somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বরেরও পূঁজি লাগে, কৃষকের লাগে না!

১৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বৃহৎ পুঁজির বিরুদ্ধে লড়াই করতে বৃহত্তর পুঁজি দরকার আর সেটা আমাদের প্রান্তিক জনগণেরই আছে যার লোভে আর লাভে টিকে আছে বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থা! কৃত্রিম 'অভাব' আর সাময়িক লাভের লোভই পুঁজিবাদের টিকে থাকার শক্তি দেয়। আমরা যতটা না বাস্তবে অভাবী তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক ভাবে অভাবী আর এটা পুঁজিবাদের সচেতন কন্ডিশনিং। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে ঐ দাতাদের ভাতা যোগাতে গিয়েই কৃষক আজ অভাবী। ঐ ত্রাতাদের চাপা থেকে বেরুতে পারলেই কৃষক হবে ঈশ্বরের মত স্বাধীন ও সূখী। অথচ কেবলমাত্র হিসাবে গোঁজামিল দিয়ে ধোঁকা দিয়ে কৃষকের সম্পদ চুষে নেয় পুঁজি।

বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনে প্রত্যেক বছর সরকার ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে বিশাল পুঁজি সরবরাহ করে, যে সুবাদে মাঝে মাঝেই গভর্নর মশাই এর স্মীত হাস্য দর্শনের সুযোগ হয় আর আমারা কৃষক ও কৃষকের সন্তানেরা তাদের অবতার ভেবে নিশিদিন পূজা আর ভোগ দেই। তাদের এই দয়া না থাকলে কৃষক যে এতদিনে মরে ভূত হয়ে যেত সেটা ইনিয়ে বিনিয়ে ধমকিয়ে চারবেলা মনে করিয়ে দেওয়া হয় যাতে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকি।
এবার আসুন একটা উল্টো হিসাব করি!
প্রত্যেক বছর সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় দেশে আবাদযোগ্গ ও আবাদকৃত সকল ফসলের একর প্রতি উৎপাদন ব্যায় নির্ধারন করে যা মোটামুটি বাস্তবসম্মত আর বিভিন্ন উৎস থেকে হিসেবে করা হয় প্রত্যেক বছর দেশে কি পরিমান জমিতে কি ফসল চাষ করা হয়। এই তথ্যগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক সহ অনেক যায়গাতে পাওয়া যাবে। এবার ঐকিক নিয়মে বের করুন দেশে শস্য উৎপাদনে মোট কত পুঁজি জড়িত আর কত অংশ কে সরবরাহ করে। কৃষক নিজ দায়িত্বে কৃষি উৎপাদনে পূঁজি বিনিয়োগ না করলে এতে যে মহাবিশাল পুঁজি লাগে তা আমাদের রার্ষ্ট্র ব্যবস্থার সরবরাহের সক্ষমতাই নাই! সরকার, দাতা, ত্রাতা সবাই মিলেও পাঁচ দশ ভাগের বেশী পূঁজি সরবরাহ করে না কিন্তু এই উৎপাদনের উপর ভর করে টিকে আছে আমাদের সমগ্র অর্থনীতি।

পুঁজির মোকাবেলা পুঁজি দিয়েই করতে হবে এবং তা অবশ্যই সম্ভব।আপনি হয়তো বিশ্বাস করতে চাইবেন না তাই হিসাবটা নিজেই করে দেখুন বাংলাদেশে যে কোন বছরে শস্য উৎপাদনে জড়িত পুঁজি ঐ বছরের জাতীয় বাজেটে জড়িত মোট পুঁজির চেয়েও বেশী !!! কৃষকের ব্যালান্স সীট স্বয়ং রাষ্ট্রের চেয়ে বড় আর বাংলা মায়ের আছে বিশ্বের উর্বরতম জরায়ু, বাংলার কৃষক গরীব হবে কেন !? বাংলার কৃষকের অবস্থান হওয়া উচিত ঈশ্বর ও মানুষের মাঝামাঝি কারণ তারা ধরনীর ঈশ্বর!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৩৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×