somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে দিতে চান নির্যাতিত জাহিদ

১০ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নির্যাতনের বিচার না পেয়ে অবশেষে পেশা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাংবাদিক জাহিদ। নির্যাতনকারীদের গ্রেফ-তারের দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন তিনি। অপরাধীরা গ্রেফতার এবং বিচার না পেলে সাংবাদিকতা পেশাই ছেড়ে দেবেন অবজার-ভারের তরুণ সাংবাদিক জাহিদ আল আমিন। বিচার না পাওয়া অভিমানী এক সাংবাদিকের এ এক ভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ।

সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে একদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে আজ সেই পেশাটিকেই চিরদিনের মতো ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। গত দুই বছর ধরে সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখেও সাংবাদিক-তায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই বছর আগে রিপোর্ট করার কারণে চট্টগ্রাম মেডিকালে সন্ত্রাসী ডাক্তার ও ইন্টার্নিদের হাতে নির্মমভাবে নির্যাতিত হন সাংবাদিক জাহিদ। কিন্তু আজো বিচার পাননি তিনি।

২০০৫ সালের ২১ জুলাই চট্টগ্রামে যৌতুকের বলি এসিডদগ্ধ গৃহবধূ হোসনে আরার ওপর সরেজমিন প্রতিবেদন করতে চট্টগ্রাম মেডিকালে গিয়েছিলেন জাহিদ আল আমিন। আগে থেকেই ওতপেতে থাকা কয়েক সন্ত্রাসী ডাক্তার শতাধিক রোগীর সামনেই অতর্কিতে ঝাপিয়ে পড়ে তার ওপর। তারা চার ঘণ্টা ধরে জাহিদের ওপর চালায় পৈশাচিক নির্যাতন। সন্ত্রাসীরা তার বা পা ও হাত ভেঙে দেয়। দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার পর এখনো সে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।

নির্যাতন প্রসঙ্গে জাহিদ বলেন, চমেক হাসপাতালে বিদ্যমান অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশের জের ধরেই ওরা চার ঘণ্টা আটকে রেখে দফায় দফায় আমার ওপর নির্যাতন চালায়। পাষ- ডাক্তাররা ওয়ার্ডের শতাধিক রোগীর সামনে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইনজেকশনের সুই ফুটায়। ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। ওরা থেতলে দেয় আমার দুই হাত এবং ভেঙে দেয় বাম পা টি। এক পর্যায়ে মেরে ফেলার জন্য এক রোগীর বিছানার চাদর দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়ার সময় স্থানীয় থানা পুলিশ ও চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন।

চট্টগ্রাম মেডিকালের এ চক্রটির অস্ত্র, মদ, ওষুধ চুরি, চাদাবাজি, লাশ নিয়ে বাণিজ্য, অ্যাম্বুলেন্স ও সার্টিফিকেট ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার কারণে কয়েকদিন ধরে সন্ত্রাসী ডাক্তাররা জাহিদকে খুজছিল।

সেই সন্ত্রাসী ডাক্তারদের একজন সেলিম ওরফে বেয়াদব সেলিম এখন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে কর্মরত। ডা. সাইফুল দোর্দ- প্রতাপের সঙ্গে এখনো চট্টগ্রাম মেডিকালেই আছে। তানভীর হাবীব তান্নার বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকের ওপর হামলার পুরস্কারস্বরূপ বিগত জোট সরকার তাকে চট্টগ্রাম মেডিকালেরই নিওরোসার্জারি বিভাগে চাকরি দিয়েছে। মশিউর রহমান দিপু এখন ঢাকায়। আর ফারাহ চৌধুরী এখন চমেকের গাইনি ওয়ার্ডে ইন্টার্নি করছে। ওয়ার্ড বয় শওকত বহাল তবিয়তে চমেকের ১৯ নাম্বার ওয়ার্ডে। পুলিশ আজো সাংবাদিক নির্যাতনকারী অন্য সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে পারেনি।

হামলার পর চিহ্নিত ওইসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাচলাইশ থানায় ওই সাংবাদিক এ ব্যাপারে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছিল। এছাড়া মামলা তুলে নেয়া এবং দু-দুবার অপহরণ চেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর মতিঝিল ও সবুজবাগ থানায় আরো দুটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত রয়েছে। তবে পুলিশ গত দুই বছরেও এ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার তো দূরের কথা চার্জ শিটও প্রদান করেনি।

জাহিদের ওপর নির্যাতনের ২৪টি মাস অতিবাহিত হয়েছে। সেই পাশবিক নির্যাতনের স্মৃতি আজো ভুলতে পারেনি সে। এখনো খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতে হয় তাকে। মেরুদ-ে গুরুতরভাবে আঘাত করার কারণে নিয়মিত থেরাপি নিতে হয়। চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে এসেও রেহায় পাননি, এখনো সন্ত্রাসীদের মৃত্যুর হুমকি তাকে তাড়া করে ফিরছে।

দীর্ঘ দুই বছর প্রতীক্ষার পর বর্তমান সরকারের সময়ে সুবিচার ও নিরাপত্তার আশায় বুক বেধেছেন সাংবাদিক জাহিদ। বর্তমান নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ ব্যাপারে একটু আন্তরিক হলে একজন তরুণ সম্ভাবনাময় সাংবাদিকের আবারো নিজ পেশায় আত্মনিয়োগ করতে পারেন।

আর যদি বিচার না পান তাহলে নীরব প্রতিবাদস্বরূপ সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে দেবে কিছুদিন আগে দিল্লি থেকে সাংবাদিকতার ওপর ডিগ্রি নিয়ে আসা এ তরুণ সাংবাদিক।
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রোজার ২৪ আধুনিক মাসআলা, যেগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন সকলেরই - রিপোস্ট

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

রোজার ২৪ আধুনিক মাসআলা, যেগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন সকলেরই - রিপোস্ট

ছবিঃ অন্তর্জাল।

পবিত্র মাহে রমজান খুবই নিকটবর্তী। আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শা'বান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান। হে আল্লাহ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের আমিরের একাউন্ট হ্যাক আওয়ামী লীগের হ্যাকাররা করে থাকতে পারেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫৮



নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি। গত বছর, লন্ডন থেকে আমার এক আত্মীয় হঠাত একদিন আমাকে জানান যে, 'গ্রামের রাজনীতি' নামক এক ফেসবুক পেইজে আমার উপরের ছবি দেওয়া হয়েছে। আমি হতবাক!... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একটি জোনাক প্রহর দেবে আমায়=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৮


গাঁয়ের বাড়ি মধ্যরাতে
জোনাক নাকি বেড়ায় উড়ে,
ঝিঁঝি নাকি নাকি সুরে
ডাকে দূরে বহুদূরে?

মধ্যরাতের নীল আকাশে
জ্বলে নাকি চাঁদের আলো!
রাতে নাকি নিরিবিলি
বসে থাকলে লাগে ভালো?

শিয়াল ডাকে হুক্কা হুয়া;
কুকুর ডাকে একা ঘেউ ঘেউ;
মধ্যরাতে গাঁয়ে নাকি
ঘুমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তানের বির্যে জন্ম নেয়া জারজরা ধর্মের ভিত্তিতে, বিভাজিত করতে চায় বাংলাদেশের নাগরিকদের ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৯



বাংলাদেশী ধর্মান্ধ মুসলমান,
বাঙালি পরিচয় তোমার কাছে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য।
তুমি কি দেশে দেশে Ehtnic Cleansing এর ইতিহাস জানো? জাতিগত নিধন কী বোঝো?
বাঙালি জাতি নিধনের রক্ত-দাগ প্রজন্ম থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ: ব্লগার রাজিব নূর এবং মহাজাগতিক চিন্তা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩৬


ঢাকার শীতের সকালটা একটু ঘোলাটে ছিল। রাজিব নূর ট্রেনে চড়ে বগুড়া যাচ্ছিল। হাতে একটা পত্রিকা, মাথায় অন্য কিছু। ট্রেনের জানালা দিয়ে মাঠ, গ্রাম, আর ধোঁয়াটে আকাশ পেরিয়ে যাচ্ছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×