somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু কথা এলোমেলো

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার প্রথম লেখাটা ভূতেরগল্প দিয়ে শুরু করি। সময়টা ছিল আশিরদশকের দিকে,আমরা পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিনরোডে থাকতাম।একান্নবর্তীপরিবার ছিল আমাদের।বাবা,চাচা,ফুফু,দাদি,চাচাতভাইবোনরাও ছিল।আমাদের বাসায় দেশের বাড়ি থেকে একটি কাজেরমেয়ে আসলো।মেয়েটি দেখতে কালো, শান্তশিষ্ট,চোখগুলো বড় বড় মায়াকাড়া চেহারা।বাবা,ভাইবোন নেই।মা আছে কিন্তু কথা বলতে পারেনা।নদীভাঙ্গার কারনে ভিটাবাড়ি সব নদীরবুকে বিলীন হয়েগেছে।মা মেয়ে দুজনেই গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে নিজেদের পেট চালায়।তবে মা মেয়েকে কেউ একসাথে রাখতে চায়না।মেয়েটির নাম ছিল শ্যামলি।শেমলিরমা মেয়েকে গ্রামের অন্যান্য বাড়িতে রাখার জন্য চেষ্টা করলো কিন্ত কেউ রাখতে চেইলোনা।বাধ্য হয়ে শ্যামলীর মা শ্যামলীকে অন্যগ্রামে রাখার চেষ্টা করল,কিন্তু কিছুদিন থাকার পরে শ্যামলী আবার মায়ের কাছে ফেরত আসলো।এরপর শ্যামলীকে তার মা ঢাকায় পাঠিয়ে দিলো।আমাদের বাসায় শ্যামলী এভাবেই আসলো।যাই হোক ঘটনায় আসা যাক। একদিন বিকেলে আমার বড়চাচা শ্যামলীকে বলল চা বানাতে। শ্যামলী চা বানাতে চলে গেল রান্নাঘরে। কিন্ত এরপর শ্যামলীকে আর খুজে পাওয়া গেলো না। সন্ধাবেলা যখন খোজ পরল তখন প্রথমে সবাই ভাবল পালিয়ে গেছে।কারন বাড়ি থেকে আসার পর কিছুদিন থাকার পরথেকেই শ্যামলী বাড়ি যাবার কথা বলছিল। আমার ছোটচাচি বললেন,এইতো আসলি,কিছুদিন থাক, তারপর বাড়ি যাস।কিন্ত ও বলত,আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন,তা নাহলে আপনাদের ক্ষতি হবে। কিন্ত ব্যপারটিকে কেউ তেমন একটা গুরুত্ব দিলনা।সন্ধারপরে আমার তিনচাচা বের হলেন শ্যামলীকে খুঁজতে।পুরান ঢাকার অলিগলি, ঢাকা মেডিক্যাল এলাকা,সদরঘাট তন্নতন্ন করে খোঁজাখুঁজি করা হল।কিন্ত কোথাও শ্যামলীকে পাওয়া গেলনা।রাত দশটা এগারটার দিকে সবাই বাসায় ফিরল।সবাই ক্লান্ত,চিন্তিত।সবাই মিলে অর কথা আলোচনা করতে করতে একসময় যে যার ঘরে শুতে গেল।কিন্ত কারো তেমন একটা ঘুম আসছিল না।অবশ্য ঘুম না আসার আর একটি কারণ ছিল, তা হল প্রচণ্ড গরম । আমরা যে বাড়িটায় থাকতাম সেটা ছিল একটু ব্যতিক্রম,পিছন দিকটায় অনেকখানি খোলা যায়গা ছিল,গ্রামের বাড়িতে যেমন উঠোন থাকে তেমন।বাউন্ডারি ওয়ালটা ছিল অনেক উঁচু।ওয়ালের সাথেই ছিল একটা আমগাছ,একটা জাম গাছ,এবং একটা বেল গাছ,আর বাড়িটা ছিল একতালা পুরানটাইপের।বাড়িটার সদর দরজা দিয়ে ঢুকলে প্রথমে দুটো রুম,এরপর গোসলখানা,সাপ্লাইর কোন ব্যবস্হা ছিলনা।গোসলখানার দুইটা দরজা ছিল।একটা ভেতরের দিকে অপরটি উঠোনের দিকে।উঠোন ঘুরে বাড়িওয়ালার বাসা থেকে পানি আনতে হত।আর টয়লেটটা ছিল উঠোনের অন্যপাশে।খানিকটা পথ হেটে যেতে হত।ছোটচাচা তখন নতুন বিয়ে করেছেন,তার ঘরে যেতে হলে গোসলখানার দরজা পেরিয়ে উঠোন ঘুরে যেতে হত।যাইহোক, সে রাতের ঘটনায় ফিরে যাই, অনেকরাতে ছোটচাচি,একটা চিৎকার শুনতে পেলেন,প্রথমে ভাবলেন,হয়ত বস্তির বাচ্চারা কাঁদছে, কিছুক্ষণ পরে আবারো সুনলেন,এবার তিনি খুব খেয়াল করে অপেক্ষা করতে লাগলেন,তার কাছে মনে হল যেন,শ্যামলীর গলার আওয়াজ । এবার তিনি ছোটচাচাকে ডেকে তুললেন,আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর তারা নিশ্চিন্ত হল যে এটা শ্যামলীর গলারই আওয়াজ।তারা উঠে উঠোনে চলে এল,কিন্ত কাউকে দেক্তে পেলনা।তারা আরও কিছুক্ষণ সেখানে হাঁটাহাঁটি করল কিন্ত কিছুই দেকতে পেলনা।ঘরে গিয়ে তারা শুয়ে পড়লো। নিজেদের মধ্যে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করতে লাগল। কি হতে পারে ব্যাপারটা! হঠাৎ আবার চিৎকার,এবার আর কোন সন্দেহ নেই,এটা শ্যামলীরই গলা।এবার আর একা নয় বাড়ির সবাইকে ডেকে তুলল।সবাই উঠোনে চলে আসল।গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে কিন্ত মানুষ দেখা যাচ্ছে না। এরপর আশেপাশের লোকজনদের ডেকে তোলা হল, এবং লাঠিসোটা নিয়ে আমগাছের নিচে গিয়ে সবাই খোঁজাখুঁজি করতে লাগল। আবার অনেকক্ষণ কোন আওয়াজ নেই। কিছুক্ষণ পর আবার বাঁচাও, বাঁচাও, বলে চিৎকার।সবাই আশ্চর্য হয়ে গাছের উপরে তাকাল, অন্ধকারে বোঝা যাচ্ছেনা,তারপরেও যেন কি একটা রয়েছে সেখানে।একজন দৌেড় গিয়ে একটা টর্চ লাইট নিয়ে এল।গাছের ওপর আলো ফেলতেই দেখা গেলো শ্যামলী সেখানে একটি চিকনডালের উপর শুয়ে আছে।এবং এখান থেকেই সে বারবার চিৎকার করছে।সবার চোখ তো ছানাবড়া।আমার মেজচাচা গেলেন গাছে উঠতে কিন্ত শ্যামলী এমনভাবে গাছ ঝাকাতে লাগলো যে,গাছে চড়া সম্ভবই নয়।পাশের বাড়ির একভদ্রলোক এসেছিলেন,তিনি জোড়ে জোড়ে দোয়াদরূদ পড়তে লাগলেন।কিছুক্ষণ এভাবে চলল,গাছের ঝাকুনি অনেকটা কমলো।তারপর তিন চার জন মিলে গাছে উঠে শ্যামলীকে নামানো হল।ঘরে এনে শ্যামলীকে শোয়ানো হলো।এরকিছুক্ষণ পরেই শ্যামলী চোখ খুলে তাকাল, এবং উঠে বসল।বড়চাচা বললেন,কীরে গাছে উঠে কি করছিলি? কেউ বলল,পালাবার মতলব তাইনা? আবার কেউ বলল,ইচ্ছা করে নাটক সাজাচ্ছে, সবাইকে ঝামেলা দেয়ার জন্য।সবার কথাবার্তা শুনে শ্যামলী এবার কাঁদতে শুরু করল।এবং সে যা বলল,তা শুনে সবাই ভয় পেয়ে গেল।শ্যামলী বলল,ওর সাথে নাকি সাতটি জীন আছে,তারা মাঝে মাঝে এসে ওকে খুব বিরক্ত করে।প্রতি শনিবার ওদেরকে সিন্নি দিতে বলে,না দিলেই ওর উপর অত্যাচার করে।কেউ একজন বলে উঠল,তা সিন্নি রান্না করে দিবি, শ্যামলী বলল,আমরা গরিবমানুষ, থাকি মানুষের বাড়িতে, আমাদের পক্ষে কি প্রতি সপ্তাহে সিন্নি রান্না করে দেয়া সম্ভব?এত দুধচিনি কোথায় পাবো?বড়চাচা বললেন,ঠিক আছে আমরাই একদিন সিন্নি রান্না করে দেব।তাহলে তো আর তোকে বিরক্ত করবেনা?শ্যামলী ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রয়েছে,কোন কথা বলছে না।বড়চাচা আবার বল্লেন,কিরে কথা বলছিস না কেন? আমি তো সমস্যার সমাধান করে দিলাম।এখন তুই তোর জীনেদের সাথে কথা বলে দেখ, তারা রাজি আছে কিনা, আস্তে আস্তে ব্যাপারটা সবাই হাসি মজার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। রাতদুপুরে ঘুম ভাঙ্গিয়ে এই নাটকের মধ্যে এসে অনেকেই খুব বিরক্তবোধ করছে।কেউ কেউ বিশাল বিশাল হাই তুলছে, কেউ ঝিমুছে।অতি উৎশাহী কিছুলোক শ্যামলীকে নিয়ে ঠাট্টা করছে ,উল্টা পাল্টা প্রশ্ন করছে।যেমন, জীনেরা দেখতে কেমন,কি খায়, গায়ের রং কি,বয়স কেমন ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্ত শ্যামলী বেশী একটা কথা বলল না।চুপ হয়ে রইল বেশীটা সময়।অতি উৎসাহী লোকদের মধ্যে বড়চাচার সেঝছেলে কামরান বেশী বিরক্ত করল শ্যামলীকে।বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন করে খুব মজা করছে,আর সবাই তাই নিয়ে হাসাহাসি করছে।শ্যামলী এবার বলল আমার খুব শীত শীত লাগছে ,তা নিয়েও হাসাহাসি,এক সময় শ্যামলী শুয়ে পরল।কিন্ত ভিড়ের মধ্য থেকে একজন এসে শ্যামলীর হাত ধরে টেনে বসাল বলল,নাটক তো ভালই সাজাইছ,এখন আমাগো কষ্ট দিয়া নিজে ঘুমাবা? তা হবে না।এরপর সবাই শ্যামলীকে বিরক্ত করতে লাগল।হঠাৎ শ্যামলী ধাম করে শুয়ে পরল।সবাই ভাবল,ও ভান করছে।কামরান লাঠি দিয়ে শ্যামলীকে খোঁচাখুঁচি করতে লাগল।গ্লাসে করে পানি এনে ওর গায়ে ঢেলে দিলো। কিছুক্ষণ পর শ্যামলী নিজহাতে তাঁর বুকের উপর মারতে শুরু করল।সেকি প্রচণ্ড মার! এভাবে কিছুক্ষণ চলল।সবাই মজা পেয়ে বেশ হাসা হাসি করতে লাগল।বড় চাচার ব্যাপারটা ভাল লাগল না তাই তিনি গেলেন শ্যামলীকে থামাতে,কিন্ত থামাতে পারলেন না বরং শ্যামলী তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল।তাই দেখে ছোট চাচা রেগে গেলেন এবং বললেন, অনেক হইছে ,আর না এসব জীন টিন সব নাটক, ধরে মার লাগালে সব ঠিক হয়ে যাবে। কথাটা শেষ হতে পারল না,শ্যামলী দু পা ভাঁজ করে ঠেলে ঠেলে ছোট চাচার দিকে তেড়ে গেল। ছোট চাচা লাফ দিয়ে খাটের উপর উঠে গেলেন।কামড়ান আবারও লাঠি দিয়ে খোঁচা দিল,এবার যেন পাগলা হাতি ক্ষেপে উঠল,দু হাত বুকের উপর রেখে পা ঠেলে ঠেলে কামড়ানের দিকে এতদ্রুত ছুটে গেল,যে কামড়ানকে দৌড়ে সেখান থেকে পালাতে হল।ভীর ভেঙ্গে গেল, যে যেদিকে পারল পালাল।এবার ব্যাপারটাকে সবাই সিরিয়াসভাবে নিল। যে লোকটি দোয়া দরূদ পরছিল তার নাম মিজান তিনি আবার দোয়া দরূদ পড়া শুরু করলেন।শ্যামলী এভাবে দৌড়াদৌড়ি করার পর এক সময় থামল কিন্ত গোঙ্রাতে লাগল। মিজান সাহেব দোয়া পরতে পরতে শ্যামলীর কাছে গিয়ে বসল।উনি জিজ্ঞাসা করলেন,কিরে শ্যামলী তুই এমন করছিস কেন? কোন উত্তর নেই,আবার প্রশ্ন করলেন,কিরে তুই বেয়াদবি করলি কেন? তারও কোন জবাব দিল না।এবার মিজান শাহেব সাহস করে বললেন,সত্যি করে বলত,তুই এসব কি শুরু করেছিস? শ্যামলী কথা বলে উঠল,কিন্ত এটা তো শ্যামলীর গলা নয়! এ গলা তো পুরুষ কণ্ঠের।আমার নাম শ্যামলী নয়,সবাই আমরা ভয় পেয়ে গেলাম,এসব কি হচ্ছে! মিজান সাহেব আবার প্রশ্ন করলেন, তুমি শ্যামলী নও তবে কে তুই? কোন জবাব এল না, শুরু হল আবার মার।অস্বাভাবিক সে মার, মনে হচ্ছিল যেন শ্যামলীর বুকের পাঁজরের হারগুলো ভেঙ্গে গুরিয়ে যাবে।বড় চাচা চিৎকার করে উঠলেন,বললেন,এই শ্যামলী এমন করছিস কেন, আমাকে বল,কি লাগবে আমি দেব।আবার সেই পুরুষ কণ্ঠের আওয়াজ, "বলেছি না,আমি শ্যামলী নই",তবে তুমি কে তাই তো আমরা জানতে চাই। আবার উত্তর এল,"আমি একা নই,আমরা সাতজন!মিজান সাহেব ব্ললেন,কই আমরা ত দেখতে পাচ্ছি না, আমাদের সামনে আসো,আবার নিরবতা,মিজান সাহেব আবারও বললেন,আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না তোমাদের কথা,আমাদের সামনে এস না হয় প্রমাণ দেখাও,তোমরা কারা? এবার উত্তর এল, এসবের আমাদের কোন দরকার নেই,আমরা শুধু ওকে নিয়ে যেতে চাই,কারন,ও ওর কথা রাখেনি,আমাদের সাথে বেঈমানি করেছে।পুরুষ কণ্ঠের ভারি আওয়াজে কথাগুলো হচ্ছে একটা বাচ্চা মেয়ের মুখ থেকে।মিজান শাহেব বললেন,কি কথা আমরা একটু জানতে পারি!"প্রতি সপ্তাহে সিন্নি দেয়ার কথা! ওকে অনেক শাস্তি পেতে হবে,"বলে আবার মার শুরু করল।মিজান শাহেবের সাহস কিছুটা বেড়েছে,এবার তিনি ধমকের সুরে কথা বলে উঠলেন,বললেন,থাম! বাচ্চা মেয়েটাকে কেন মারছ?ও কিভাবে তোমাদের কথা রাখবে,এতিম ছোট বাচ্চা একটা মেয়ে,গরিব মানুষ, ও কেমন করে তোমাদের কথা রাখবে ?আবার পুরুষ কন্ঠের আওয়াজ এল,"অত সত জানি না,কথা দিলে রাখতে হয়,না রাখলে শাস্তি! এটাই আমাদের নিয়ম।"মিজান সাহেব বল্লেন, আচ্ছা কবে তোমাদের সিন্নির দিন বল,আমরা দিয়ে দেব।"না,তা হবে না! যারটা তাকেই দিতে হবে।"জবাব দিল পুরুষ কণ্ঠটা!মিজান সাহেব আরকিছু বলতে যাচিলেন কিন্ত শ্যামলী হঠাৎ উঠে বসল,এবং হাউ মাউ করে কেঁদে উঠল বলল,আমার বুকটা ব্যাথায় ভেঙ্গে যাচ্ছে ,একটু পরে ও বমি করে দিল।মেয়েরা কেউ ভয়ে কাছে গেল না।মিজান সাহেব ওকে ধরে মাথায় পানি ঢেলে দিলেন,পানি এনে খেতে দিলেন।সন্ধা থেকে রাত পর্যন্ত ওর সাথে কি ঘটেছিল তা আমরা কেউ জানি না। শ্যামলী কিছুটা সুস্থ হলে মিজান সাহেব ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা করে যা জানতে পারল তা হল, চায়ের পানি চুলায় দিয়ে শ্যামলী যখন উঠোনে গিয়ে দাঁড়াল,তখন ওর গায়ে একটা বাতাস এসে লাগল,এবং ওর ঘুম পেতে লাগল।যেন দাড়াতেই পারছে না, পড়ে যাবে এমন অবস্থা!এরপর ওর আর কিছু মনে নেই।যখন হুস হল,দেখল ও এক বাড়ির ছাদে পরে আছে।কিন্ত চোখে এত ঘুম যে উঠে দাঁড়াবার শক্তি নেই, এবং সে আবারও ঘুমিয়ে পরল। এরপর যখন আবার ঘুম ভাঙ্গল তখন দেখল সে গাছের উপরে শুয়ে আছে একটা চিকন ডালের উপরে।তখন ও ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠেছিল।যে চিৎকার শুনেছিল ছোট চাচী।এরপরেরটুকু ত আমরা জানি।শ্যামলীর কথা শুনতে শুনতে প্রায় ভোররাত হোয়ে গেল।বাকি রাতটুকু আমরা জেগেই কাটালাম।পরেরদিন সকালে বড়চাচা বল্লেন,এমেয়েকে আর রাখা যাবে না। যত তারাতারি সম্ভব একে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্হা করা হোক।এরপরেও কিছুদিন শ্যামলী আমাদের বাসায় ছিল।কারন কেউ তাকে নিয়ে যেতে চাইছিল না।হঠাৎ হঠাৎ শ্যামলী ফিট হয়ে যেত আর অদ্ভুত অদ্ভুত কাণ্ড ঘটাত।ওইভাবে শুয়ে শুয়ে দৌড়াত আর কোথাও যেন চলে যেতে চাইত।একদিন বড় চাচা নিজে সদরঘাট গিয়ে ওকে লঞ্চে তুলে দিয়ে আসলেন। যাবার সময় শ্যামলী বড় চাচাকে বলেছিল যে,সিন্নি দেবার ব্যাবস্থা করলে হয়ত ও ,ওদের কবল থেকে রক্ষা পেত। বড় চাচা আর কিছু বললেন না,মন খারাপ করে বাসায় চলে আসল।এই ছিল আমার দেখা একটি সত্যি ভূতের ঘটনা। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:২৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গাছ না থাকলে আপনিও টিকবেন না

লিখেছেন অপু তানভীর, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:২০

আমাদের বাড়ির ঠিক সামনেই একটা বড় কৃষ্ণচুড়া গাছ ছিল । বিশাল বড় সেই গাছ আমাদের বাড়ির ছাদের অর্ধেকটাই ছায়া দিয়ে রাখত । আর বাড়ির পেছনের দিকে ছিল একটা বড় বাঁশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাছ চাষে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব ও মাছ চাষীর করণীয়

লিখেছেন সুদীপ কুমার, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৫:৫৩


পৃথিবীর উষ্ণায়ন প্রকৃতি এবং আমাদের জীবন যাত্রার উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে।আমরা যদি স্বাদুপানির মাছ চাষীর দিকে লক্ষ্য করি তবে দেখবো তাদের মাছ উৎপাদন তাপদাহ প্রবাহের ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা'র উপর আপডেট দেবেন কেউ।

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:০১






এই বছরের ২১ শে ফেব্রুয়ারী, ব্লগার সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা'র পোষ্ট পড়ে খুবই ভালো লেগেছিলো; আমরা জানি যে, তিনি শারীরিক অসুস্হতাকে কাটিয়ে উঠার প্রসেসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন; তাঁর দৃঢ় মনোবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ার আলেমগণের সর্ববৃহৎ দল সারা বিশ্বের মুসলিমদের অনুসরনীয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১২:২৩



সূরাঃ ২৯ আনকাবুত, ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৯। যারা আমাদের উদ্দেশ্যে জিহাদ করে আমরা অবশ্যই তাদেরকে আমাদের পথে পরিচালিত করব। আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়নদের সঙ্গে থাকেন।

সহিহ সুনানে নাসাঈ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহান আল্লাহর সৃষ্ট মানব হিসাবে আত্মপলব্দি। লেখাটি সকল ধর্মাবলম্বী এবং ধর্মে অবিশ্বাসিদের জন্যও উন্মোক্ত

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৪ ভোর ৫:২১


১ম অধ্যায়ঃ সকল মানবের আত্মপলব্দি জাগরণে জীবন্ত মুজিযা আল কোরআনের মোহিনী শক্তি

বিসমিল্লাহহির রাহমানির রাহিম । শুরু করছি পরম করুনাময় আল্লাহর নামে ।

প্রথমেই শোকর গুজার করছি আল্লাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×