বরাবরের মতো এবারো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তথ্য প্রযুক্তি মেলা সিবিটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ব্যর্থ হয়েছে। 1999 সাল থেকে প্রতি বছর রপ্তানি উন্নয়ন বু্যরো (ইপিবি) এই খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করলেও ফলাফল শূন্যের কোঠাতেই থেকে যাচ্ছে। বেশ কয়েকজন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসায়ী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইপিবি কর্মকর্তার সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।
সিবিট 2006 প্রসঙ্গে রপ্তানি উন্নয়ন বু্যরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিভ্রানত্দিকর তথ্য প্রেরণ করে। উক্ত মেলায় ইপিবি'র আয়োজনে 9টি প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাসত্দবে ওই আয়োজনে মাত্র 3 টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় বলে জানা যায়। এদের মধ্যে মাত্র 2টি প্রতিষ্ঠান মেলায় বাংলাদেশের প্যাভেলিয়ানে নিয়মিত অবস্থান করে।
সিবিট মেলায় অংশ নেয়া ভিজু্যয়াল ম্যাজিক কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ কামরম্নজ্জামান বিডিনিউজকে বলেন, সিবিটের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ দলের একমাত্র আমিই ছিলাম স্টলে।
তিনি জানান, সুইডিশ প্রতিষ্ঠান সিপ্পো'র আমন্ত্রণে মেলায় অংশ নেয়া লিডস সফট ও দোহা ইনফোটেক উদ্বোধনী দিনের শেষ মুহুর্তে বাংলাদেশের স্টলে না আসলে দেশের মান সম্মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। এই দুটি প্রতিষ্ঠান ইপিবি'র বাংলাদেশ দলের সাথে জার্মানীতে যায় নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইপিবি কর্মকর্তা জানান, জার্মানীতে সহজে ভিসা পাওয়া যায় না। সিবিট উপলৰে সরকারের সহায়তায় ব্যবসায়ীদের সেনজিয়ান ভিসা করে দেয়া হয়। এরপর তারা সেখানে গিয়ে মেলায় সময় দেয়ার চাইতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেল ভ্রমণেই বেশি ব্যসত্দ হয়ে পড়ে।
মোট চারবার সিবিট মেলায় অংশ নেয়া ইনসফট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোয়েব চৌধুরী বিডিনিউজকে বলেন, এই মেলায় শুধু সরকারের অর্থই নষ্ট হয়। তথ্য প্রযুক্তি সংশিস্নষ্ট সংগঠন বেসিস এব্যাপারে বরাবরই উদাসীনতার পরিচয় দেয়। টিম নির্বাচনের ৰেত্রেও কোন বাছ বিচার করা হয় না। ফলে সিবিটে অংশগ্রহণ একটি ব্যর্থ ইভেন্টে পরিণত হয়।
সিবিট 2006 মেলায় অংশ নেয়নি ফরনিক্স সফট। উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মেহেদী হাসান মেলায় অংশ গ্রহণ করে অনেক টাকার কাজ পেয়েছেন বলে দাবি জানান। অনুসন্ধানে এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। ইপিবি'র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের সিবিটে অংশগ্রহনের কথা থাকলেও তারা অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তা করেনি।
একইভাবে ভিজু্যয়াল সফট লিমিটেড, আনন্দ কম্পিউটার্স, ওয়ান নেট কমিউনিকেশন লিমিটেড, ই-জেনারেশন লিমিটেড, অ্যাসটরেয়ড সিস্টেমস মেলায় অংশগ্রহনকারীদের তালিকায় থাকলেও তারা আদৌ সিবিটে যান নি।
এ প্রসঙ্গে আনন্দ কম্পিউটার্স এর স্বত্বাধিকারী মোসত্দফা জব্বার বিডিনিউজকে জানান, আমি সিবিটে অংশ নেবো না বলে সংশিস্নষ্ট সংগঠন বেসিস ও ইপিবিকে জানিয়েছি। তারপরও বিভিন্ন পত্রিকায় অংশগ্রহণকারীর তালিকায় আমার নাম দেখে অবাক হয়েছি।
মোট তিনবার সিবিট মেলায় অংশগ্রহণকারী বিডিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমন আহমেদ সাবের বিডিনিউজকে জানান, আমার জানা মতে বাংলাদেশী কোন প্রতিষ্ঠান সিবিটে অংশ নিয়ে লাভবান হয়নি। সেখানে গেলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচিত হওয়া যায়। তবে তাতে তেমন একটা কাজ পাওয়া যায় না। তবে ঘোরাঘুরির জন্য সিবিটে যাওয়া ভাল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসায়ী বিডিনিউজকে জানায়, পাশর্্ববতর্ী দেশ ভারত প্রতি বছর সিবিটে গিয়ে কোটি কোটি টাকার কাজ নিয়ে আসে। কিন্তু আমরা পরিকল্পনাহীনভাবে সেখান যাই।
তারা জানায়, সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এবং বড় ধরনের ও শক্তিশালী টিম নিয়ে সিবিটে যেতে পারে। এজন্য প্রতিবছর না গিয়ে দুই তিন বছর পর পর একবার অংশ নেয়া যেতে পারে। এর ফলে সরকারের অনর্থক অর্থও নষ্ট হবে না এবং বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী অংশগ্রহণ থাকবে আনত্দর্জাতিক এই মেলায়।
- বিডিনিউজ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



