somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আওয়ামী লীগ সরকারের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ

০৯ ই জুন, ২০১৪ রাত ৮:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। অতীতেও ঘটতো, তবে বর্তমানের মতো এত বেশি নয়। তাছাড়া সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা এতটাই নৃশংস ও হৃদয়বিদারী যে, তা পুরো দেশবাসীর মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন ঘটনাগুলোর সাথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার খবর মিলছে। তাছাড়া কিছু ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত না থাকলেও সেই অপরাধের সাথে তাদের যোগসূত্রতা ও পরোক্ষভাবে মদদ প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। আর স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাগুলোর সম্পূর্ণ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সরকারের উপর, যার মোকাবেলায় সরকার কার্যত সফলতার পরিচয় দিতে পারছে না। অথচ প্রথম থেকেই সরকারের কিছু সদিচ্ছা এরকম পরিস্থিতির মোকাবেলায় যথেষ্ট ছিল। কিছুদিন ধরে যে গুম-খুন-অপহরণের ঘটনায় দেশ উত্তাল রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে তা নতুন নয়, কম বেশি সব সময়ই ছিল। তবে যেটা নতুন তাহলো- তা প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের অতীত ও বর্তমানের এমনই কিছু অকল্যাণকর সিদ্ধান্ত আলোকপাত করেই মূলত এই লেখাটি।
ক. রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশাসনকে ব্যবহার: আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা এদেশে নতুন নয়। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন সমীক্ষায় প্রায়ই আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম প্রথমে আসতে দেখা গেছে। এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সরকারকেই দায়ী করা যায় না। বিএনপি আমলে ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠনের অন্যতম একটি কারণ ছিল মূলত পুলিশ বাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়া এবং তা থেকে বের করা সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়া। তাছাড়া জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের মাত্রা অতিরিক্ত হারে বেড়ে যাবার কারণে তৎকালীন সরকার অনেকটা বাধ্য হয়েই র‌্যাব গঠন করেছিল। এটা ঠিক যে, প্রাথমিক পর্যায়ে র‌্যাব কিছু কার্যকারী ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা খুব বেশিদিন টিকে নি। পরবর্তীতে তাদের সামগ্রিক কার্যকলাপ প্রকাশ্য ও গোপন, ভালো ও খারাপ এই দুই ধারায় প্রবাহিত হতে থাকে। আওয়ামী লীগ যখন ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসে তখন পুলিশ বাহিনীর মতো র‌্যাবও সবেমাত্র কিছু কিছু ব্যাপারে বিতর্কিত হতে শুরু করেছে। এমতাবস্থায় সরকার এই বাহিনীগুলোর উপর কোনো রকম রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার না করে ও বাহিনীর মধ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে পারতো। আইনের শাসন বলতে যা বোঝানো হয় তার বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে পারতো। কিন্তু তা না করে, আওয়ামী লীগ সরকারও স্রোতের জলে গা ভাসায়। সরকার ব্যস্ত হয়ে পড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনে। বিএনপি সরকারের মতো আওয়ামী লীগও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হবার পথে এগিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থাকা অবস্থায় এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় মনে করছি। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে টিআইবি একটি প্রতিবেদন পেশ করে। প্রকাশিত উক্ত সমীক্ষা প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পুলিশকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। সহস্রাধিক মানুষের মধ্যে জরিপ করে ঐ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন টিআইবির এই প্রতিবেদনটিকে গুরুত্ব তো দেনই নি, উল্টো তিনি টিআইবির বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক বিভিন্ন বক্তৃতা প্রদান করেন। সেই সাথে চলে দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশের প্রতি বাহবা প্রদান। বলা হয় অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত। এতে করে যেখানে যে প্রভাবই পড়–ক না কেন, পুলিশের দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারগুলো যে যথেষ্ট উৎসাহ পেয়েছিল তা সহজেই অনুমেয়। বিভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্ন যুক্তিতে সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কঠিন হস্তে দমন করে নি শুধুই রাজনৈতিক স্বার্থে। এই ধারা অব্যাহত রেখে প্রশাসনের কাছ থেকে অপরাধ দমনে এবং আইনের শাসন ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার কাজে যথাযোগ্য ভূমিকা পাওয়া যতটা অসম্ভব, ততটাই অবাস্তব।
খ. প্রশাসনই যখন শেষ ভরসা: গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত সরকারকে বিরোধী দলগুলোর সর্বাত্মক আন্দোলন-সহিংসতা, হরতাল, অবরোধ ও জ্বালাও-পোড়াও এর মোকাবেলা করতে হয়েছে। বাস্তবতা হলো এ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সরকার একচেটিয়াভাবে আইনÑশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করেছে। র‌্যাব-পুলিশ, বিজিবি কখনও স্বতন্ত্রভাবে আবার কখনও যৌথভাবে অপারেশন চালিয়ে বিরোধী পক্ষের সহিংসতা-সন্ত্রাস বা আন্দোলন, যাই বলা হোক না কেন তার মোকাবেলা করেছে। এই কাজ করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে বিরোধী পক্ষের বহু নেতা-কর্মীর প্রাণহানি ঘটেছে। বিরাট সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। অনেকে এখনও জেলে আছে। আবার ক্ষেত্রবিশেষে দেখা গেছে, সহিংস আন্দোলনকারীদের আক্রমণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও হতাহত হয়েছেন। কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থেকেও প্রশাসন আন্তরিকভাবে সরকারের আনুগত্য করে গেছে। সে সময় র‌্যাব-পুলিশের সামান্য দায়িত্বহীনতা বা উদাসীনতাও সরকারের জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হতে পারতো, কিন্তু তেমনটি হয় নি। প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রশাসন হচ্ছে এই সরকারের অন্যতম শক্তিশালী একটি বাহু। আর এটাই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‌্যাব-পুলিশ ভালোভাবেই জানে যে, তাদের যে কোনো বিপর্যয়কে সরকার নিজের বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করবে। তারাই সরকারের একমাত্র ভরসা। এই বাস্তবতা প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্তাকে ক্রমেই স্বেচ্ছাচারী করে তুলছে। তারা হয়ে পড়ছেন অনিয়ন্ত্রিত। জবাবদিহিতা হচ্ছে অনিশ্চিত।
গ. অভিযুক্ত র‌্যাবের বিচারে উদাসীনতা: নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার খ্যাত নৃশংস ঘটনাটির পেছনে সর্বপ্রথম র‌্যাবের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশিত হলে অনেকেই বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুরের অভিযোগ ও তার পরিপ্রেক্ষিতে ধারাবাহিকভাবে র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত তথ্য-উপাত্তগুলোর কারণে অল্প দিনেই অভিযোগটি যৌক্তিকতা ফিরে পায়। মিডিয়ার কল্যাণে অনেক সাড়া জাগানো তথ্য বের হতে শুরু করে। জানা যায়, ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা এই জঘন্য ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেছে। হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন। উঠে আসে এমন কয়েকজন র‌্যাব কর্মকর্তার নাম যাদের মধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতাও রয়েছেন। অভিযোগ উঠার পর র‌্যাবের এই তিন কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। কিন্তু তাদের আইনের অধীনে আনা নিয়ে শুরু হয় সরকারের কার্যত গড়িমসি। বোঝা যাচ্ছিল যে, সরকার কয়েকটি তদন্তকমিটি গঠন করেই দায়িত্বের ইতি ঘটাতে চাচ্ছে। অর্থাৎ র‌্যাবের ঐ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের অনাগ্রহ প্রকট। এমতাবস্থায় এই ঘাটতি পূরণ করে আদালত। র‌্যাবের অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয় আদালত। নির্দেশ প্রদানের পর কয়েকদিন র‌্যাবের এই কর্মকর্তাদের গ্রেফতারে গড়িমসি করা হলেও শেষ বিচারে সরকারের সবুজ সংকেত আসে। ফলে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু আদালতের এই নির্দেশকে সরকার যে মোটেও সোজাভাবে নেয় নি, তার প্রমাণ মিলেছে পরবর্তীতে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। র‌্যাবের এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ আসা সত্ত্বেও সরকারের গড়িমসি ও তাদেরকে গ্রেফতারে অনিচ্ছা প্রকাশ কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। এতে সরকারের ভাবর্মূতি ক্ষুণœ হয়েছে ব্যাপকভাবে। আবার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও আসামি নূর হোসেনও এত নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পেছনেও অনেকে সরকারের শিথিলতাকে দায়ী করছেন। খুন হওয়া নজরুল ইসলাম, প্রধান আসামি নূর হোসেন উভয়ই সরকার দলীয় স্থানীয় নেতা। আবার যে র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সেই র‌্যাবকেও পরিচালনা করছে সরকারই। সব মিলিয়ে সরকার পড়েছে বিরাট সঙ্কটে। অথচ সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এবং দলের মধ্যে সুবিধাবাদী নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে তাদের সম্পর্কে সচেতন থাকলে এই সব বিপর্যয়-ই সরকার দাপটের সাথে মোকাবেলা করতে পারতো। হয়তবা এমন কোনো ঘটনার সূত্রপাতই হতো না।
ঘ. জনমত উপেক্ষা ও দলীয় ক্যাডার সৃষ্টি: যে কোনো সরকারের প্রাণ বা আত্মা হচ্ছে জনসমর্থন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার জনসমর্থনকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা পরিষ্কার নয়। যেটুকু বোঝা যাচ্ছে তাতে সরকারের জন্য ইতিবাচক কিছু দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চরিত্র বিশ্লেষণ করে যে কেউ বুঝতে পারেন যে, ঐ নির্বাচনটি একটি স্বাভাবিক, সুষ্ঠু নির্বাচন ছিল না। অর্ধেকের বেশি আসনে নির্বাচনই হয়নি; বেশির ভাগ ভোটার ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ পাননি। অনেকে নিরাপত্তার অভাবে সুযোগ পেলেও ভোটকেন্দ্রে যায় নি। এমনই একটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ এখন সরকারে। তাদের জনসমর্থন কতটা আছে, এবং সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে তা তাদের অজানা নয়। গত বছরের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের জনসমর্থন কতটা নিুমুখী। বস্তুত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ঐ অশনিসংকেত অনুধাবন করেই আওয়ামী লীগ সরকারের উচিত ছিল তাদের বিশাল কর্মী বাহিনীকে ব্যবহার করে ব্যাপক জনকল্যাণকর কাজ সম্পাদন করা এবং তার মাধ্যমে জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করা। তাছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে হত্যা, দখল, টেন্ডারবাজী, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ইত্যাদির অভিযোগ উঠে থাকে তার প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্ত বাস্তবতা হলো সরকার সে পথে হাঁটে নি। জনপ্রিয়তা অর্জনের পথে না গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার তার বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে শক্তি প্রয়োগ করে বিরোধী দল দমনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিরোধী দল দমনে কার অবদান কতটুকু, কাকে এলাকার সকল দলের লোক ভয় পায়, কে ভালো সহিংসতা চালাতে পারে এগুলোই দলীয় কর্মীদের পদমর্যাদা বণ্টনে বিবেচ্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আজ এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে। বিরোধী দল দমনে সরকার সফল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখন যেন নিজের দলই নিজের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। নিজ দলকে নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের জন্য অসম্ভব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের নেশায় আওয়ামী লীগই এখন আওয়ামী লীগকে ছেড়ে কথা বলছে না। সুযোগ পেলেই শেষ করে দেয়া হচ্ছে প্রতিপক্ষকে। আগে যে প্রতিযোগিতা চলতো জনপ্রিয়তাকেন্দ্রিক, এখন দলের জাতীয় চরিত্র পরিবর্তন হয়ে যাবার কারণে তা রূপ নিয়েছে শক্তি প্রদর্শনকেন্দ্রিক। কাজেই এটা বলা অযৌক্তিক হবে না যে, বর্তমান আওয়ামী লীগের এই দুরাবস্থার পেছনে আওয়ামী লীগের অতীত রাজনীতির ধারা অনেকাংশেই দায়ী।

মাত্র চারটি প্রেক্ষাপট আলোচনা করলাম যেখানে আওয়ামী লীগ সরকার যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয় নি। আওয়ামী লীগ এদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। বিজয় এনে দিয়েছে। এই দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার স্বপ্নের দল ছিল আওয়ামী লীগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার পিতার মতোই আওয়ামী লীগকে জনগণের দলে পরিণত করার কথা বলেন। তিনিই এখন ঐতিহ্যবাহী এই দলটির কাণ্ডারী। কিন্তু বাস্তবে তিনি বা তার দল আওয়ামী লীগ যা করছে তা এদেশের জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে যে, জনপ্রিয়তা ছাড়া কোনো দলই চলতে পারে না। সরকারের সামনে যতই বাধা আসুক যদি জনগণ সরকারের পাশে থাকে তাহলে সরকারের কোনো ভয়ের কারণ নেই। বিরোধী দল যদি জনকল্যাণ পরিপন্থী কোনো কাজ করে, তাহলে তাদের দমনে র‌্যাব-পুলিশের দরকার নেই, দলীয় ক্যাডার সৃষ্টির দরকার নেই, এর জন্য আপামর জনতাই যথেষ্ট। কিন্তু তার জন্য আওয়ামী লীগকে তাদের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে হবে। যে আওয়ামী লীগের জন্য গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ রোজা রেখে মানত করতো, সেই আওয়ামী লীগ আর আজকের আওয়ামী লীগ যে এক নয় তা প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবেই জানেন। কাজেই যদি আওয়ামী লীগ সরকার তাদের হারানো জনপ্রিয়তা যে কোনোভাবে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় তাহলেই আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ রক্ষা হবে। আর যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে এই সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা যায় অনায়াসেই।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×