বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হেসেনের অবরোধবাসিনী পড়লে তৎকালীন বাংলার মুসলমান সমাজের ধর্মীয় গোঁড়ামীর কিঞ্চিৎ পরিচয় পাওয়া যায়। কিঞ্চিৎ বললাম এ কারনে যে আসলে এ "অবরোধবাসিনী" প্রথা উচ্চবংশীয় সমাজেই বেশী প্রচলিত ছিল। সাধারন অবস্থা সম্পন্ন পরিবারে এ ধরনের বিলাসিতার সঙ্গতি আর্থিক কারনেই ছিল না।
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হেসেনের অবরোধ-বাসিনী থেকে-
***********************************
এক ধনী গৃহে কন্যার বিবাহ উপলক্ষে ধুমধাম হইতেছিল। বাড়ি ভরা আত্মীয়-কুটুম্বিনীর হট্টগোল কিছুরই অভাব নেই। নবাগতদিগের জন্যে অনেক নতুন চালাঘর তোলা হইয়াছে। একদিন ভরা সন্ধ্যায় কি করিয়া একটা নূতন খড়ের ঘরে আগুন লাগিল। শোরগোল শুনিয়া বাহির হইতে চাকর-বাকর,লোকজন আসিয়া দেউড়ির ঘরে অপেক্ষা করিতে লাগিল, আর বারংবার হাঁকিয়া জিজ্ঞাসা করিতে লাঘিল, পর্দা হইয়াছে কিনা-তাহারা অন্দরে আসিতে পারিবে কিনা? কিন্তু অন্তঃপুর হইতে কে উত্তর দিবে? আগুন দেখিয়া সকলেরই ভ্যাবাচ্যাকা লাগিয়া গিয়াছে। এদিকে আগুন-লাগা ঘরের ভিতর বিবিরা বলাবলি করিতেছেন যে, প্রাঙ্গনে পর্দা আছে কিনা? সেখানে কোন ব্যাটাছেলে থাকিলে তাহারা বাহির হইবেন কি করিয়া?
অবশেষে এক বুড়ো বিবি ভয়ে জ্ঞানহারা হইয়া উচ্চঃস্বরে বলিলেন, "আরে ব্যাটারা! আগুন নিভাইতে আয় না! এ সময়ও জিজ্ঞাসা - পর্দা আছে কি না?"
তখন সকলে উধর্্বশ্বাসে দৌড়াইয়া আগুন নিভাইতে আসিল। কিন্তু আগুন লাগা ঘরের বিবিরা বাহিরে যাইতে গিয়া যেই দেখিলেন, প্রাঙ্গন পুরুষ মানুষে ভরা, অমনি তাঁহারা পুনরায় ঘরে গিয়া ঝাঁপের অন্তরালে লুকাইলেন। সেীভাগ্যবশত গোটা কয়েক সাহসী তরুন-যুবক তাহাদের টানি হেঁচড়া করিয়া বাহিরে লইয়া আসিলেন। নচেৎ তাঁহারা সেখানেই পুড়িয়া পসেন্দা কাবাব হইতেন।
***********************************
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০০৬ সকাল ৮:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




