somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রলেতারিয়াতদের মুক্তির উপায়

২১ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মার্কস সাহেব প্রলেতারিয়েতের মুক্তির উপায় কি বলেছিলেন ?

তিনি বলেছিলেন ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ সাধনই প্রলেতারিয়েতদের মুক্তি দিতে পারে | কিভাবে ? ব্যক্তিগত সম্পত্তি সমাজের শ্রেণীবিভাগের কারণ | শ্রেণীবিভাগ প্রলেতারিয়েতদের অস্তিত্বের কারণ | অতএব মূল উপ্রে ফেল | অর্থাৎ ব্যক্তিগত সম্পত্তি না থাকলে শ্রেনীও থাকবে না | শ্রেণী না থাকলে প্রলেতারিয়াত থাকবে না | সোজা হিসেব |

এই হিসেবে চলে লেনিন রাশিয়ায় অজস্র অভিজাতদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে পথে বসিয়েছিলেন , মাও সে তুং চীনেও একই কাজ করেছিলেন | কিন্তু প্রলেতারিয়াতদের মুক্তি কি এসেছিল ?

এই অধমের মতে আসেনি | কেন ? বুঝতে গেলে সমাজের শ্রেণী ব্যবস্থাটাকে ভালো করে বুঝতে হবে | মার্কস যে শ্রেণীদের কথা বলেছিলেন তারা হলো :

১] শাসক (রাজা, অভিজাত শ্রেণী, চার্চ ইত্যাদি )
২] হস্ত শিল্পী (কুটির শিল্পী )
৩] নির্মান শিল্পী ( তাঁতি, কামার কুমোর ইত্যাদি )
৪] চাষী
৫] দাস
৬] প্রলেতারিয়াত ( ভাগ চাষী, দিনমজুর ইত্যাদি )

১ থেকে ৫ নম্বর শ্রেণীরা ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিক | কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণী অর্থাৎ প্রলেতারিয়াত হলো সম্পত্তিহীন | এইবার এদের মুক্ত করতে গেলে মার্ক্সের কথা হলো ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ করতে হবে | কিন্তু তাতে কি হবে ? তাতে ১ থেকে ৫ নম্বর শ্রেণীর সবাই প্রলেতারিয়াত হবে | কারণ প্রলেতারিয়াতের সংজ্ঞাই হলো : ব্যক্তিগত সম্পত্তিহীনতা | এতে প্রলেতারিয়াতের সংখ্যা বাড়বে বই কমবে না | কিন্তু প্রলেতারিয়াতের মুক্তি মানে হলো এই শ্রেনীর অস্তিত্ব না থাকা | সেটা এইভাবে কিকরে সম্ভব ? আগে যেখানে ৬ টা শ্রেণী ছিল , এখন সেখানে একটা বৃহত শ্রেণী আছে যার নাম প্রলেতারিয়াত |

মার্কস বলেন যে সমস্ত সম্পত্তি হবে সমাজের বা কমিউনের | সবাই হবে সব সম্পত্তির মালিক | অর্থাৎ সবই পাবলিক প্রপার্টি | কিন্তু এইরকম একটা সমাজে মার্ক্সের সংজ্ঞা অনুযায়ী সবাইই প্রলেতারিয়াত | আগে যারা ছিল সংখ্যালঘু , এখন তারা সংখ্যাগুরু | এতে প্রলেতারিয়াতদের মুক্তি তথা বিলোপ কিভাবে হলো ?

নতুন ব্যবস্থায় প্রলেতারিয়াতরা কি আগের চেয়ে ভালো থাকবে ? সামান্য ভালো থাকবে | আগে তাদের সম্পত্তি ছিল না, এখন কিছুটা আছে | তবে এখন যা আছে তাতে একজন মানুষের ভাগ খুবই কম | ফলে অবধারিতভাবে আসবে মারামারি কামড়াকামড়ি সম্পত্তি ভোগের জন্য | আগে যেটা হত অতি ক্ষুদ্র একটা শ্রেনীর মধ্যে , ফলে দেশে শান্তি বজায় থাকত , এখন সেটা হবে বৃহত একটা শ্রেনীর মধ্যে, ফলে কোনো শান্তি থাকবে না | এছাড়া শাসকশ্রেণী তো থাকবেই , কারণ শাসন ছাড়া মানুষ থাকতে পারে না | এখন গণতন্ত্রে মুষ্টিমেয় কয়েকজন হবে শাসক আর স্বৈরতন্ত্রে একজন শাসক | যেই আসুক , সে এই পাবলিক প্রপার্টির সিংহভাগ পাবে | বাকি ক্ষুদ্র সম্পত্তির জন্য বৃহত মানুষের সংগ্রাম : এই হবে কমিউনের পরিনাম |

এই অধমের একটা পরামর্শ আছে | ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিলোপের বদলে যদি প্রলেতারিয়াতদের রাজা বা শাসক শ্রেণী কিছু কিছু সম্পত্তি দান করেন , তাহলে প্রলেতারিয়াতদের বিলোপও সাধন হলো আবার সমাজের শ্রেনিও বজায় রইলো | এতে করে প্রলেতারিয়াতরা যেটুকু সম্পত্তি পেল তাতে তাদের পূর্ণ অধিকার জন্মালো | তাতে তাদের ১০০% ভাগ থাকলো | মার্ক্সের চেয়ে এটা অনেক ভালো সলিউসন | অর্থাৎ ওয়েলফেয়ার স্টেট সিস্টেম |

মার্কস এটা কেন বোঝেননি ? তাঁর সময়ে ওয়েলফেয়ার স্টেটের কোনো কনসেপ্টই ছিল না | তাই তিনি ঐরকম একটা সমাধান (?) দিয়েছেন | কিন্তু জিনিষটা একেবারে ছিল না তাও কিন্তু নয় | চার্চ অনেককে কিছু কিছু সম্পত্তি দান করত | সেটা মার্ক্সের চোখ এড়িয়ে গেছিল | আসলে তিনি বস্তুবাদী হয়ে গেছিলেন |
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৩১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি শোক সংবাদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:০৯



পেটের দায়ে সপরিবার নীলফামারি থেকে কুমিল্লা শহরে এসে,
ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মোঃ শরিফুল ইসলাম;
তিনি এখন মরহুম! স্ত্রী ও ২ কন্যা নিয়ে ছিলেন কোনোরকমে বেঁচেবর্তে।

গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুনাফেকি নাকি Diplomatic situationship?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০


গত শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×