নিউ ইয়র্ক ছেড়ে বাংলাদেশে যাওয়ার আগে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনটি পাতানো ছিলো। ৩০ সেপ্টম্বর রোববার অনুষ্ঠিত স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনটিতে গোপন তালিকার বাইরে কোন সাংবাদিককে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া হয়নি। এ সংক্রান্ত্র ‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য টকিং পয়েন্টস মিট দ্যা প্রেস, বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন’ এর একটি নমুনা কপি এখন সময়ের হাতে রয়েছে।
Click This Link
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পূর্ব নির্ধারিত একটি তালিকা থেকে কয়েক সাংবাদিককে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এসব সাংবাদিকদের প্রশ্নও ছিলো বাংলাদেশ মিশনের লেখে দেয়া। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উত্তরও ছিলো পূর্ব পরিকল্পিত।
সাংবাদিক সম্মেলনের প্রথমে মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে আব্দুল মোমেন হঠাৎ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য কয়েকজন সাংবাদিকের নাম এসেছে, তারাই শুধু প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন। তখন কয়েকজন সাংবাদিক নামের তালিকার প্রতিবাদ জানালেও ড. মোমেন তাতে কর্ণপাত করেননি। তিনি তার তালিকা থেকে ৫ জনকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিলেন। তারাও পূর্ব নির্ধারিত মিশনের সাজানো প্রশ্ন করলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেই সাজানো উত্তর দিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্নকারী ৫ জনের মধ্যে ৪ জন ছিলেন প্রবাসের সাংবাদিক, আর অন্য একজন ছিলেন ঢাকা থেকে আগত সাংবাদিক। মিশনের তালিকাতে আরো দু’জন প্রশ্ন করার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের অজুহাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনটি শেষ করতে বলেন ড. মোমেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানের কোন পত্রিকা সরকারের বিরুদ্ধে বেশি লিখে, সেই পত্রিকার সাংবাদিককে প্রশ্ন করার সুযোগ দেন। এ সুযোগে ঢাকা থেকে আগত এক সাংবাদিক জোর পূর্বক প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। পরে আরো একজন সাংবাদিক বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে আরো কথা ইচ্ছা প্রকাশ করলেও মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেন সেই সুযোগ সাংবাদিকদের থেকে বঞ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬৭ তম অধিবেশনে উপলক্ষ্যে নিউ ইয়র্ক সফরের প্রথম থেকেই ৩০ সেপ্টম্বর সাংবাদিক সম্মেলনটি নির্ধারিত ছিলো। সেই অনুযায়ী প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশী সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করার প্রস্তুতি ছিলো। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদ সম্মেলনটিতে শুধু সাংবাদিকদের প্রবেশের দাবী করে আসছিলেন সাংবাদিকরা। মিশনের প্রতিনিধি এ.কে. মোমেন সাংবাদিকদের কথা দিয়েছিলেন শুধু সাংবাদিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করবেন। এতে সাংবাদিক ছাড়া কোন দলীয় কর্মী থাকবেনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথা রাখতে পারলেননা। সংবাদ সম্মেলনটি আওয়ামী লীগের দলীয় সভাতে পরিনত হয়। সাংবাদিকদের প্রতিটি প্রশ্নে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা রিয়েকশন দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কোন প্রশ্নে উত্তরে দলীয় সভার মতো করো তালি দিয়েছে। আবার কখনো সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনে পিছন থেকে বাজে শব্দ করেছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাপ্তাহিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার ড. মোমেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংবাদ সম্মেলনটি পাতানো ছিলো। মিশন ইচ্ছা করেই সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়নি। এসময় উপস্থিত আরো কয়েকজন সাংবাদিক তার সঙ্গে ঐক্যমত প্রকাশ করেন।
সূত্র : নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সপ্তাহিক এখন সময়।
সংবাদ সম্মেলনে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম।
Click This Link
বাংলাদেশে যাওয়ার আগে নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনটি পাতানো ছিলো
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
যু্ক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাই-১

আমরা সবাই জানি ইসলাম ধর্মে, আত্মহত্যাকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সহীহ বুখারীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আমার বান্দা নিজের জীবনের ব্যাপারে আমার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তাই আমি তার ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোল্লাতন্ত্র ধর্ষণ-হত্যা ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন
বেজন্মা

হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ভালো থাকো ছোট্ট মা এই অনিরাপদ শহরে

মাঝে মাঝেই মনে হয়, পৃথিবীতে আমি যদি সত্যি কাউকে নিঃশর্ত ভালোবেসে থাকি, তবে সে আমার মেয়ে।
ওকে প্রথমবার কোলে নেয়ার দিনটার কথা আমাকে আবেগ প্রবণ করে তোলে ছোট্ট একটা উষ্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাষ্ট্র কেন রামিসাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ?

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।