somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আধুনিক বাঙালি ও ঢপের চপের কিসসা

১২ ই আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৫:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ন্যাকামোটা বাঙালির মজ্জাগত৷ বিশেষ করে একালে৷

রাস্তাঘাটে মাঝে মাঝে একটা পোস্টার নজরে আসে , 'গোপনে মদ ছাড়ান৷ ' মানে ? মানেটা খুবই সহজ৷ এমন ভাবে নেশাটা ছাড়ান যাতে কাকপক্ষিও টের না পায়৷ নিঃশব্দে , চুপিচুপি , হয়তো রাতের অন্ধকারে৷ নইলে যে বঙ্গ সমাজে ঢিঢি পড়ে যাবে৷ আর বিপিনবাবুর আত্মসম্মানের হাল 'পাওয়ার প্লে '-র সময় একটা ফুল টস বলের যা হয় , তাই হবে৷ 'গোপনে মদ ছাড়ান ' পোস্টারটা বাঙালির ন্যাকামির এক চরম উদাহরণ৷ বিপিনবাবুর মতে পৃথিবীকে যদি জানানো হয় যে , তিনি মদ ছেড়েছেন , তা হলে সবাই জেনে যাবে যে , তিনি আগে মদ খেতেন৷ তওবা ! তওবা ! এ তো হতে পারে না ! তাই কাজটা গোপনে সারাই ভালো৷ এ যেন এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে ভাজা ঢপের চপ৷ এ যুক্তি দিয়ে শুধু নিজেকেই ধাপ্পা দেওয়া যায় , বালিতে মাথা গোঁজা উটপাখির মতন৷

আগেকার দিনের বাঙালি বাবুরা যারা কোঁচানো ধুতি পরে , বেলফুলের মালা হাতে , জুড়ি গাড়ি হাঁকিয়ে বাগান বাড়ি যেতেন , তাঁদের কোনও ঢাক -ঢাক গুড়গুড় ছিল না৷ আজকের বাঙালি বীরপুরুষ নিজের ব্যাপারে বড্ড জড়তা ও সংকোচে ভোগে৷ এমনকী তার বউয়ের সম্পর্কে কথা বলতে গেলে সে ঢোঁক গিলে বলে , 'আমার মিসেস !' অনেক বাঙালি মহিলাদের মুখেও শুনেছি , 'আমার মিস্টার !' আবার 'আমার ওয়াইফ ' বা 'হাসব্যান্ড ' বলতেও শুনেছি৷ তবে নিজের মেয়ে বা ছেলেকে কখনও 'ডটার ' বা 'সন ' বলার প্রয়োজন তারা খুঁজে পায় না৷ যত কুন্ঠা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক নিয়ে৷ তাদের কাছে ইংরেজি ব্যবহার করে স্ত্রী বা স্বামীর সম্বন্ধে কথা বললে , লোকের চোখে দূরত্ব বাড়ে৷ অথচ রাতে হয়তো সেই দম্পতি একই বিছানায় শোয় ! এটা বলতে পারেন আরেক রকম ন্যাকামি৷ এটা এতই মজ্জাগত যে অনেকে জানেই না যে তারা ন্যাকামি করছে৷

আরেক রকমের বাঙালি আছে যারা রাস্তায় চলার সময় আক্ষরিক ভাবেই বউয়ের থেকে দূরত্ব রেখে , আগে আগে হাঁটে, পিছনে বউ৷ বাচ্চাদের নিয়ে৷ সে বড়ো জোর মাঝে মাঝে পিছনে তাকিয়ে দেখে যে পরিবার ঠিক -ঠাক আসছে কি না৷ প্রেম করার সময় হয়তো তারা চলত পাশাপাশি৷ আমার মনে হয় বাঙালিরা , কেউ কেউ নিজেদের ইমেজ নিয়ে বড্ড বেশি ভাবে৷ পাশের ফ্ল্যাটের মিস্টার ঘোষাল ও আরও কে কী বলল , কে কী ভাবছে , এই সব চিন্তা তাকে এতই প্রভাবিত করে যে , সে নিজেকে তার ইচ্ছামতো মেলে ধরতে পারে না৷ কিছুটা থাকে অসম্পূর্ণ৷ কিছুটা জানা , বাকিটা মুখোশের আড়ালে৷ যে বাঙালি এত পিএনপিসি -তে পারদর্শী , তারাই নিজেদের আত্মপ্রকাশ খুব রেখে ঢেকে করে , যাতে সে নিজেই পিএনপিসি -র পাত্র না হয়৷ ন্যাকামি বজায় রাখার হ্যাপাও কম নয়৷ বাঙালির স্টকে অনেক মুখোশ থাকা প্রয়োজন৷

মনে হয় ,বাঙালির নিজেকে গুটিয়ে রাখার একটা কারণ হল তার বাঙালিয়ানা৷ মানে তার ঐতিহ্য৷ যা উজ্জ্বল করে রেখেছেন বহু দিকপাল৷ বিশেষ করে রবি ঠাকুর ও সত্যজিত্ রায়৷ বুদ্ধিজীবী বাঙালি এই বিশাল ঐতিহ্যের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছে৷ রবি ঠাকুর বা সত্যজিত্ রায়কে নিয়ে তার যদি একটু ভিন্ন মতামত থাকে , তা প্রকাশ করতে সে নিমরাজি৷ কারণ রবীন্দ্রনাথ ও সত্যজিত্ দু'জনেই যাকে বলে 'হোলি কাউ '৷ এঁদের সমালোচনা বাঙালির কাছে অসাংবিধানিক ও অধার্মিক, সে যে ধর্মই হোক না কেন৷ সামাজিক চোখ রাঙানির ভয়ে বাঙালি তার ভিন্ন মতামত শুধু মুখোশের আড়ালেই ফিসফিস করে বলতে পারে৷ আমি এ রকমই এক বুদ্ধিজীবী বাঙালিকে চিনি যে মনে করে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্যানপ্যানানিতে ভরা , অথচ সে পয়লা বৈশাখে রবীন্দ্র সম্মেলনে অনায়াসে রবীন্দ্রনাথের গুণগান গায় , আর তাতে রবীন্দ্রসঙ্গীতও বাদ পড়ে না৷

এক দিন নিশ্চয়ই সে সাহসী হবে , মুখোশ ছিঁড়ে ফেলে৷ 'ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো ' নামে একটা হিন্দি সিনেমা আছে৷ একটা নতুন বাংলা ছবি হতে পারে 'ফাটলো মুখোশ বেরোল আসল বাঙালি৷ ' সব বাঙালি কি ন্যাকা ? সবাই নিশ্চয় নয়৷ 'ন্যাকা ' যুক্ত 'আমি ' সন্ধি হতে পারে কিন্ত্ত যুক্তি নয়৷ যেমন আমার এক সময়ের কলিগ রমাদাকে কেউ ন্যাকা বলবে না৷ রমাদা বললেন , 'বউকে নিয়ে মুসৌরি ঘুরে এলাম৷ ' 'আপনি আবার কবে বিয়ে করলেন ?' আমি জিজ্ঞেস করলাম৷ 'করিনি তো !' রমাদা উত্তর দিলেন৷ 'তা হলে বউ ?' আমি জিজ্ঞেস করলাম৷ মুচকি হেসে রমাদা বললেন , 'একবারও বলেছি , নিজের বউ ?'
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৫:১৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×