আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্য ও কৈফিয়ত- দুটো ভিডিও দেখার পর আমার কাছে মনে হয়েছে, মূলত দু'টি কারণে তিনি সমালোচিত হবার যোগ্য। এক- তিনি যা বলতে চান তা পরিষ্কার করে বলেন নি বা বলতে পারেন নি। এটা তার বলার অদক্ষতাও হতে পারে। অনেক বিখ্যাত লেখক রয়েছেন যারা লেখায় অতুলনীয় হলেও বলতে গিয়ে থতমত খেয়ে যান। তিনি এই ধরনের লেখক হতে পারেন। যাই হোক, তিনি যা বলতে চেয়েছেন গুছিয়ে বলতে পারেন নি, এটার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।
দুই- তার বক্তব্যের মধ্যে কিছুটা হলেও অজ্ঞতার ছাপ আছে। অন্য কেউ হলে ভিন্ন কথা, তার মতো একজন পণ্ডিত ব্যক্তির কাছ থেকে এই ধরনের অজ্ঞতা আশা করা যায় না। তিনি সরাসরি বলে দিলেন- আল্লাহর ৯৯ নাম আসলে দেবদেবিদের নাম ছিল। সেখান থেকেই বর্তমানের নামগুলো নেয়া হয়েছে। আসল ঘটনা তা নয়। আল্লাহর ৯৯ নাম সবযুগেই ছিল। আরবরা নিজেদেরকে ইবরাহীম (আ.) এর অনুসারী দাবি করত এবং ইবরাহীম (আ.) এর নির্দেশিত আচার-প্রথা তাদের ইতিহাসে পাওয়া যায়। যেমন হজ্ব করা, নামাজ পড়া, কোর'বানী করা ইত্যাদি। সুতরাং ইবরাহীম (আ.) এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর ৯৯ নাম অনেক আগেই জেনেছিল। অতঃপর যখন তারা মূর্তিপূজা আরম্ভ করে, আল্লাহকে ছেড়ে বিভিন্ন দেব-দেবী তৈরি করে তার পূজা আরম্ভ করে তখন তারা দেব-দেবীদের নামকরণের ক্ষেত্রে আল্লাহর ওই ৯৯ নামকেই বেছে নেয়, যা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
অর্থাৎ আল্লাহর ৯৯ নাম দেব-দেবীর নাম থেকে নেয়া হয় নি, দেব-দেবীর নামগুলোর মধ্যেই অনেক নাম আল্লাহর ৯৯ নাম থেকে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়টিই বলতে গিয়ে অজ্ঞতাবশত গুলিয়ে ফেলেছেন জনাব চৌধুরী সাহেব।
আব্দুল গাফফার চৌধুরীর বক্তব্য শুনে আমি এটুকু নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেন নি, তার উদ্দেশ্য আমার দৃষ্টিতে সৎ হিসেবেই প্রতিভাত হয়েছে, কিন্তু উদ্দশ্য সৎ হলেও কথা বলার অদক্ষতা ও সামান্য অজ্ঞতার কারণে তার সমালোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে একটি শ্রেণি তো সর্বদা বসেই থাকে এসব বেফাস কথাবার্তাকে কাজে লাগিয়ে এবং জনসাধারণের ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে নিজেদের অভিসন্ধি পূরণ করতে। কাজেই গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল বক্তব্য আশা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


