somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্যান্ডির আঘাতে লন্ডভন্ড নিউ ইয়র্ক : মৃত্য ৪০ : বিদ্যুত বিহীন ৬০ লাখ মানুষ

৩১ শে অক্টোবর, ২০১২ সকাল ৮:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হ্যারিকেন স্যান্ডির আঘাতে লন্ডভন্ড হয়েছে নিউইয়র্ক নগরী। থমকে গেছে জনজীবন। এপর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যেুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১০ টা পর্যন্ত ( বাংলাদেশ বুধবার সকাল ৮ টা) নিউ ইয়র্কে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। নিউ ইয়র্কের ব্যস্ততম এলাকা ডা্উন টাউন ম্যানহাটনসহ বেশ কিছু এলাকায় ৮/১০ ফিট পানির নীচে। এখনো বিদ্যুত সরবরাহ চালু হয়নি। গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সর্বমোট ৬০ লাখ মানুষ বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নগরীর পাতাল রেলের ৭টি টানেলে পানি প্রবেশ করেছে। নিউ ইয়র্কে পাতাল রেলের ১০৮ বছরের ইতিহাসে এটি নজীরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট ওবামা নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিকে র্দুর্যোগপূর্ণ এলাকা বলে ঘোষণা করেছেন।

এদিকে হ্যারিকেন স্যান্ডি দুর্বল হয়ে পশ্চিম পেনসিলভেনিয়ায় আঘাত হেনেছে ঘন্টায় ৬৫ মাইল বেগে। এটি আরো উত্তরে সরে গিয়ে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলের দিকে কানাডা সীমান্ত্ম অতিক্রম করবে বলে ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টার জানিয়েছে। এসময় নিউইয়র্কে বাতাসের গতি ছিল ঘন্টায় ২৫ মাইল।

নিউ ইয়র্কের স্যান্ডি তান্ডব দেখে নগরবাসী হতবাক। স্যান্ডির আঘাতে নগরী থমকে দাঁড়িয়েছে। কতো গাছ পড়েছে তার সংখ্যা নিরূপণ করা হয়নি এখনো, কিন্তু বহু রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা বুঝতে পাচ্ছে যে গাছ পড়ে থাকা অথবা বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়াই রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার প্রধান কারণ।

নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আলোজ্বলমল এলাকা ম্যানহাটানের একটি বড় অংশ পানির নিচে। লোয়ার ম্যানহাটান এবং ডাউন ম্যানহাটানের অনেক রাস্তায় কোমর পানি। বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে পুরো এলাকা। কারণ পানির সাথে বিদ্যূতের সংস্পর্শে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা থাকে।

কুইন্সের রকওয়েতে মঙ্গলবার সকালে আগুন লেগে ১০০ টি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে ব্রুকলীনের নিম্নঞ্চল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রসত্ম এলাকা। দুর্যোগের ঘনঘটা শুরম্ন হওয়ার পরই তাদের অধিকাংশ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যান্য এলাকায়ও বাংলাদেশীরা নিরাপদে আছে। সকাল থেকেই জ্যামাইকা ও জ্যাকসন হা্ইটসে বাংলাদেশী মালিকানাধীন দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। তবে দোকানে খুব একটা ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কারণ নগরীর সব জায়গা থেকে এখনো লোকজন আসতে পারছে না রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে। নগর জীবন স্বাভাবিক করতে উদ্ধার কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ঘূর্ণির প্রচন্ডতায় এলোমেলো হয়ে যাওয়া নগরীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ সময় লাগবে। বিশেষত সাবওয়ে ও বাস সার্ভিস পুরোপুরি চালু না হলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে বলা যাবে না।

এদিকে ঈদ করার জন্য অনেক বাংলাদেশী নিউ ইয়র্কের বাইরে গেলেও স্যান্টির কারণে ফিরে আসতে পারছেনা। বাফেলো থেকে নঈম উদ্দিন জানান, ঈদের আগের দিন পরিবার নিয়ে নিউ ইয়র্ক থেকে বাফেলো গিয়েছিলাম। যান চলাচল বন্ধ থাকায় ফিরতে পারছিনা।

স্ট্যাটন আইল্যান্ড থেকে প্রবাসী সাংবাদিক শামসুল হক জানিয়েছেন, একদিকে সমুদ্র ঝড় স্যান্ডির আতংক অন্যদিকে ইন্টারনেট ও বিদ্যুত ছিলনা। পুরো স্ট্যাটেন আইল্যান্ডটা ছিল ভুতের নগর। ব্রীজ বন্ধ, ফেরী বন্ধ, বন্ধী ছিলাম পুরো দ্বীপবাসী। তবে আল্লার অশেষ রহমত যতটা ক্ষতির আশংকা করা হয়েছিল ততটা হয়নি।

নিউজার্সির মো. লুৎফুর রহমান রাজু জানিয়েছেন- সোমবার দুপুরেই একটি আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। বাসার সামনে পানি উঠেছে।

নিউ ইয়র্ক ব্রুকলীনের আমেনা খাতুন জানান, রাতে কিছুক্ষণ বাসার বিদ্যুত ছিলোনা। কিছুক্ষণের মধ্যে বিদ্যুত চলে আসে। রাত দুইটার পর থেকে বাসায় টেভির ক্যাবল চলছেনা।

নিউ ইয়র্কের হাসপাতাল ব্যবস্থা অত্যন্ত সুরক্ষিত বলে দাবী করা হলেও নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল সোমবার সন্ধ্যায় বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং জরুরী ভিত্তিতে রোগীদের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ম্যানহাটানে অবস্থিত বেলভিউ হাসপাতালের বেসমেন্টে পানি ঢুকে পড়ায় বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন করে রোগীদের অন্যত্র নেয়া হয়েছে।
আরীফ মুহাম্মদ (নিউ ইয়র্ক)




৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×