আজমল স্যারের ক্লাশে গৎবাঁধা আলোচনার চাইতে মজাদার বিশ্লেষনের মাধ্যমে পাঠদান চলতো বেশী। এখনো সেই ধারা বজায় আছে কি না জানি না .....তবে মিস করি খুব।
আজমলীয় বিবর্তনবাদঃ
আজমল স্যার মহাচিন্তিত। সাথে আমাদেরও চিন্তিায় ফলে দিলেন প্রথম ক্লাশেই। বানরের লেজটা ক্রমাম্বয়ে ছোট হয়ে (লেজটা আস্তে আস্তে ছোট হয়ে গেল নাকি একবারে খসে গেল তার উত্তর এখনো পাইনি) একসময়ে দেহের ভিতরে ঢুকে ভিতর দিকে বাঁকিয়ে গেলো। এ হাড়টার নাম এখন কক্কিস (coccyx).....মেরুদন্ডের ঠিক নীচের অংশ এটি।
স্যারে প্রথমে আমাদের জিজ্ঞেস করলেন "কক্কিসটা ভিতর দিকে না বাঁকিয়ে দেহের বাইরের দিকে বাঁকালে কি কি সুিবধা হতে?" অনেক উত্তর পাওয়া গেলো ছাত্রদের কাছ থেকে, যেমন - (1) কক্কিসটা বাইরের দিকে বাকানো থাকলে অনেকটা হুকের মতো কাজ করতো। কলেজে আসার সময়ে ব্যাগটা কাঁধে না রেখে কক্কিসে ঝুলিয়েই আনা যেতো। (2) মারামারি করার সময়ে কক্কিসটাকে ভালো একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতো। (3) প্রেমিক প্রেমিকারা হয়তো অন্যকোন ভাবে কক্কিসের মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান করতো....ইত্যাদি ইত্যাদি। আরও অনেক সুবিধা বের হয়েছিলো যা এ মুহুর্তে খেয়াল আসছে না।
এতো সুবিধা থাকার পরেও কক্কিস ব্যাটা কেন ভিতরপানে ঢুকে গেলো আজমল স্যার কি এখনো উত্তর খুজে বেড়ান বিবর্তনবাদ থেকে? জানি না।
আজমলীয় জীনতত্ত্বঃ
জীনতত্ত্বের ক্লাশে আজমল স্যার মেন্ডেলের জীনতত্ত্বের একটা অংশ পড়াচ্ছিলেন। মেন্ডেল সাহেব তার দীর্ঘ গবেষনা শেষে যে যুগান্তকারী আবিষ্কারটা করলেন তার একটা অংশ এরকম-"একই বিষয়ে ভালো ও খারাপ গুন সম্পন্ন দুইটি একই প্রজাতির প্রানী/উদ্ভিদের শংকরায়নের ফলে যে নতুন প্রানী/উদ্ভিদসমুহের জন্ম হয় তাদের মধ্যে ঐ বিষয়ে ভালো গুন আসার সম্ভাবনা শতকরা 25 ভাগ আর খারাপ গুন আসার সম্ভাবনা শতকরা 75 ভাগ।"
যেমন ধরা যাক, মটরশুটি ডালের কথা। একটা গাছের বীজের আবরনী মসৃন, আরেকটির বীজের আবরনী অমসৃন। গাছ দুটির মধ্যে নিয়ন্ত্রিত পরাগায়ন ঘটানো হলে যদি চারটি গাছ জন্ম নেয় তাহলে তার মধ্যে একটির বীজের আবরনী হবে মসৃন বাকী তিনটি গাছের বীজের আবরনী হবে অমসৃন।
মূল বিষয়টা আরও জটিল কচকচে। আমি একটু সহজ করে বলার চেষ্টা করলাম।
এবার শুনুন আজমল স্যারের বানীঃ
"বাংলা বদ্্বীপ উর্বরা ও সম্পদশালী ছিলো বিধায় হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে থেকে সুযোগ সন্ধানী বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী এখানে এসে ঘাটি গেড়েছে...স্থায়ী আবাস গড়ে স্থানীয় বিয়ে করে ঘর সংসার করেছে। তাই দেখা যায় বাংগালীদের চেহারার মধ্যেও বিভিন্নজাতির সংমিশ্রন। আর্য-অনার্য-আফ্রিকান-মঙ্গোলিয়ান-ককেশিয়ান সব শ্রেনীর এক অসমসত্ত্ব মিশ্রন এই বাঙ্গালী জাতি। আর তাই মেন্ডেলের জীনতত্ত্ব অনুসারে বিশ্বের প্রায় সমস্ত জাতির সকল নেগেটিভ গুনগুলো আমাদের (বাঙ্গালীদের) মাঝে প্রবল ভাবে বিদ্যমান।"
আজমল স্যারকে হাজার সালাম।
আজমল স্যার যদি কখনো এ ব্লগে ঢু মারেন তাহলে হয়তো দেখবেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গন্ডি ছাড়িয়ে তার বিখ্যাত বানী ইন্টারনেটেও প্রমান করে যাচ্ছে বাঙ্গালীরা! হয়তো নিজের বিশ্লেষনে তিনি নিজেই মুগ্ধ হয়ে যাবেন!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


