somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাখি পর্ব -৩ : ছোট বক

২৮ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[img|http:

জলের কিনারা ধরে পিলপিল পায়ে হাঁটতে পারে অসম্ভব দ্রুতবেগে, হাঁটার ধরন অনেকটা নাগরবাটোই পাখির মতো। প্রয়োজনে দুপায়ে ব্রেক কষতে পারে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এবং মুহূর্তেই স্ট্যাচু হতে এদের জুড়ি মেলা ভার। জল-মাটি-পরিবেশের সঙ্গে ক্যামোফেজ হতে জানে। ধ্যানী-জ্ঞানী-অধ্যবসায়ী ও ক্ষিপ্রগতির পাখি এই ছোট বকটি। দিনের আলো তেমন পছন্দ নয়, তাই ভোরে ও সন্ধ্যার আগক্ষণেও ফকফকে জোছনা রাতে চরে। দক্ষ শিকারি এরা। ঠায় দাঁড়িয়ে ঠোঁট-বল্লম চালিয়ে শিকার গাঁথতে পারদর্শী এরা, তবে শিকার যদি ফসকে-ছিটকে যা তো ঝাঁপ দিয়ে জলে পড়ে, প্রয়োজনে ডাইভ মেরে জলে নেমেই ঠোঁট-বল্লমে শিকার গেঁথে বা ধরে লাফ দিয়ে উঠে আসে ডাঙ্গায়।

[img|http:

মেয়ে ও পুরুষ পাখি দেখতে মোটামুটি একই রকম। নিরীহ-লাজুক এই পাখিটির শরীর চকচকে-ঝকঝকে। মাথার তালু ধূসর-নীলাভ-শ্লেটি। চিবুক সাদা, চোখের উপরিভাগেও সাদা টান। কপাল গাঢ় সবুজ। ঘাড় সবুজ, ডানার প্রান্ত সাদা। বুক সাদা, তার নিচ থেকে পেট ও পেটের দুপাশসহ পায়ের পালক সাদাটে ও ছাইরঙা, তাতে আবার সাদার হালকা প্রলেপ। চোখ কালো, ঠোঁট কালচে। ঘাড় থেকে নিচের দিকে নেমেছে কালচে রং। মনে হয় চুল আঁচড়েছে পরিপাটি করে।



প্রধান খাদ্য এদের মাছ, ব্যাঙ, ব্যাঙাচি, জলপোকা, জল মাকড়সা, কাঁকড়া, কেঁচো, অ্যাঞ্জন ইত্যাদি। তবে ছোট সাপ ও কাঁকড়া ধরার সময় এরা যথেষ্ট সতর্ক থাকে। সাপ ঠোঁটে প্যাঁচ দিতে পারে! কাঁকড়া তার সাঁড়াশিতে চেপে ধরতে পারে! এ রকম শিকারের ক্ষেত্রে এরা উত্তেজিত হয়, লেজ দোলায় ফোলায় ও ঘাড়ের পেছন দিকের হিন্দু পন্ডিতের টিকির মতো পালকগুচ্ছটিকে নাড়ায়। তারপর চালায় ঠোঁট-বল্লম। এ রকম ক্ষেত্রে ওরা পাও ব্যবহার করে শিকারকে কব্জা করতে। মাছরাঙার মতো শিকারকে মাটিতে আছড়ায়ও।



বাসা করে মূলত বর্ষাকালে। পছন্দ ছোট ও মাঝারি গাছ। কাঠিকুঠির বাসা। ডিম ৩-৫টি। দুজনই তা দেয়। ডিম ফোটে ২২/২৩ দিনে। না পারতে ডাকে না এরা। ডাকলে তা চাপা ঘণ্টা ধ্বনির মতো বা ঘুঙুরের শব্দের মতো লাগে।



এই পাখিটিকে খুবই কম দেখা যায়। দেশের সব অঞ্চলে নেই। বাগেরহাট, সুন্দরবন, সাতক্ষীরাসহ দেশের নির্জন চরদ্বীপ হাওরে দেখা মেলে। ঢাকা শহরে ক্বচিৎ দেখা যায়। অন্যান্য বকের মতো বঁড়শি টোপ এরা গেলে না সহজে। সহজে পাও ফেলে না ফাঁদে।





এদের ইংরেজি নাম Little heron. মাপ ৪০-৪৫ সেমি।


কৃতজ্ঞতায় : শরীফ খান

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×