হায়রে জীবন!
যারা বছরের পর বছর রাষ্ট্রক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে মানুষ গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পরিবার ধ্বংস করেছে, রাষ্ট্রকে ভয় ও আতঙ্কের কারখানায় পরিণত করেছে- তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন আজ “ভিআইপি আসামি”।
কারাগারেও আরাম-আয়েশ, বাসার খাবার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে কেতাদুরস্ত পোশাকে আদালতে যাতায়াত- কেউ হাসিমুখে শীশ দেয়, কেউ গানগায়- যেন বিচার নয়, বরযাত্রীদের সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা!
আর তদন্ত?
সব চাইতে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই 'তদন্ত' পর্ব!
একজন সাবেক বিচারপতি, মন্ত্রী, সচিব কিম্বা জেনারেল র্যাংকের অফিসারকে "দমে-দমে স্যার স্যার" বলা সাব-ইনস্পেক্টর/ ইনস্পেক্টর পদবীর তদন্ত কর্মকর্তার 'অধিকতর তদন্তের স্বার্থে' কদাচিৎ ফরমায়েশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় মহামান্য আদালতের নির্দেশে 'অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আসামীর সাথে বিজ্ঞ আইনজীবীর উপস্থিতিতে' জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশনা মেনে VIP আতিথিয়েতায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে জেরাফেরা কিছু নয়, সৌজন্য সাক্ষাৎ, আপ্যায়ন তারপর সম্মানের সাথে প্রত্যাবর্তন!
অথচ এই রাষ্ট্রেই হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে বিনা অভিযোগে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
প্রথমেই পিটিয়ে হাড্ডি মাংস আলাদা করে, কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ, মাস পর গ্রেফতার দেখানো, তারপর রিমান্ড নামের "অফিশিয়াল নির্যাতন"। এমনভাবে পেটানো হতো যে ফিজিক্যাল স্ট্রাকচার পর্যন্ত বদলে যেত। দুই পায়ের মানুষ হেটে নয়, হামাগুড়ি দিয়ে চলতে হতো!
আজও অনেকে সেই নির্যাতনের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে-
কেউ ৫ বছর, কেউ ১০ বছর, কেউ ১৫ বছর ধরে।
কেউ বেঁচে আছে, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনে আর কখনোই ফিরতে পারেনি, পারবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


