ফেসবুকে এক ভাই লিখেছেন, ’কোন ন্যাংটা ব্যক্তি কখনো আল্লাহর অলি হতে পারে না। এরা শয়তানের অলি।’
আমরা সবাই জানি কিয়ামতের মাঠে কারো শরীরে পোশাক দূরে থাক একটি সুতাও থাকবে না। পৃথিবীতে পোশাক পড়েছ কি পড়ো নাই এ রকম কোন প্রশ্নও সেখানে করা হবে না কারণ আমরা এখন এমন এক আধুনিক যুগে বাস করছি যেখানে দেখা যাচ্ছে অনেকে অনেক নামি-দামি পোশাক পড়েও ন্যাংটা (বিশেষ করে নারীরা)। পোশাক কিনতে অর্থের প্রয়োজন। কোরআন বলছে সেই অর্থও সেদিন কোন কাজে আসবে না,
”সেদিন তো (কারো) ধন সম্পদ কাজে আসবে না, না সন্তান-সন্ততি (কারো কাজে আসবে), অবশ্য যে আল্লাহর কাছে একটি বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে (তার কথা আলাদা)” [সুরা শুআরা, আয়াত: ৮৮-৮৯]।
সুতরাং অন্তর বিশুদ্ধ হয়েছে কিনা আমাদের আগে সেদিকে মনোনিবেশ করা উচিত। পোশাকের দিকে নয়। অন্তরের ভেতর শয়তানি রেখে বাহিরে আমি যতই পোশাকি হই না কেন কোন লাভ নেই। জোব্বা-টুপি পরা মাদ্রাসার হুজুররা কিংবা শার্ট-প্যান্ট পরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যখন অনাচারে নেমে পড়েন (ছাত্র-ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন) তখন দোষটা কি তাদের পোশাকের না অন্তরের? তাই ন্যাংটা ব্যক্তি বাদ দিয়ে আমাদের বরঞ্চ উচিত হবে ন্যাংটা ম্যাডাম এবং হালের স্মার্ট আঁটসাঁট বোরকাওয়ালীদের কীভাবে একটু শালীনতায় আনা যায় সেদিকে মনোযোগ দেয়া।
আরবী ’অলি’ শব্দের অর্থ বন্ধু যেটির বহুবচন হচ্ছে আওলিয়া। আল্লাহর অলি অর্থ আল্লাহর বন্ধু। যেনতেন কারো বন্ধু নয়। এবার একটু কোরআনে দেখা যাক সেখানে বন্ধুদের ব্যাপারে কী বলা হয়েছে। বলা হয়েছে,
”নিঃসন্দেহ আল্লাহর বন্ধুরা- তাদের উপরে কোন ভয় নেই এবং তাঁরা অনুতাপও করবে না” [সুরা ইউনুস, আয়াত: ৬২]।
’কোন ভয় নেই’, যেনতেন কথা নয়, পৃথিবীতেও কোন ভয় নেই, নেই আখেরাতেও। নিশ্চয়তা দিচ্ছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কালামে পাকে,
”সেদিন (অর্থাৎ কিয়ামতের দিন) কিছু সংখ্যক (মানুষের) চেহারা উৎফুল্ল হয়” [সুরা ক্বিয়ামত, আয়াত: ২২]।
শুধু কোরআনে নয় হাদীসেও এর সত্যায়ন আছে, ”হযরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন একটি দল রয়েছে (সত্যবাদী তথা আওলিয়া) যাদেরকে শেষ বিচারের দিন দেখে নবীগণ ও শহীদগণ ঈর্ষা করবেন। এমতাবস্থায় কেউ একজন জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রসূলুল্লাহ্ (সা.), এঁরা কারা? মহানবী (সা.) বললেন, তারা এমনই একদল মানুষ, যারা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য পরস্পরকে ভালবাসে, অর্থ কিংবা পারিবারিক বন্ধনের কারণে নয়। তাদের চেহারা সেদিন নূরে (উজ্জ্বল আলো) পরিপূর্ণ থাকবে এবং তারা নূরের আসনে বসবে। তারা সেদিন ভীত হবে না যেদিন মানুষেরা ভয়ের মধ্যে থাকবে; মানুষেরা যখন পরিতাপ করবে, তখনও তারা নিশ্চিন্ত থাকবে” [হাদীস ক্রম ৩৫২৭, অধ্যায় ৭৬, সুনান আবু দাউদ-৪র্থ খন্ড (পৃ. ১৫০), মূল: ইমাম হাফিয আবু দাউদ সুলায়মান বিন আশআস (রহ.), ইংরেজি অনুবাদ: নাসিরউদ্দিন আল খাত্তাব (কানাডা), দারুসসালাম প্রকাশনা, সৌদি আরব]।
এবার আসুন আয়াতটিকে (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৬২) বিপরীত ভাবে চিন্তুা করি। অর্থাৎ যারা আল্লাহর বন্ধু নয় তাদের উপরে ভয়ও আছে এবং তারা অনুতাপও করবে! বুঝা যাচ্ছে আয়াতটির মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর বন্ধু হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন নচেৎ সে শয়তানের বন্ধু। কারণ ভয়-অনুতাপ একমাত্র কাপুরুষ আর শয়তানরাই করে, নির্ভীকরা (তথা আল্লাহর আওলিয়ারা) নয়। এখন আমি কি ন্যাংটা ব্যক্তির চিন্তা করব না আমার চিন্তা করব? আমার মধ্যে যদি ভয় আর অনুতাপ থাকে আমি তো তবে শয়তানের বন্ধু। লোকালয় থেকে বহুদূরে গভীর কোন অরণ্যে কোন ব্যক্তির যদি আল্লাহর ভয়ে নিজের শরীরের পোশাকের দিকে খেয়াল না থাকে তাঁকে আমি কীভাবে ’শয়তানের অলি’ বলি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
