DACCA হয়েছে DHAKA. COMILLA হয়ে যাবে KUMILLA
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
জসীম উদ্দিন অসীম
এমন একদিন আসবে , যেদিন মানুষ এবং স্থানের ভুল নাম সব ঠিক হয়ে যাবে। সেদিন দূরে নয়। DACCA হয়েছে DHAKA.. আর এইতো সেদিন CALLCUTTA হলো KOLKATA..আমার বিশ্বাস পৃথিবীর সব পঙ্গু নাম এক সময় ঠিক হয়ে যাবে। এমনকি আমাদের COMILLAও হয়ে যাবে-KUMILLA-সেদিন দূরে নয়।
আমার বাবা বাংলাদেশের অনেক ট্রাফিক পুলিশের মতো ছিলেন না , যেসব ট্রাফিক পুলিশের যানজট দেখলে কোনো মাথাব্যথাই হয় না। তাই আমরা অনেক কঠিন নিয়মে বেড়ে উঠেছিলাম। তাই এখন চেষ্টা করেও চোর-বাটপার-টাউট হতে আর পারছি না। শৈশবে পাওয়া শিক্ষাগুলো কোনোভাবেই জীবন থেকে বাদ দিতে পারি না। যেমন অনেকে পারেন না , শেখ মুজিব কিংবা জিয়াউর রহমানের নাম শুনতেই। জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর খাল খনন কর্মসূচিতে মনোযোগ দেন। কোদাল দিয়ে মাটি কেটেও খাল খনন উদ্বোধন করেন জিয়া। সেদিন আওয়ামীলীগের এক নেতা এ বিষয়ে বলেন , এই খাল কেটেই নাকি জিয়া বাংলাদেশে কুমীর এনেছিলেন। আমি বললাম , বন্যা প্রতিরোধে এবং সেচ ব্যবস্থায় খালের কিন্তু গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু তিনি শুধু আমাকে কুমীরের ভয়ই দেখালেন। সেই আওয়ামী নেতার নাম বললে আওয়ামী ধোলাই খাবো , অথচ আমি বিএনপি-কেও দেখতে পারি না।
ডুবুরি যেমন সাগরতলে স্বর্ণ অথবা রতœ খুঁজে , তেমনি আমি ভালো মানুষের খোঁজ করি। কিন্তু পাই কি? কখনো যদি নয়নলোভা যুবতী খুঁজে পাই , যার কাছে স্বর্ণ-রতœ কোহিনূর সবই আছে , কাছে গিয়ে তার হয়তো দেখা গেল চরিত্রটাই নেই , তাহলে থাকলো কী আর তবে।
ঢাকার বইপাড়ার বাংলাবাজার আর নাটকপাড়ার বেইলীরোডে একদা আমার অনেক সময় কেটেছে। ডায়নার চোখের আয়নার মতো চোখওয়ালী দেবীতুল্যা গভীর সুন্দরী নারীও দেখেছি অনেক। এই সুন্দরের নেশাতেই কি আমি মন্দ হতে পারি না? পারিনা। ইদানীং চেষ্টাও করি। কিন্তু পারিনা। পারিনি। পারিনি সচিবালয়ে তদবির পার্টির সদস্য হতে। মুক্তিযোদ্ধাকে পঙ্গু করতে। শেরাটন অথবা ক্লিনটন হোটেলে গিয়ে ‘ঘোলা পানি’ খেতে। তাই এখন এত মাশুল দেই। আবারও কিছু নাম বিষয়ে কথা বলি , যেমন- আমাদের জেলা কুমিল্লা। ইংরেজিতে লিখতে গেলেই লিখি কোমিল্লা। কেন ? কে-এর বদলে সি- দিয়ে বানান বলে বিদেশিদের কেউ কেউ বলে ছোমিল্লা। এর সমাধান দরকার। দলের নাম ফিলিংস। গানের দল। ব্যান্ডগান। শিল্পীর নাম জেমস। কেন যেন মনে হয় টেমস নদীর তীরে তার বাড়ি। দলের নাম ইংরেজিতে , শিল্পীর নামও ইংরেজিতে। কিন্তু তাকে বলা হচ্ছে বাউল। নগর বাউল। আরও উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু বেশি লিখলে খবর আছে। সব অভিজ্ঞতা লেখার মানে নেই। সব চমৎকার অভিজ্ঞতা আসলে চমৎকার নয়। তবু পৃথিবীটা আমার কাছে বড়ই চমৎকার লাগে। সবাইকে খুব অভিজ্ঞ মনে হয়। একটি নোটিশ বোর্ডে আমি একবার নিজের বানানো নোটিশ লাগিয়ে কিছু লোককে যেমন বিভ্রান্ত করতে পেরেছিলাম ছাত্রজীবনে , তেমনি ডিজাইনার ‘অমুক’ তার ডিজাইন দ্বারা কিছু মানুষকে বিভ্রান্তও করছেন। অবশ্য যে অন্যকে বিভ্রান্ত করে , সে নিজেও কখনো কখনো বিভ্রান্ত হয়। আমাদের জেলা কুমিল্লার নাম ইংরেজিতে লিখতে গেলেই লিখি কোমিল্লা। কেন ? কে-এর বদলে সি- দিয়ে বানান বলে বিদেশিদের কেউ কেউ বলে ছোমিল্লা। এর সমাধান দরকার । তা না হলে বিভ্রান্ত হতে হয়। মায়ের বাবা না হলেও ভারতীয় অভিনেতা নানা পাটেকরের নাম শুনেও হঠাৎ কেউ কেউ একটু হলেও বিভ্রাটে পড়েন। কারণ নামের আগেই নানা। যেমন-বাবা জর্দা। খাজা বাবা। পাগলা বাবা।
জনকণ্ঠের রিপোর্টার সমুদ্র হকের সমুদ্রের মতো গভীর রিপোর্ট আমি পড়েছি , লেখক রমজান আলী খান মজলিসের সঙ্গে মজলিসে বসার সুযোগ না হলেও কবিতা পড়েছি ম.আলী ও আকবর হায়দার-এর। প্রবন্ধ পড়েছি রাজনীতি বিষয়ে হায়দার আকবর খান রনো’র। স্কুল ভ্যানের খাঁচায় করে কোথাও যাওয়ার দুর্ভাগ্য আমার কখনো হয়নি। তাই লেখক আঁদ্রে জিদের মতো রাগ বা জিদও আমার নেই। আমি তাই ভালোই আছি। দেশের অবস্থাও এখন খুবই ভালো। যদি আপনি পাকিস্তান প্রেমিক হোন , ডোন্ট ওরি বি হ্যাপী। দুই বাংলা এক না হলেও ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দুই পাকিস্তান এক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারেন। কারণ এদেশে এখন সব সম্ভব। ঋত্বিক কুমারের দুই বাংলা এক হওয়ার স্বপ্ন সফল এক না হলেও যুদ্ধাপরাধীকে দেশপ্রেমিক বানানো সম্ভব। প্রয়োজনে আপনি সব করতে পারেন। নামও বড় করতে চান? করুন-যেমন বিখ্যাত লেখক বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। দেখুন দু’জনের নাম দিয়ে একজনের নাম রাখা হয়েছে। দুখু মিয়া কবিতা লিখেছিলেন। পরে নজরুল হয়েছেন তিনি। এখনও দুখু বাঙ্গাল নামে একজন কবিতা লিখেন। খাওয়ার নামে নাম রাখতে পারেন। যেমন ওমপুরী। ভারতীয় অভিনেতা। আপনারা বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’ পড়ে ‘অপু-দুর্গা’র কাহিনী জানেন। অপু কিন্তু ছেলে। বিটিভির অভিনেত্রী অপু হলেন মহিলা। তবে শিল্পী সরকার অপু। সালমান রুশদী ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ লিখে এক প্রকার পলাতক। আবু রুশদ দেশেই আছেন। নামে কতো মিল। একজন মেহেদী কবিতা লিখেন। শফিক আলম মেহেদী। গজল শিল্পী মেহেদী হাসান , কতো বিখ্যাত। অন্যজন মেহেদী হাসান কিন্তু আবৃত্তিকার। কে যে শওকত আলী আর কে যে শওকত ওসমান , তা অনেকেই ঠাহর করতে পারেন না। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বে’নজীর ভুট্টো। বাংলাদেশের একজন বেনজীর আহমেদ। আরেকজন খুব কাছ দিয়ে গেছেন। ব’নজীর আহমদ। ধাক্কা লাগার উপক্রম। এক বিজ্ঞানলেখকের নাম আব্দুল্লাহ আল মুতী। মুতী নামটাকে কেমন মনে হয়? শায়েস্তা খান। এমিল জোলা। ‘জোলা’ বলতে আমাদের গ্রামাঞ্চলে বোকাদের বুঝানো হয়। আকিলা রাব্বী। কুমিল্লার এক পত্রিকা সম্পাদকের মেয়ের নাম। শাকিলা জাফর। সংগীতশিল্পী। ফুলন দেবী। জীবনে অনেকবার ফুলে ফুঁসে দেখেয়েছেন। আরজ আলী মাতুব্বর। কী নতুন রকম নাম। ফটো সাংবাদিকের নাম রফিকুর রহমান রেকু। মীর আহম্মদ মীরু। ওসব নাম জননন্দিত। কিন্তু অবাক লাগে শুনলে। থমকে দাঁড়াতে হয়। আমার এক শিক্ষক ছিলেন। গবেষক। আবদুল মান্নান সৈয়দ। এক কবির সঙ্গে ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমির একই মঞ্চে বসে কবিতা পাঠ করে গৌরববোধ করেছিলাম। তিনি সৈয়দ শামসুল হক। তিনি ‘সৈয়দ’ আগে নিয়ে এসেছেন। এক কবি সৈয়দ হায়দার। ‘সৈয়দ’ বিশেষ নাম নয়। হায়দারও না। এক প্রকার নামের লেজটেজ। তার মূল নামই যেন নিখোঁজ। যেমন মোহাম্মদ উল্লাহ। আমার বর্তমান শ্বশুর । তারও মূল নামই নিখোঁজ। আরও সৈয়দ আছেন। হায়দারও। সৈয়দ হায়দার। দাউদ হায়দার। রশিদ হায়দার। মাকিদ হায়দার। জহির হায়দার। জাহিদ হায়দার। মোফাজ্জল হায়দার। পত্রিকার নাম আনন্দবাজার পত্রিকা , বাংলাবাজার পত্রিকা...। কুমিল্লাতে এখনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নায়ক হিটলার, চার্চিল, রুজভেল্টরা বেঁচে আছেন। স্টালিনতো কবিই। রেজাউদ্দিন স্টালিন। এসব নামের তাৎপর্য কি সাধারণ মানুষ জানে ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ভাস্কর্য ‘অপরাজেয় বাংলা’র সামনে দাঁড়িয়ে ১৯৯১ সালে এক টোকাইকে বলেছিলাম , ভাস্কর্যটির নাম জানো? বললো , জানি। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম-কী?
‘পাথ্থর দিয়া মানুষ বানাইছে আর কী , খাইয়া তো কোনো কাম পায় না , কী আর করবো ? ’ ফিরে এসে এ বিষয়ে একটি কবিতা লিখেছিলাম---পত্রিকার শিশুদের পাতায়। তখন প্রায় নিয়মিতই লিখেছি সেই পত্রিকায়। কখনো ‘বাংলার বাণী’তে। জসীম উদ্দিন অসীম নামে। একদিন দেখলাম প্রত্যয় জসীমের লেখা। কুমিল্লায় ফিরে জসীম উদ্দিন চাষীর দেখাও পাই। এমন আরও অনেক ঘটনা রয়েছে , স্মৃতিতে নেই। কফি খাইনা বহুদিন। কফি খেলে হয়তো মনে থাকতো। কারণ কফি স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। চঞ্চল শাহরিয়ার। গল্প লিখেন। তার চঞ্চলতা আমার চেয়ে বেশি কী না , জানি না। অনেকে তোতলায়ে কথা বলেও নাম বাঁকা করে ফেলে। আমার ছোটবেলার গ্রামের সহপাঠি বুদারবাড়ির মতিনের ছেলে মোস্তফা যদি বলতো , স্যার আমাকে ছুটি দেন। শোনা যেত , স্যার আমারে ছু-ছু-ছুদি দেন। একে তো আঞ্চলিক ভাষা , তার উপর তখন সে ছিল তোতলা। পরে তার তোতলামি দূর হয়েছিল। অনেকে তোতলায়ে কথা বলেও নাম বাঁকা করে ফেলে। আমার ছোটবেলার গ্রামের সহপাঠি বুদারবাড়ির মতিনের ছেলে মোস্তফার তোতলামি পরে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কুমিল্লার ইংরেজি বানান আর ঠিক হয় না। বার্মা হয়েছে মায়ানমার। পিকিং হয়েছে বেইজিং। কেমন যেন বেজি বেজি শোনায়। DACCA হয়েছে DHAKA. আর এইতো কয়েকবছর আগে CALLCUTTA হলো KOLKATA..আমার বিশ্বাস জ্যোতিষীর ওপেন চ্যালেঞ্জের মতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে পৃথিবীর সব পঙ্গু নাম এক সময় ঠিক হয়ে যাবে। এমনকি আমাদের জেলা COMILLA-ও হয়ে যাবে-KUMILLA-সেদিন দূরে নয়।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পরিস্থিতি কি জটিল?

আজকের ডায়েরী- ২০৩

খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন
Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা
সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥


শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ
সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।