এটা আমার উপলব্ধি যে অনুষ্ঠান কখনই ধর্ম হয় না | ধর্মের মূল উদ্দেশ্য হলো দয়া | প্রতিকী অনুষ্ঠানে কখনই দয়া হয় না | একটা উদাহরণ দিচ্ছি | হিন্দুরা বিজয়া দশমীর দিন রাবণের কুশপুতুল জ্বালান | এটা একটা প্রতিকী উত্সব | এখানে রাবণের কুশপুতুল হলো পাপের প্রতিক আর সেই পাপ জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে | এই হলো অনুষ্ঠানটার অর্থ | এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই যে এভাবে কুশপুতুল পুড়ালে কি সত্যই পাপ বিনষ্ট হয় ? তাহলে তো এই উত্সব্তার পরে ভারতে এটলিস্ট কোনো পাপী থাকার কথা নয় | কিন্তু বাস্তবটা হলো এই যে ভারতে এই উত্সবের আগে, উত্সব্তার দিনে এবং উত্সবের পরেও অজস্র পাপী বিদ্যমান | এটাই প্রমান হয় যে অনষ্ঠানে ধর্ম হয় না | ধর্মের মূল উদ্দেশ্য অনুষ্ঠান সিদ্ধ করতে পারে না |
আরেকটা অনুষ্ঠানের কথা বলা যাক | হজ্বে মক্কায় পাথরের শয়তানদের পাথর মারা | এটাও ওই একই গল্প | ধরে নেয়া হয় যে শয়তানদের পাথর মারলে শয়তানরা পালিয়ে যায় | কিন্তু বন্ধু যদি সত্যিই তাই হত তাহলে হাজীদের অন্তরে তো শয়তান থাকা উচিত নয় | কিন্তু বাস্তবে কি তাই দেখা যায় ? বাস্তবটা বড় কঠিন আর নির্মম | সব কয়টা আতঙ্কবাদী এক একজন হাজী | সব কয়টা কসাই, এক একজন হাজী | শয়তানদের পাথর মারতে শয়তান পালায় নি বরং আরো জাঁকিয়ে বসেছে | জেনারেল জিয়া যিনি ভুট্টোকে খুন করলেন , তিনিও হাজী ছিলেন | তাহলে এই অনুষ্ঠানটা ধর্ম কি করে হলো ? এটাই প্রমান হয় যে অনষ্ঠানে ধর্ম হয় না | ধর্মের মূল উদ্দেশ্য অনুষ্ঠান সিদ্ধ করতে পারে না |
অনুষ্ঠানের আরেকটা কুদিক হলো এর ব্যয়বহুলতা | প্রচুর টাকা খরচা হয় অথচ কাঙ্খিত ফল লাভ করা যায় না | একটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান হচ্ছে কুম্ভমেলা | জলে ডুব দিলেই নাকি পাপমুক্তি | কিন্তু কুম্ভমেলার প্রাঙ্গনেই কখনো কখনো সাধুদের মধ্যে খুন খারাবি হয়ে যায় যে কে আগে চান করবে ? চান করার পরে তাহলে সাধুদের এবং মানুষদের মধ্যে পাপ থাকা উচিত নয় | কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে প্রতিটা সাধু যারা কুম্ভমেলায় চান করে তারা বড় বড় অপরাধ করে ধরা পড়ে | মহারাষ্ট্রের নাসিকে যেবার কুম্ভ মেলা হলো সেবার কন্ডমের বিক্রি খুব বেড়ে গিয়েছিল | কারণ সাধুরা বেশ্যাদের সাথে যোগসাধনা করবে | এ থেকেই বুঝা যায় যে অনুষ্ঠান সাধুদের অন্তরের পাপ কণামাত্র দূর করে নি | অথচ প্রতিটা মেলায় কোটি কোটি টাকা খরচ হয় | কি লাভ ? কার লাভ ? কে কার বিরুদ্ধে জয়লাভ করছে ?
অনুষ্ঠান হলো জগতকে ধোঁকা দেবার একটা খুব আদর্শ উপায় | লোকে মনে করে অনুষ্ঠান করলেই বুঝি বিরাট ধর্ম হলো | কিন্তু আসলে তা নয় | ধর্ম অন্তরের পরিবর্তন করে , চিন্তাধারা বদলে দেয় | অনুষ্ঠান তা কখনই করতে পারে না | এই অনুষ্ঠানই লোককে বোকা বানায় | সুতরাং সর্বতভাবে বর্জন করা উচিত |
ধর্ম সহজ সরলভাবে অনাড়ম্বর ভাবে পালন করা উচিত | পাপের কুশপুতুল না জ্বালিয়ে আসল অন্তর থেকে পাপ দূর করা উচিত | পাথরের শয়তানকে জুত না মেরে অন্তরের আসল শয়তানকে জুত মারা উচিত | তবেই ধর্মের আসল উদ্দেশ্য সাধিত হবে | তবেই আসল ধর্ম করা হবে |
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




