somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ককপিট, একটি স্বপ্ন, একটি মৃত্যু — এবং রাষ্ট্রের এক চরম ব্যর্থতা

২১ শে জুলাই, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




একটা বোতাম চাপলেই ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ফিরে আসতে পারতেন —
পরিবারে, জীবনের কাছে, হাসিমাখা মুখগুলোর মাঝে।
কিন্তু তিনি ফিরে আসেননি।

তিনি থেকে গিয়েছিলেন সেই বিধ্বস্ত ফাইটার জেটের ককপিটে —
যে জেটের বুকে পুরনো লোহা, আর প্রযুক্তির নাম করে ছিল শুধুই মরচে!
তাঁর হাতেও ছিল ‘ইজেকশন সুইচ’,
যা টিপে নিজেকে বাঁচিয়ে ফেলা যেত।
কিন্তু না— তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন,
বিমানটিকে জনবহুল এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে।

তিনি শুধু একজন তরুণ অফিসার ছিলেন না—
ছিলেন একজন ভাই, একজন সন্তান, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।
মাত্র কিছুদিন আগেই পেয়েছিলেন এই একাকী ফ্লাইটের অনুমতি—
‘সোলো মিশন’।
আর সেটাই হয়ে উঠল তাঁর জীবনের শেষ ফ্লাইট।

তিনি মারা যাননি শুধু আকাশ থেকে পড়ে —
তাঁকে মেরে ফেলেছে এক জঞ্জাল সিস্টেম,
যেখানে ১৯৭৬ সালের বাতিল যুদ্ধবিমান দিয়েই চলছে প্রশিক্ষণ,
যেখানে আধুনিকতা নেই, নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, নেই বিকল্প ব্যবস্থা।
এবং যেখান থেকে কোটি কোটি টাকা চলে যায় অদৃশ্য খাতের দিকে—
কিন্তু আসেনা একটি আধুনিক প্যারাসুট, আসেনা একটি নির্ভরযোগ্য ইঞ্জিন।

একটি রাষ্ট্র তার সৈনিককে মরচে ধরা জাহাজে বসিয়ে যুদ্ধে পাঠায় না।
কিন্তু আমরা পাঠাই।
পাঠাই তৌকিরদের মতো সাহসী ছেলেদের,
যারা নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করে আমাদের,
আর আমরা রক্ষা করতে পারি না তাদের।

আজকের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শুধু তৌকির নয়—
আরও অনেকে আহত হয়েছেন, কেউ কেউ প্রাণ হারিয়েছেন।
একটি স্কুলে ভয়ের চিৎকার ছড়িয়ে গেছে—
যেখানে শিশুরা পড়ে, খেলাধুলা করে, ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকে।
আজ সেই আকাশ থেকে তাদের উপর নামলো আতঙ্ক, আগুন, ধোঁয়া।

এই রাষ্ট্র কি শুধুই একেকটি মৃত্যুর পর হুঁশে আসবে?
কতজন তরুণ তৌকির মরলে আমরা সিস্টেম পাল্টাব?
কেন আজও আমাদের শহরের মাথার উপর দিয়ে উড়ে বেড়ায় যুদ্ধবিমান?

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে —
নইলে প্রতিটি মৃত্যু মেঘের মতো জমতে থাকবে,
আর একদিন সে-ই মেঘ বিস্ফোরণ ঘটাবে আমাদের বিবেকের উপর।

---

আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ও অন্যান্য নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
আহতদের জন্য দোয়া করি —
আল্লাহ যেন তাঁদের দ্রুত সুস্থতা দান করেন।

এবং আমরা চাই—
আর কোনো তরুণ তৌকির যেন এমন মৃত্যুর দিকে না ঠেলে দেওয়া হয়।
আকাশ হোক নিরাপদ, আকাশ হোক গর্বের প্রতীক— আর নয় মৃত্যুপুরী।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
#JusticeForTauqir
#StopFlyingRust
#SafeSkyForAll
#ShameOnSystem
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৫৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×