somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসম্মান ও সম্মানের আতিশয্য

০৯ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে এই ধর্ম ব্যবসায়ী মোল্লারা গায়ে জোব্বা আলখাল্লা, দাড়ি, টুপি, পাগড়ি ইত্যাদি ধারণ করে নবীর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে ধর্মভীরু অধিকাংশ জনসাধারণের সামনে পীর-দরবেশ বা ওয়াজকারী সেজে মূর্তির মত পূজা, সম্মান আর সম্মানী নিচ্ছেন। ঠিক তেমনি যুধিষ্ঠির রামচন্দ্র মহাবীর (আ.) এঁদের শিক্ষা ত্যাগ করে তাদের মূর্তি বানিয়ে পূজা করছে। ঈসা (আ.) এবং মা মরিয়মের উপরে ইহুদি ধর্মব্যবসায়ী ও তাদের দ্বারা প্রভাবিত জনগণ যে কলঙ্ক আরোপ করেছিল তা অপনোদন করেছেন শেষ নবী এবং তাঁর উপর অবতীর্ণ কোর’আন। ইহুদিরা ঈসা (আ.)-কে ভ্রষ্টা মরিয়মের অবৈধ সন্তান (নাউযুবিল্লাহ) বোলে প্রচার কোরেছিল। আর খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে ঈসাকে (আ.) ক্রুশবিদ্ধ কোরে নিহত করা হয়েছে। এসব অপবাদ ও মিথ্যাপ্রচারের আড়াল থেকে আল্লাহ প্রকৃত সত্যকে উদ্ভাসিত করলেন যে, মা মরিয়ম আল্লাহর হুকুমে সন্তান ধারণ কোরেছেন এবং তিনি পুতঃপবিত্র ছিলেন। ঈসা (আ.) ছিলেন আদমসদৃশ ও নিষ্পাপ, তাঁকে ক্রুশে চড়ানো হয় নি। এই মহাসত্য আল্লাহ ১৪০০ বছর আগে প্রকাশ কোরলেও অধিকাংশ মানুষ আজও অপপ্রচার দ্বারা বিভ্রান্ত। একইভাবে শ্রীকৃষ্ণ (আ.) এর ব্যাপারেও নারী-সংক্রান্ত বহু কলঙ্ক লেপন করা হয়েছে, তাঁকে নিয়ে এত কাল্পনিক গান, কবিতা, নাটক, চলচ্চিত্র, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, বৈষ্ণবপদাবলী, দোঁহা, প্রবাদ-প্রবচন রচনা করা হোয়েছে যে এসবের আড়াল থেকে প্রকৃত কৃষ্ণচরিত্র উদ্ঘাটন করা সত্যিই দুরূহ। তবে আমরা নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করি যে, কৃষ্ণের (আ.) পুতঃ চরিত্রে প্রকৃতপক্ষে অপবাদ আরোপ ও কলঙ্ক লেপন করা হয়েছে, এর পেছনে কারণ যাই থাক, তা ভক্তিবশেই হোক বা চক্রান্তবশেই হোক। ইসলাম ধর্মের ইতিহাস হল মাত্র ১৪০০ বছরের, আর বৈদিক ধর্মের ইতিহাস হাজার হাজার বছর প্রাচীন।
নবীদের প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের পথ তাদেরকে পূজা করা নয় কেবল, তাঁদের আদর্শকে অনুসরণ করা। দু’ হাজার বছর ধোরে ঈসাকে (আ.) শান্তির যুবরাজ বলে প্রচার করা হচ্ছে। তাঁর অনুসারীরা ভক্তির আতিশয্যে তাঁকে ‘ঈশ্বরের পুত্র ঈশ্বর’ বানিয়ে ফেলেছে। অপরদিকে ইহুদীরা তাকে যারজ সন্তান বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। (নাউজুবিল্লাহ) কিন্তু এই যে ভক্তি আর অভক্তির বাড়াবাড়ি- এসব কোরে মানবজাতির কি উপকার হয়েছে সেটা কি কেউ বলবেন? শান্তির যুবরাজের অনুসারী দাবিদার খ্রিস্টানরা তাঁর আনীত সকল শিক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে গত দুই হাজার বছর বিশ্বের বুকে মানুষের রক্তে হোলি খেলে চলেছে। তারাই ধর্মের দোহাই দিয়ে ইউরোপ জুড়ে ইহুদিদের উপর গণহত্যা, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড পরিচালনা করেছে। ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদ চালিয়ে বিশ্বের বহু সভ্যতাকে ধূলিস্মাত কোরে সেখানকার সম্পদ লুটে পুটে খেয়েছে, কোটি কোটি আদম সন্তান হত্যা করেছে। গত শতাব্দীতে তারা দুটি বিশ্বযুদ্ধ ঘোটিয়ে ১৪ কোটি মানুষ হত্যা কোরেছে, আহত-উদ্বাস্তুর কোনো হিসাব নেই। এই শতাব্দীর প্রথম পাঁচ বছরেই তারা দশ লাখ মানুষ হত্যা কোরেছে ইরাক আর আফগানিস্তানে। পাশাপাশি গণতন্ত্রের নামে এমন এক নিষ্পেষণমূলক পুজিবাদী জীবনব্যবস্থা মানবজাতির উপর চাপিয়ে দিয়েছে যে সমগ্র মানবজাতি অন্যায়-অবিচারের চূড়ান্তে গিয়ে পৌঁছেছে। সুতরাং যিশু মানুষ না আল্লাহর পুত্র সে বিতর্ক এখানে অবান্তর। যে জন্য নবীদের আসা অর্থাৎ শান্তি আনয়ন সেটাই যখন ব্যর্থ কোরে দেওয়া হয় তখন তাঁকে শ্রদ্ধায় সম্মানে স্রষ্টার সমকক্ষ কোরে দিলেও কোনো লাভ নেই।
একইভাবে মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যে অনেকেই কৃষ্ণের নামে যে লীলাখেলার অপপ্রচার চালানো হয়েছে তা বিশ্বাস কোরে তাঁর সম্পর্কে অশ্রদ্ধাব্যঞ্জক উক্তি করেন, এমন কি ‘লম্পট’ বোলে গালাগালিও করেন (নাউযুবিল্লাহ)। আবার একদল শ্রীকৃষ্ণকে (আ.) খ্রিস্টানদের মতই খোদ ‘ভগবান’ বোলে বিশ্বাস করেন, শুধু অবতার মেনে তারা সন্তুষ্ট নন। আমাদের কথা হচ্ছে তিনি স্বয়ং ভগবান হোন আর অবতারই হোন তিনি যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন অর্থাৎ দুস্কৃতিকারীর দমন কোরে সাধুজনের পরিত্রাণ এবং ধর্মের পুনসংস্থাপন। এই উদ্দেশ্য পূরণ কতটুকু হল সেটা বিচার না কোরে, সাধারণ বঞ্চিত নিগৃহীত বুভুক্ষ জনতাকে নির্যাতন নিপীড়নের মধ্যে ফেলে রেখে কৃষ্ণকে যতই সম্মান শ্রদ্ধার উচ্চ শিখরে বসানো হোক না কেন, সেটা প্রকৃত কৃষ্ণভক্তির পরিচয় নয়, এতে সেই মহামানবও সন্তুষ্ট হবেন না।
হেযবুত তওহীদের এমাম, এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী এই ভারসাম্যহীন বাড়াবাড়ি থেকে মহামানবদেরকে মুক্ত কোরে তাদের যে সত্যিকার অবস্থান ও আগমনের উদ্দেশ্য তা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, শ্রীকৃষ্ণ আল্লাহরই একজন নবী এবং তাঁর শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব সকলের জন্য অনুসরণীয়, তিনি সকল মানুষের শ্রদ্ধেয় ও পূজনীয়। এমামুয্যামান শ্রীকৃষ্ণের (আ.) শিক্ষাকে বাস্তবে প্রয়োগ করে হানাহানিতে লিপ্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরকে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান করেছেন। আজ আত্মিক পরিশুদ্ধি, পারলৌকিক মুক্তির প্রত্যাশিদের একদল মন্দিরে একদল মসজিদে একদল প্যাগোডায় একদল চার্চে একদল সিনাগগে ঢুকেছেন। নিরন্তরভাবে তাদের কেউ ওম শান্তি, কেউ বুদ্ধং শরণং গচ্ছামী, কেউ এলি এলি, কেউ আল্লাহু আকবার বোলে চলেছেন। কিন্তু মানুষ অন্যায় অশান্তিতে নিমজ্জিত। মানবজীবনের সঙ্গে ধর্মের এই বিচ্ছেদ দেখে একদল হয়ে গেছে নাস্তিক আরেকদল হোয়েছে কূপমণ্ডুক স্থবির। মানুষের জাতীয় জীবনের এই ঘোরসঙ্কটে ধর্ম কোন কাজে না আসায় সৃষ্টি হয়েছে সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন তন্ত্রমন্ত্র। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মানবজাতির এক জাতিতে পরিণত হয়ে শান্তিতে বসবাস করার জন্য যে ধর্ম দরকার তা আমাদের কাছে আছে।

আমরা যামানার এমামের অনুসারী
আমরা হেযবুত তওহীদের সদস্য।
সারা পৃথিবীতে সব জাতির, সব ধর্মের মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×