জসীম অসীম সময় পেলেই বনে যান পাখি দেখবেন বলে
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
ফাহমিদা নিপু:
তিনি একজন আলোকচিত্রী , তিনি একজন চিত্রকর এবং একজন লেখক , তিনি জসীম উদ্দিন অসীম। যিনি এখনও সময় পেলেই বনে চলে যান কেবলই পাখি দেখবেন বলে। আলাপে-আড্ডায় জেনেছি , তার জীবনের বিশেষ কোনো লক্ষ্য নেই , যখন যা ভালো লাগে , তখনই তা করেন। নিজের ইচ্ছেকে খুব বেশিই সম্মান দেন তিনি। তাই একসময় ইসলামি ছাত্রশিবিরও করেছেন , বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদীর ফাঁসির দাবিতে এবং তার ‘সেটানিক ভার্সেস’ নিষিদ্ধের দাবিতে মিছিলও করেছেন , পোস্টারিং করেছেন। আবার পরে কোনো একসময় রুশদীর পক্ষ নিয়েও কথা বলতেন। আরও বলতেন কোনো বই-ই নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। এখনো তিনি নিজের ইচ্ছেমতোই একজন বহুমাত্রিক লেখক।
মূলত: কবিতা দিয়েই একদিন তিনি সাহিত্যের মৌলধারায় অনুপ্রবেশ করেন। তারপর থিয়েটার। বড় কোনো দলে কাজের সুযোগ না থাকলেও থিয়েটার বিষয়ক ব্যাপক লেখাপড়াও করেছেন। করেছেন বিভিন্ন ওয়ার্কশপ। ঢাকায়।
বাংলায় অনার্স পড়ার সময়েই অভিনয়ের প্রতি তার প্রবল একটা ঝোঁক তৈরী হয়। ফলে একাডেমিক লেখাপড়ায়ও যথেষ্ট বিঘœ ঘটে। বাংলায় গ্রাজুয়েশন করেছেন। কিন্তু মাস্টার্স পরীক্ষা দেননি। বাধাও ছিলো অনেক। বাবার সঙ্গে যৌথ পরিবারের হাল ধরেছিলেন। বোনদের বিয়ের লগ্ন এবং মায়ের মৃত্যুও তখন তার জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
তিনি একসময় মৌলবাদীদের পক্ষ নিয়েও কথা বলতেন। সেটা অনেক আগের কথা । সবগুলো ধর্মগ্রন্থের নির্যাস পাঠ করেছেন। ছাত্রশিবির করাকালে যেমন আল-কুরআন বুঝতে চেষ্টা করেছেন , পরে আবার বাইবেল স্কুলের ছাত্রও হয়েছেন। তিনি যে পরিবার থেকে এসেছেন , সেটি রক্ষণশীল ধর্মীয় পরিবার নয়। তাই তার কবিতাতেও রক্ষণশীলতা নেই এবং শেষে তিনি বর্জন করেন মৌলবাদী সব চিন্তাই তার।
খুব বেশি স্বেচ্ছাচারীও ছিলেন। অশিষ্ট আচরণও করতেন মানুষের সঙ্গে। কথা বলতেন তোয়াক্কাহীন ঢঙে। বর্তমানে সেই অবস্থান অনেকটাই পরিত্যাগ করেছেন। বাংলার পাশাপাশি একসময় ইংরেজিতে লেখালেখি করলেও তিনি নিজেকে একজন অসফল লেখক মনে করেন। মনে করেন , তার কোনোই প্রতিভা নেই। তিনি খুবই অস্থির প্রকৃতির একজন লোক। প্রেমের ক্ষেত্রেও । তাই ডান-বাম উভয় রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। তাই একসময় যেমন আফগানিস্তানে গিয়ে জিহাদের স্বপ্ন দেখেছেন , আবার আরেক সময় নেপালের কমিউনিস্ট গেরিলাদের হয়ে যুদ্ধের কথাও ভাবতেন। শেষে বাস্তবায়ন হয়নি কিছুই।
তার কবিতায় রক্ষণশীলতা না থাকলেও তিনি একসময় ইসলামি কবিতাই বেশি লিখতেন। সে সময়ে ফররুখ আহমদ তার প্রিয় কবিদের একজন ছিলেন। তার অনেক কবিতায় সমকালীন যুগের দাবি স্বীকৃত হয়েছে। কবিতায় তিনি আঙ্গিক নিয়েও নানা পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন। জীবন ধারনের ক্ষেত্রে তার যে সংগ্রাম , তা উঠে এসেছে তারই অনেক কবিতায়। প্রথমদিকে তার ইসলামী বিপ্লবের চেতনা ও পরে তার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্বপ্ন তাকে প্রচলিত এ সমাজের সাথে খাপ খাওয়াতে দেয়নি। তিনি এখনও সময় পেলেই বনে চলে যান কেবলই পাখি দেখবেন বলে। আলাপে-আড্ডায় জেনেছি , তার জীবনের বিশেষ কোনো লক্ষ্য নেই , যখন যা ভালো লাগে , তখনই তা করতে চেষ্টা করেন। নিজের ইচ্ছেকে খুব বেশিই সম্মান দেন তিনি। আর তিনি মনে করেন , পাখিই তার বড় বন্ধু ,মানুষের থেকেও বেশি।
প্রথম প্রকাশ : সাপ্তাহিক মুক্তির লড়াই , কুমিল্লা।
৩ সেপ্টেম্বর ২০০৫
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পরিস্থিতি কি জটিল?

আজকের ডায়েরী- ২০৩

খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন
Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা
সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥


শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ
সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।