে আর বাড়ি
যাওয়া হবে না। একটা ঘোর লাগা
পরিবেশ।
অনেকে আবার দেখি গরম
কাপড়ও পড়েছে। এরা কি পাগল
টাগল হয়ে গেছে নাকি। এদিকে
আমি ঘামছি আর ঘামছি। আচ্ছা
এটা কি শীতকাল!! না না তাহলে
আমি এত ঘামছি কেন?
বাড়িটাকে এমন সাজিয়েছে
কেন? ছবির মত লাগছে। কি সুন্দর
বাতি গুলো জ্বলছে নিভছে।
অদ্ভুত ছন্দময়তা!! চারদিকের সব
মানুষগুলোও সেজেগুজে রং
মেখে ঢং সেজেছে।
ও আচ্ছা বলাই তো হয়নি, সবাই
মিলে আমাকে একটা স্টেজ এ
বসিয়ে দিয়ে গেল মাত্র।
আমাদের বড় দহলিজের একপাশে
আমার পছন্দের নীল অর্কিড আর
লাল টকটকে গোলাপ দিয়ে খুব
সুন্দর একটা স্টেজ সাজিয়েছে,
ঠিক যেমনটা আমি চেয়েছিলাম।
আচ্ছা, আমি তো কখনো আম্মু
আব্বুকে বলিনি আমার এমনটা
পছন্দ, ওরা কিভাবে বুঝে গেল!
মা বাবাদের মনে হয় অনেক কিছু
বুঝে নিতে হয়।।
আমি কে তাইতো বলা হল না!!
আমি অন্তী। আমি মা বাবার বড়
মেয়ে। আসলে শুধু মা বাবার বড়
মেয়ে বললে ভুল হবে, আমি এই
বাড়ির বড় মেয়ে এবং একমাত্র
মেয়ে। ছোট থেকে এতো আদরের
ফাঁকে কখন যে এত বড় হয়ে
গেলাম বুঝতেই পারিনি। আমাকে
কেউ বুঝতেই দেয়নি। সবার এত
এত ভালবাসার মাঝে আমাকেই
আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম।
সারাক্ষণ আহ্লাদে আবদারে
কেটে যেত সময়গুলো। বন্ধুমহল
থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুনতে
হত, অন্তী মেয়েটা এত Immature
আর আহ্লাদি!!!!
কে একজন এসে বলে গেল আজ
নাকি আমার বিয়ে। এজন্যই
চারদিকে এত আলোর ছটা। সকাল
সকাল পার্লারে নিয়ে অনেক
সাজালো। সবুজ পাড়ের লাল
বেনারসী আর আমার পছন্দের সব
গয়না দিয়ে। তারপর স্টেজটাতে
বসিয়ে দিয়ে গেল। কি আজব!
আমিও পুতুলের মত বসে আছি!!
সদা ছটফটে আমি আজ চুপসে
গেছি। আমাকে নাকি বিয়ের
সাজে অপ্সরী লাগছে। আচ্ছা
আমি কি এত সুন্দরী?! সবাই আমার
সাথে ছবি তুলতে ব্যস্ত। আমিও
গোমরামুখে ছবি তুলছি। ছিঃ
ছবিগুলো বিশ্রী
হবে,গোমরামুখের ছবি কি ভাল
হয়!! কিন্তু আমি তো হাসতে
পারছি না….
বড় রাস্তাটার পাশে দেখলাম খুব
সুন্দর একটা গেট সাজিয়েছে।
সবাই হঠাত্ গেট এর দিকে
ছুটছে,’বর এসেছে বর এসেছে ‘।
আমার পাশের মানুষগুলোর এবার
বর দেখার পালা। আমারও খুব
ইচ্ছে হচ্ছে বর দেখার। সোনালি
শেরওয়ানী মাথায় টোপরে কেমন
লাগছে আমার বরটাকে??
মিটিমিটি হাসছে নাকি আমার
মতই গোমরা মুখে বসে আছে??
আরে ওইতো বর চলে এসেছে।
ঐতো অন্তীর বর অয়ন। অয়ন,হ্যাঁ
অয়ন; যখন থেকে বুঝতে শিখেছি
ওই একটি নামেরই আরাধনা
করেছি। পাতার পর পাতা চিঠি
লিখে জমিয়েছি। কত পূর্ণিমায়
কল্পনায় ওর হাত ধরে ভিজেছি।
বৃষ্টিতে আনমনে ভিজেছি….
আমাদের বাসা থেকে তিন
রাস্তা পরই অয়নদের বাসা।
অগোছালো এলোমেলো একটা
ছেলে। বয়সে কিছুটা বড় হলেও
সামনের মাঠের খেলার সঙী
হওয়ায় ছোট থেকেই অয়ন আমার
বন্ধু। খেলার সাথীই একসময়
ভালবাসার মানুষ হয়ে ওঠে।
ভালবাসার ঐ মানুষটার সাথেই
আজ আমি স্বপ্নের রাজ্যে পাড়ি
দেব। এই দিনতো আমার বহু
কাঙ্খিত। দুই কপোত কপোতির
ভালবাসায় ঝলসে যাবে চারপাশ।
তবে কেন আজ আমি এত আনমনা।
কেন এক অজানা ভয়ে বার বার
শিউরে উঠছি?? বার বার কেন
অন্তরাত্মা ডুকরে ডুকরে কেঁদে
উঠছে?? অজানা শঙ্কায় কনকনে
শীতের রাতেও আমি ঘেমে
একাকার!! বিয়েবাড়ির কোলাহল
কোথায় যেন খুব যন্ত্রণা দিচ্ছে!!
মা বাবা দাদা দাদু আর সবার
মুখগুলো থেকে থেকে মনে পড়ছে।
আজ আমি আমার হাজার বছরের
চেনা পরিচিত মুখগুলো ছেড়ে
বহুদূর চলে যাচ্ছি। অতি চেনা এক
বরের সাথে অজানার পথে পাড়ি
জমাবো একটু পরই। এই বাড়ি,
উঠোন আমার অচেনা হয়ে যাবে।
মানুষটা বড় চেনা কিন্তু পথটাযে
তেমনি অচেনা অজানা……
এভাবেই অন্তীরা অয়নদের হাত
ধরে অচেনা পথের যাত্রী হয়…..
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:০৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×