somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সন্তানের হত্যাকারীকে ক্ষমা! স্মরণ করায় ইসলামের স্বর্ণযুগকে

২২ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি ইরানে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর ফাঁসীর মঞ্চ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার ভোরে ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোশাহরে। একজন ইরানি মা (যিনি কিনা উক্ত বিচারের বাদী ছিলেন) তার সন্তানের হত্যাকারীকে ফাঁসীর মঞ্চে ক্ষমা করে দেন। খবরের ভাষ্যে বলা হয়েছে- ‘২০০৭ সালে ১৯ বছর বয়সী বেলাল রাস্তায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছুরি মেরে তারই সমবয়সী তরুণ আব্দুল্লাহ হোসেইনযাদেহ’কে হত্যা করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি ইরানের সুপ্রিম কোর্ট বেলালকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়। আর এই মামলার বাদী ছিলেন নিহত আব্দুল্লাহর বাবা-মা। কিন্তু গত মঙ্গলবার বেলালের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার ঠিক আগ মুহূর্তে নিহত আব্দুল্লাহর মা নিরাপত্তা কর্মীদের বলেন- ‘আমার সন্তানের ঘাতকের সঙ্গে আমার কথা আছে। আমাকে তার কাছে যেতে দিন।’ অতঃপর তিনি নিজ সন্তানের ঘাতকের সামনে গিয়ে অশ্র“শিক্ত নয়নে তাকে একটি থাপ্পড় মারেন এবং বলেন, ‘তোকে ক্ষমা করে দিলাম’। এরপর নিজ হাতে তার গলা থেকে ফাঁসির দড়ি খুলে দেন।’
খবরটি প্রকাশ হবার পর থেকে আমাদের মিডিয়া জগৎ, বিশেষতঃ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে আলোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টিকে নিয়ে যে যার মতো করে মন্তব্য প্রকাশ করছেন। উদারতা, মহানুভবতা থেকে শুরু করে ইরানের বিচারব্যবস্থার যথার্থতা ইত্যাদি কোন কিছুই এসব মন্তব্যের বাইরে নেই। তবে যা বাদ পড়েছে তাহলো, এর মধ্য দিয়ে প্রকৃত ইসলামের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। উক্ত ঘটনাটিতে বাদীকেই বিচারকের আসনে বসানো হয়েছে। সেখানকার আইন হলো, অপরাধ প্রমাণিত হবার পর বাদী যদি অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয় তাহলে কোন বিচারকই আর অপরাধীকে সাজা দিতে পারবে না, আবার যদি বাদী ক্ষমা না করে তাহলে কোন বিচারকই বাদীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অপরাধীর সাজা চুল পরিমাণও মওকুফ করতে পারবে না। বস্তুত, এটাই হলো প্রকৃত ইসলামের নীতি। যদিও ইরানসহ পৃথিবীর যে কয়েকটি জায়গাতে আংশিকভাবে ইসলামের কিছু বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠিত আছে তা বিকৃত, প্রকৃত ইসলাম নয়, তথাপি তাদের বিচারব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত এই নীতিটি হলো প্রকৃত ইসলামেরই নীতি। কাজেই এই আইনকে শুধুমাত্র ইরানিদের আইন বলা উচিত হবে না, এটা সমস্ত মুসলিমদের জন্যই স্রষ্টার পাঠানো বিধানাবলীর অংশ। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এই নীতি এখন মুসলিম দুনিয়ার অধিকাংশ দেশেই অচল হয়ে আছে। অন্যদিকে ইরানের মতো যে অঞ্চলগুলোতে এখনও প্রচলিত আছে তাও ভারসাম্যহীনতার শিকার।
ইসলামী জীবনব্যবস্থার প্রতিটি বিধান হলো ভারসাম্যযুক্ত এবং একটি অপরটির সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত। এটা আংশিকভাবে মানলে ভারসাম্য বিনষ্ট হবে ফলে সামগ্রিকভাবে ইসলামের যে শান্তিময় ফল আসার কথা তা আসবে না। অর্থাৎ সমাজে নীতিশিক্ষা, রসুলাল্লাহর আদর্শ গ্রহণের শিক্ষা, চারিত্রক প্রশিক্ষণ, আত্মিক শিক্ষা প্রকৃত ইসলামের মতো না থাকায় হত্যা, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই ইত্যাদি চলছেই। অপরদিকে শুধুমাত্র বিচারব্যবস্থায় ইসলামের নীতিকে মেনে চলায় এগুলোর শাস্তিও পেতে বাধ্য। ফলে আজ দেখা যাচ্ছে, ইসলামী শরিয়াহ দিয়ে বিচার করে এমন দেশগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই অনেক মানুষ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হচ্ছে, চুরি করে হাত কাটা পড়ছে, যেনা করে প্রাণে মারা পড়ছে কিন্তু এত কিছুর পরও অপরাধ কমছে না, বরং দিন দিন তা ধা ধা করে বেড়েই চলেছে। অপরদিকে এত মানুষের মৃত্যুদণ্ডের ফলে একটি শ্রেণি ইসলামকে মানবতাবিরোধী ধর্ম হিসেবে চিত্রায়িত করার সুযোগ পাচ্ছে। অথচ ইসলামের স্বর্ণযুগে অর্থাৎ প্রকৃত ইসলামের যুগে আদালতগুলিতে প্রায় কোন বিচারই আসত না, কারণ সমাজ থেকে অপরাধ প্রায় নির্মূল হয়েগিয়েছিল।
তবে প্রতিহিংসাপূর্ণ সমাজের মধ্যে এসব ঘটনায় বাদী পক্ষ কর্তৃক অপরাধীকে মাফ করে দেওয়ার নজিরও খুব বেশি নয়। যে দু’এক জায়গায় মাফ করে দেওয়ার মত ঘটনা ঘটছে তারই একটি হলো ইরানের উক্ত ঘটনাটি। এমন ঘটনা যে ইরানে খুব একটা ঘটে না তার একটি প্রমাণ হলো, বৃহ¯প্রতিবারে ইরানের প্রতিটি মিডিয়াতেই ঘটনাটিকে বিস্ময় ও গুরুত্বের সাথে ছবিসহ প্রচার করা হয়েছে। সচরাচর এমনটি ঘটলে উক্ত ঘটনাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হত না। সুতরাং ইরানে যে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত আছে তাও আংশিক, ফলে ভারসাম্যহীন অর্থাৎ বিকৃত। তবে তাদের বিচারব্যবস্থায় উপরোক্ত নীতিটি আনুষ্ঠানিক হলেও তা যে সামগ্রিক ইসলামেরই একটি অংশ তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।
আর প্রকৃত ইসলাম কেমন ছিল, তার বিচারব্যবস্থা পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা হলে তার সরূপ কেমন হবে, তা ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে। ইসলামের বিধান বাস্তবায়নে আখেরি নবী মোহাম্মদ (দ:) সর্বদাই তাঁর জাতিকে ক্ষমার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন- প্রতিশোধের আনন্দ একদিন স্থায়ী হয়; আর ক্ষমার আনন্দ অন্তরকে প্রশান্তি দেয় চিরকাল। এই ক্ষমা ও শাস্তি- দুই মিলে তিনি এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জাতি গঠন করেছিলেন যে জাতিতে সবার হাতেই অস্ত্র ছিল (তৎকালীন সমাজে অস্ত্রের কোন লাইসেন্স লাগতো না, যে যত পারে অস্ত্র কিনে ঘর ভরে ফেলতে পারত) কিন্তু খুন-খারাপি হত না, মানুষ রাতে দরজা খুলে ঘুমতো, দোকানপাট খুলে রেখে সালাহ কায়েম করতে যেত কিন্তু কোন কিছুই চুরি হতো না। এমন একটি বৃহত্তর সমাজ তৈরি হয়েছিল কেবলমাত্র জাতির সামগ্রিক জীবনে ভারসাম্যপূর্ণ প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবার কারণে। কিন্তু আজকে আর সেই সমাজ তৈরি হচ্ছে না কারণ সেই ভারসাম্য এখন নেই। আজকের মুসলিম নামধারী জাতিটির মধ্যে না আছে অন্যায়-অপরাধ থেকে সচেতন করার জন্য কোন শিক্ষার ব্যবস্থা, না আছে শাস্তির ব্যবস্থা। আবার যেখানে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা আছে সেখানেও ভারসাম্য না থাকায় তা সুফল বয়ে আনতে পারছে না। তবে ইরানের ঐ ঘটনাটি অবশ্যই প্রকৃত ইসলামের যুগের কথাই স্বরণ করিয়ে দেয়।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×