somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এমডি এআর মুবিন
ঘাপটি মেরে বসে আছে আঁধার নিকষ কালো! খুব করে চাই জ্বালো তুমি জোনাকমাখা আলো! রাত বাড়ছে, হাজার বছরের সেই পুরোনো রাত! আজো স্বচক্ষে দেখিনি স্বপ্নের সেই শান্তির হাট!!

ভোলাগঞ্জ-কোম্পানীগঞ্জ টু সিলেট এয়ারপোর্ট-বাইপাস সড়ক এবং কিছু মন্দের ভালো!

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আহ্, এই রাস্তাটা? এখন মনে হচ্ছে কাপড় থেকেও ময়দা বেরুবে! হ্যাঁ, আজ এমনই এক রাস্তার গল্প নিয়ে এসেছি আপনাদের কাছে! এই টেরাটাক্কা রাস্তার কাজ নাকি এই জানুয়ারিতেই শুরু হবে! কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তো, আমাদের বাঙ্গালিদের দোষটাই এমন যে- সবকিছু নিয়ে আমরা প্রথমে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা শুরু করে দেই! তো চলুন আজ এসব কিছু ঝেড়ে ফেলে ভোল পাল্টে অন্তত এই রাস্তাটা নিয়ে কিছু ইতিবাচক চিন্তা করি...
১/ বলছিলাম ময়দার কথা! পরে ভেবে দেখলাম, এই রাস্তার ধারে জমানো ধূলোর স্তুপগুলো হলুদ হিসেবেও বেশ মানিয়ে যায়! তো এই মহামূল্যবান প্রাকৃতিক "হলুদ সমগ্র" প্যাকেটজাত করে অনায়াসেই বিশ্বের বিভিন্ন জনবহুল দেশে রপ্তানি করা সম্ভব! এতে করে যেমন একদিকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার হাতছানি পাওয়া যাবে অন্যদিকে বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে! যার কৃতিত্ব পাবে বাংলাদেশ, পাবে এই প্রাকৃতিক "হলুদ সমগ্র"!
২/ এই ভাঙ্গাচোরা ও ধূলোবালিপূর্ণ রাস্তাটাই হতে পারে আমাদের ঐতিহ্যবাহী এফডিসির একটি নতুন শাখা! তাতে আমাদের বাংলা ছবিগুলো নতুনত্ব পাবে! আজকাল অনেক ছবিতেই দেখা যায়- নায়ক নায়িকাকে নিয়ে পালাচ্ছে! তাদের পিছু ধাওয়া করছে ভিলেন, সে কি দুর্গম পথ বাপরে! নায়ক নায়িকা সমেত উতরে গেলো ঠিকই কিন্তু ভিলেন বেচারার দলবল বোঝাই গাড়িটা সেই দুর্গম রাস্তায় উল্টে চিপড়ে ঘূর্ণি খেতে খেতে একাকার! এখন যদি ছবির পরিচালক তার এই ধরণের ছবির শর্টগুলো ধারণ করার জন্য এই রাস্তাটিকে বেছে নেন তাহলে আরো কিছু নতুন সুবিধে পাবেন! যেমন-
ক/ অপ্রতিরোধ্য ধূলোবালি! যা তখন এ্যানিমেশন হিসেবে কাজ করবে। তাতে বাড়তি এ্যানিমেশন ইফেক্ট ব্যাবহার করার প্রয়োজন পড়বে না! খরচ বাঁচবে!
খ/ এই রাস্তার ভাঙ্গাচোরা খানাখন্দগুলো উদ্দেশ্যহীন ভাবেই সৃষ্ট! একদমই প্রাকৃতিক! কাজেই নায়ক-ভিলেনের এই ইদুর বিড়াল রেসটি দর্শক মন জয় করবে বলেই আমার বিশ্বাস!
গ/ শুটিং প্লেস হিসেবেও এই রাস্তাটা নতুন, কারণ আগে এই রাস্তাতে কোনো ছবির শুটিং হয়নি! ফলে চমকের পরে চমক তো থাকছেই!
৩/ আপনারা সবাই নিশ্চয়ই ঝালমুড়ি খেতে খুব পছন্দ করেন? কিন্তু সত্যি কথা হলো- সব ঝালমুড়িওয়ালারা ঝালমুড়ির উপাদানগুলো ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে মিক্স করতে পারে না! তাতে অনেকেই ঝালমুড়ির আসল স্বাদ থেকে বঞ্চিত থেকে যান! তাতে অবশ্য ঝালমুড়িওয়ালদের কোনো দোষ দেওয়া যায় না! কারণ তারাও সারাদিন এই ঝালমুড়ির ডিব্বা থাপড়াতে থাপড়াতে হাত দুটোকে ক্লান্ত করে ফেলেন! আমি এর একটা সলুশ্যন বের করেছি!
একটা ট্রাকের উপর বিরাট একটা ঝালমুড়ির ডিব্বা ফিটিং করে তাতে ঝালমুড়ির সব উপাদান ভরে এই ট্রাকটাকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে এয়ারপোর্ট-বাইপাস পয়েন্টের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে! রাস্তায় ঝাঁকি খেতে খেতে যখন ট্রাকটি বাইপাস এসে থামবে ততক্ষণে বোধহয় ঝালমুড়ির ডিব্বার ভেতরের সব উপাদান তালগোল পাঁকিয়ে এক জটিল ঝালমুড়িতে রূপ নেবে!( আমার তো জিভে এখনই পানি এসে যাচ্ছে!) তারপর এই ঝালমুড়ি নামমাত্র মূল্যে জনসাধারণের কাছে বিলি করা হবে! বিনোদন আর মজা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে! আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয়, যিনি ব্যাপক বিনোদনের জন্যে সুরমাগাঙ্গে ভাসমান বিনোদনের ডিব্বা চালু করেছেন উনার কাছে এই ঝালমুড়ির প্রজেক্ট চালু করা কোনো ব্যাপারই না!!
_____________________
পরিশেষে,,,,, এই কথাটাই বলতে চাই-
আমাদেরকেও একটু সুযোগ দেওয়া হোক যাতে করে অন্যেরা যখন প্রশ্ন করবে-
"তোমার জামা থেকে এরকম পাউডার? তুমি না ওই রাস্তা দিয়েই আসো?" তখন যেন বুক ফুঁলিয়ে বলতে পারি- "আমি ওই রাস্তা দিয়েই আসি না! আমি ওখানেই থাকি!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×