somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্বাচনী প্রচারণা ও সেলফি মুডঃ নেতারা সাবধান!

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারা দেশে চলছে এখন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। নেতা-নেত্রীরা চষে বেরাচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রাম, বাড়ি থেকে বাড়ি। আরতো মাত্র কয়েকটা দিন। এর পরই শান্তি আর শান্তি। শুধু যে নেতা-নেত্রীরাই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তা কিন্তু নয়। কর্মীরাও চষে বেড়াচ্ছেন ভোটারের উর্বর ভূমি বিশ্বাসের চাষ করার জন্য! কিন্তু এর মাঝে আছে অনেক সুযোগ সন্ধানী কর্মী। তারা এলাকায় নেতার পক্ষে কাজ করার চেয়ে নেতাকে দেখাতেই বেশি ব্যস্ত। সুযোগ সন্ধানী দুষ্ট কর্মিরা ঘুর ঘুর করছে নেতার আশে পাশে আর সেলফি তোলাতে। এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে নেতাদের।


ছবিঃ ১৮৩৯ সালে তোলা প্রথম সেলফি, নেট থেকে নেয়া।

আসলে সেলফি শব্দটা আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই নতুন একটা ভাবনা। সেলফির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বহু পুরনো ইতিহাস। নেট ঘাটলে সেলফি সম্পর্কে যে ধারনা পাওয়া যায় তা হলো-সেলফি শব্দটির প্রাথমিক ব্যবহার ২০০২ এর আগে পাওয়া গেলেও, ২০০২ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ান এক অনলাইন ফোরামে (এবিসি অনলাইন) প্রথম ব্যবহৃত হয়। নিজস্বী বা সেলফি (সেল্ফি) হলো আত্ম-প্রতিকৃতি আলোকচিত্র বা দল আলোকচিত্র, যা সাধারণত হাতে-ধরা ডিজিটাল ক্যামেরা বা ক্যামেরা ফোন ব্যবহার করে নেয়া হয়। সেলফি প্রায়ই ফেসবুক, গুগল+, ইন্সটাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টাম্বলার এবং টুইটারে ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করা হয়ে থাকে। সেলফি শব্দটি প্রথম এসেছে ইংরেজি সেলফিশ থেকে। সেলফি অর্থ প্রতিকৃতি। অক্সফোর্ড অভিধানের মতে, সেলফি হল একটি ছবি (আলোকচিত্র) যা নিজের তোলা নিজের প্রতিকৃতি, যা সাধারণত স্মার্টফোন বা ওয়েবক্যামে ধারণকৃত এবং যে কোনো সামাজিক মাধ্যমে আপলোড (তুলে দেয়া) করা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ সেলফি হাত সামনে তুলে বা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে, কখনো-কখনো সেল্ফ টাইমার ব্যবহার করেও নেয়া হয়। রবার্ট কর্ণিলিয়াস, একজন মার্কিন অগ্রণী আলোকচিত্রী, যিনি ১৮৩৯ সালে নিজের একটি দাগেররোতীপ্ বা আত্ম-প্রতিকৃতি ক্যামেরায় ধারণ করেন, যা ছিল প্রথম কোন একজন ব্যক্তির আলোকচিত্র। ১৯০০ সালে পোর্টেবল কোডাক ব্রাউনি বক্স ক্যামেরা বাজারে আসার পর ফোটোপ্রাফিক আত্ম-প্রতিকৃতি তোলা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। বহনে সহজ এই ক্যামেরার সাহায্যে আয়নার মাধ্যমে সেলফি তোলার প্রচলন শুরু হয় তখন থকেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছে নতুন মাত্রা। প্রার্থীরা এখন কোথায় গেলেন, কি করলেন, কি বললেন সবই আমাদের মত ভোটাররা জানতে পারেন মূহুর্তের মধ্যে। সেই সুযোগটা নেয় অনেক সুবিধাবাদী কর্মীরা। তারা কাজের চেয়ে সেলফি তোলে বেশি এবং আপলোড দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেক সুবিধাবাদী আছেন তারা নিজ এলাকায় না গিয়ে, নেতার জন্য কাজ না করে নেতা কোথায় আছে সে খবর রাখে বেশি। তাদের ধান্দা থাকে নেতা চোখ খুললেই যেন তাদের চাঁদ বদনখানা যেন দেখতে পায়। এধরনের সুবিধাবাদীর কারনে আপনার প্রয়োজনেও আপনি নেতার কাছে ভিরতে পারবেন না। পায়ে পায়ে, গায়ে গায়ে বাড়ি খাবেন এমন সুবিধাবাদীর সাথে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে কোনটা কার আইডি বুঝা বড় দায়। সবাই নেতাকে তেলাতে নেতার ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসাবে ব্যবহার করে। বুঝার উপায় নাই কোনটা নেতার আইডি আর কোনটা কর্মীর আইডি। হতে পারে এটা নেতার প্রতি ভক্তির কারনে করছেন। কিন্তু একটা প্রবাদ ভুলে গেলে যে চলবে না-‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’। এসব চোরদের কারনে নেতাদের বিপথগামী হতে হয় অনেক সময়। সুবিধাবাদীদের সুবিধা দিতে গিয়ে নেতারা হন দেউলিয়া, বিবেক ভ্রষ্ট, নীতিহীন, দুর্নীতি পরায়ন।

সুবিধাবাদীদের এমন কাজের উদ্দেশ্যটা কি সেটা আমরা সবাই বুঝি, বোঝেন নেতারাও! আসলে সুবিধাবাদীদের মূল উদ্দেশ্য থাকে নিজেকে নেতার কাছের লোক হিসাবে পরিচিত করা, নেতার দ্বারা অনৈতিক সুবিধা হাতিয়ে নেয়া, নিজেদের আখের গোছানো। এ সুবিধাবাদী লোকগুলো পরগাছার মত, পরজীবীর মত যারা অন্যের আশ্রয়ে বাড়তে থাকে এবং একসময় দৈত্যাকার রূপ ধারন করে। এদের থেকে নেতাদের সাবধান হওয়া উচিত যা অনেক নেতা সাবধান হতে পারেন, অনেক নেতা পারেন না।

আমাদের একটা বহুল জনপ্রিয় সংলাপ আছে-‘আমি কিন্তু সব বুঝি, কে আমার বুকের দিকে তাকায় আর কে পিঠের দিকে’। রাজনৈতিক নেতারা দেশের এক অমূল্য সম্পদ। যুগে যুগে প্রতিটি দেশে দেশে ভালো যা কিছু হয়েছে তা নেতাদের নেতৃত্বের কারনে, নেতাদের হাত ধরেই হয়েছে। নেতারাই পারেন গণমানুষের কথা চিন্তা করতে, গণমানুষের কল্যানে কাজ করতে, গণমানুষের কল্যানে কাজ করতে সরকারকে বাধ্য করতে। নেতারা ঘাস খেয়ে নেতা হয়না। বহু কাঠ খর পুড়িয়ে নেতা হন একজন ব্যক্তি। বিপথগামী হওয়ার আগ পর্যন্ত একজন নেতা পুড়ে পুড়ে খাটি সোনা হন। তাইতো নেতারা পরম পূজ্য। তারা সব বোঝেন। আগামীতেও তারা সব বুঝেই সিদ্ধান্ত নিবেন বলে আমার আশা ও বিশ্বাস। একজন নেতা যতক্ষণ সুবিধাবাদীদের মন বুঝতে পারবেন, সুবিধাবাদীদের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন ততদিনই সে নেতা থাকবেন। সুবিধাবাদীদের জালে আটকে গেলে ভ্রষ্ট হবেন, নেতা থাকবেন না। তাই সাবধান! সুবিধাবাদীদের মিষ্টি হাসি থেকে, সেলফি থেকে, দর্শন থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৫৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুতোষ কবিতাঃ মিষ্টি খাবো

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৩৬




"মিষ্টি খাবো, মণ্ডা খাবো"—
বায়না ধরলো খোকা।
"চেঁচাস নে আর, বড্ড জ্বালাস,
তোর যে দাঁতে পোকা!"

খোকা বলে, "কোথায় পোকা?
দেখি না তো চোখে!
মাঝে মাঝে ব্যথা তবে
ওঠে থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসুন দেখে আসি, রাজাকার, লালবদর,ছাত্রদল ও শিবিরের উত্তরাধিকারীরা পাকিস্তানে কেমন আছে‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:০১



কেমন আছে পাকিস্তানে বসবাসরত ৪০ লক্ষ বাঙালী?

১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে দাড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিচার করার হুঙ্কার দিলেন। পাকিস্তানে বসে তখন খুনি জুলফিকার আলী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোলাপানগুলো এত আন্দোলন বুঝে!

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৫




পড়াশোনার টেবিল আজকাল অন্যকাজে ব্যবহার হয়, হয়তো ঐখানে বিপ্লবের লাল রং আছে শুধু। লেনিনের রক্ত, গুয়েভারার চুরুট নিয়েও আগ্রহ নেই তাদের, আছে শুধু মহাসড়ক অবরোধ, মিলনকে থাপরাড়োর অদম্য প্রয়াস,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×