পাকিস্তানে পাঞ্জাব প্রদেশে অভিভাবকের অসম্মতিতে পালিয়ে বিয়ে করার জন্য দম্পতির দুইজনেকেই প্রকাশে শিরচশ্ছেদ করা হয়েছে।ওদের অপরাধ ছিল পরিবারের অসম্মতিতে বিয়ে করা।এতে পরিবারের নাকি সম্মান নষ্ট হয়েছে!তাই এই শাস্তি মানে দুইজন জলজ্যান্ত মানুষকে প্রকাশে দিবালোকে জবাই করা!!এসময় সবাই জবাই করা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেও কেও সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি এই দম্পতিকে।কি পড়ে শরীর শিউরে উঠল? ওদের জন্য মনের ভিতর বেদনা জাগল?
এবার আসি আসল কথায়, এতক্ষণ একটা অসভ্য,বর্বর দেশের কথা বললাম।এধরনের বর্বরতা ওদের রক্তের সাথে মিশে আছে।সারা বিশ্বে ওরা একটা জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে সুখ্যাত।মানবিক দৃষ্টি দিয়ে দেখলে মনে একটা কষ্ট জাগে ওই নবদম্পতির জন্য কিন্তু ওদের বর্বরতা সম্বন্ধে জানি বলেই অবাক হইনা বা কষ্টটা হারিয়ে যায়।
তখন মনের ভিতর চলে আসে নিজের দেশের কথা, ভয় চলে আসে মনের মাঝে এই ভেবে যে আমরা কোন পথে হাঁটছি।আমরা কি এর থেকে খুব বেশি ভাল অবস্থায় আছি?বিয়েতে সম্মতি নেই বলে আমরা ছেলেকে পুলিশ দিয়ে জেলে দেই,মেয়েকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে যাই ক্রমাগত,যেটা কখনো কখনো ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।আমার জানাশুনার মধ্যেই এরকম অনেক আছেন!
আর সবচেয়ে ভয়ংকর যেটা হচ্ছে:আমাদের দেশে যারা নারীকে তেঁতুল এর সাথে তুলনা করে,বলে মেয়েদের ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়লেই হল ওদের এত পড়াশুনার দরকার কি,বলে মেয়েদের জন্মই হয়েছে পুরুষের মনোরঞ্জন করা আর রান্নাবান্না করার জন্য সেই ওদেরই আমরা আদর করে লালন পালন করি।৩২ কোটি বা তার চেয়ে বেশি দামের জায়গা দান করি যাতে ওরা আরও সেই একই মানসিকতার অসংখ্য মানুষ সৃষ্টি করতে পারে ভবিষ্যতে!
অপর দিকে যারা মানুষের জন্য কাজ করে,মানবতার জন্য কাজ করে সেই শাহবাগ ভেঙ্গে দেই পুলিশ দিয়ে!
ছবির হাট ভেঙ্গে দেই অবৈধ জায়গা বলে!
সেই আদিম যুগে নিজের দেশকে নিয়ে যাওয়ার সব রকমের চেষ্টাই করে যাচ্ছি আমরা।একটু কিছু হলেই আজ আমাদের ধর্ম অনুভূতিতে আঘাত গঠে,আমাদের সম্মান নষ্ট হয়ে যায়।ছেলেমেয়ে একসাথে ক্লাস করবে কেন এটা বেলাল্লাপনা মনে হয়!
তো সেইদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন আমদের এইসব সামান্য কারণে দিবালোকে জবাই করতেও কোন সমস্যা হবে না।ধর্মের নামে যদি শুরু হয় যত্রতত্র বোমা হামলা খুব একটা আশ্চর্য হব না!
আর এটা যদি শুরু হয় তাহলে এর দায়ভার সম্পূর্ণ আমাদেরকেই নিতে হবে।এই রকমের মানসিকতা তৈরি হওয়ার রাস্তা আমরাই সুগম করে দিচ্ছি জেনেশুনে!!!
পাকিদের এই মানসিকতার সৃষ্টি কি হটাৎ করে হয়েছে নাকি?ওদের মনে এইসব গোঁড়ামি ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে সেই জন্মকাল কাল থেকেই।এইজন্যই ওরা বর্বর,এজন্যই এরা অসভ্য এজন্যই এরা ধর্মের নামে,সম্মানের নামে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।
নিজেদের সচেতন করার সময় আমারা ধীরে ধীরে দূরের দিকে টেলে দিচ্ছি নিজের অজান্তেই।সময় চলে যাচ্ছে আমরা টেরই পাচ্ছি না!
একটা কথা আছে না সাধু সাবধান বলে।এটা বলেই শেষ করি,সময় থাকতেই সাধু সাবধান

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




