somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন আজমল স্যার ও বাঙ্গালীর জীনতত্ত্ব

২৪ শে মে, ২০০৬ সকাল ৮:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজে আমার প্রিয় স্যার ছিলেন গাজী আজমল স্যার। স্যারের বইয়ের সাথে প্রথম বর্ষ থেকেই পরিচয়। দ্্বিতীয় বর্ষে সৌভাগ্য হলো ক্লাশ করার । তবে দুর্ভাগ্য হলো ঠিক যতগুলো ক্লাশ পাওয়ার কথা তা পেলাম না.......এখনো মনো কষ্টে ভুগি।

আজমল স্যারের ক্লাশে গৎবাঁধা আলোচনার চাইতে মজাদার বিশ্লেষনের মাধ্যমে পাঠদান চলতো বেশী। এখনো সেই ধারা বজায় আছে কি না জানি না .....তবে মিস করি খুব।

আজমলীয় বিবর্তনবাদঃ

আজমল স্যার মহাচিন্তিত। সাথে আমাদেরও চিন্তিায় ফলে দিলেন প্রথম ক্লাশেই। বানরের লেজটা ক্রমাম্বয়ে ছোট হয়ে (লেজটা আস্তে আস্তে ছোট হয়ে গেল নাকি একবারে খসে গেল তার উত্তর এখনো পাইনি) একসময়ে দেহের ভিতরে ঢুকে ভিতর দিকে বাঁকিয়ে গেলো। এ হাড়টার নাম এখন কক্কিস (coccyx).....মেরুদন্ডের ঠিক নীচের অংশ এটি।

স্যারে প্রথমে আমাদের জিজ্ঞেস করলেন "কক্কিসটা ভিতর দিকে না বাঁকিয়ে দেহের বাইরের দিকে বাঁকালে কি কি সুিবধা হতে?" অনেক উত্তর পাওয়া গেলো ছাত্রদের কাছ থেকে, যেমন - (1) কক্কিসটা বাইরের দিকে বাকানো থাকলে অনেকটা হুকের মতো কাজ করতো। কলেজে আসার সময়ে ব্যাগটা কাঁধে না রেখে কক্কিসে ঝুলিয়েই আনা যেতো। (2) মারামারি করার সময়ে কক্কিসটাকে ভালো একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতো। (3) প্রেমিক প্রেমিকারা হয়তো অন্যকোন ভাবে কক্কিসের মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান করতো....ইত্যাদি ইত্যাদি। আরও অনেক সুবিধা বের হয়েছিলো যা এ মুহুর্তে খেয়াল আসছে না।

এতো সুবিধা থাকার পরেও কক্কিস ব্যাটা কেন ভিতরপানে ঢুকে গেলো আজমল স্যার কি এখনো উত্তর খুজে বেড়ান বিবর্তনবাদ থেকে? জানি না।

আজমলীয় জীনতত্ত্বঃ

জীনতত্ত্বের ক্লাশে আজমল স্যার মেন্ডেলের জীনতত্ত্বের একটা অংশ পড়াচ্ছিলেন। মেন্ডেল সাহেব তার দীর্ঘ গবেষনা শেষে যে যুগান্তকারী আবিষ্কারটা করলেন তার একটা অংশ এরকম-"একই বিষয়ে ভালো ও খারাপ গুন সম্পন্ন দুইটি একই প্রজাতির প্রানী/উদ্ভিদের শংকরায়নের ফলে যে নতুন প্রানী/উদ্ভিদসমুহের জন্ম হয় তাদের মধ্যে ঐ বিষয়ে ভালো গুন আসার সম্ভাবনা শতকরা 25 ভাগ আর খারাপ গুন আসার সম্ভাবনা শতকরা 75 ভাগ।"

যেমন ধরা যাক, মটরশুটি ডালের কথা। একটা গাছের বীজের আবরনী মসৃন, আরেকটির বীজের আবরনী অমসৃন। গাছ দুটির মধ্যে নিয়ন্ত্রিত পরাগায়ন ঘটানো হলে যদি চারটি গাছ জন্ম নেয় তাহলে তার মধ্যে একটির বীজের আবরনী হবে মসৃন বাকী তিনটি গাছের বীজের আবরনী হবে অমসৃন।

মূল বিষয়টা আরও জটিল কচকচে। আমি একটু সহজ করে বলার চেষ্টা করলাম।

এবার শুনুন আজমল স্যারের বানীঃ

"বাংলা বদ্্বীপ উর্বরা ও সম্পদশালী ছিলো বিধায় হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে থেকে সুযোগ সন্ধানী বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী এখানে এসে ঘাটি গেড়েছে...স্থায়ী আবাস গড়ে স্থানীয় বিয়ে করে ঘর সংসার করেছে। তাই দেখা যায় বাংগালীদের চেহারার মধ্যেও বিভিন্নজাতির সংমিশ্রন। আর্য-অনার্য-আফ্রিকান-মঙ্গোলিয়ান-ককেশিয়ান সব শ্রেনীর এক অসমসত্ত্ব মিশ্রন এই বাঙ্গালী জাতি। আর তাই মেন্ডেলের জীনতত্ত্ব অনুসারে বিশ্বের প্রায় সমস্ত জাতির সকল নেগেটিভ গুনগুলো আমাদের (বাঙ্গালীদের) মাঝে প্রবল ভাবে বিদ্যমান।"

আজমল স্যারকে হাজার সালাম।

আজমল স্যার যদি কখনো এ ব্লগে ঢু মারেন তাহলে হয়তো দেখবেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গন্ডি ছাড়িয়ে তার বিখ্যাত বানী ইন্টারনেটেও প্রমান করে যাচ্ছে বাঙ্গালীরা! হয়তো নিজের বিশ্লেষনে তিনি নিজেই মুগ্ধ হয়ে যাবেন!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করে বিএনপির কুলাঙ্গাররা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০

এক আওয়ামী ব্লগার আমাকে প্রশ্ন করছে আপনি তো বিএনপি করেন তাহলে জামাতের পক্ষে পোস্ট দেন কেন। উত্তরা এই পোস্টের শিরোনামে আছে। আমার উত্তর হচ্ছে আমি জামাতও করি না।

আমার পরিবার,আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুইশো নয় আসন নিয়েও কেন অন্যদের বাসায় যেতে হচ্ছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০৯


নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় একধরনের উৎসবের আমেজ ছিল। স্ট্যাটাস, পোস্ট, কমেন্ট—সবখানে একই সুর। বিএনপি দুইশো নয়টা আসন পেয়েছে, জামায়াত মাত্র সাতাত্তর, দেশ এবার ঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাতের নিশ্চিত ভূমিধ্বস পরাজয়ের কারন

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪

*** জামাত শিবিরের পচা মস্তিষ্কের কেউ এই পোষ্টে এসে ল্যাদাবেন না***


রাজনীতির ইতিহাসে কিছু পরাজয় থাকে তা কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ভেতর সীমাবদ্ধ নয় সেগুলো হয়ে ওঠে নৈতিক রায়।

জামাতের সাম্প্রতিক নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির যারা আজ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কথা ভাবছেন...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০


১. শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা বারবার বলেছেন, জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের চর ছিলেন, তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। এমনকি তাকে শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলেও বলতেন…
২. খালেদা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধন্যবাদ ড. ইউনূস। আপনিই দেখিয়ে দিলেন।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হাসিনা বিগত ৩টি নির্বাচন এমনভাবে করেছিল যে সেখানে কোন নাগরিককে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হতোনা। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আগের দিন হয়েছে অথবা তাহাজ্জোত পড়ে হয়েছে। এই আগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×