
৩০ ফাল্গুন ১৪০২, পশ্চিম চান্দপুর, কুমিল্লা।
==========================
সকালে কুমিল্লার তরুণ গল্পকার মামুন সিদ্দিকী ও ‘আপন’ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক মোতাহার হোসেন মাহবুব এসেছিলেন আমাদের বাসায়। আলাপ হলো সৃজনশীল প্রকাশনার বিভিন্ন গ্রন্থ বিষয়ে। একুশের বইমেলা, যা মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে, এ নিয়েও প্রসঙ্গ উঠে আসে ।
মোতাহার হোসেন মাহাবুব বলেন, সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশ বিষয়ে কিছু কথা। বিশেষ করে ঋতুভিত্তিক প্রকাশনার প্রয়োজনীয়তার দিকেও গুরুত্ব দেন তিনি। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা তো নেই।
সন্ধ্যায় আবার বাসায় এসেছিল কুমিল্লার তরুণ কবি মাসুদ আশরাফ। আলোচনা শুরু হলো চিত্রকলা বিষয় নিয়েই। অশ্লীল ছবির প্রসঙ্গও আসে। ছবি আকর্ষণীয় হলেও চিত্রশিল্পীকে সামাজিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গও মনে রাখা দরকার । তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলেও কিছু ছবির নান্দনিকতা অস্বীকারের কোনো উপায়ই নেই।
আসলে মাসুদের কাছে আজ গ্লোসি পেপারে ছাপা চিত্রকলার একটি ইংরেজি বই দেখেই আমার এই অনুভব হয়। কারণ মনে দাগ কাটা এসব ছবিকে শুধু মূল্যবোধের দোহাই দিয়েই চাপা দেওয়া ঠিক নয়। সাহিত্যতত্ত্বের মতো নন্দনতত্ত্বও সম্ভবত আমার এ মতামতের পক্ষে অবস্থান নেবে।
রাতের বেলা কুমিল্লার ‘সাপ্তাহিক আমোদ’ পত্রিকা অফিসে যাই। ওখানে গিয়ে মামুন সিদ্দিকীর লেখা ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের রাজনীতি’ বিষয়ক কলামের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সর্বশেষ কুমিল্লার সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুলের লেখনির প্রসঙ্গও। এই সাংবাদিকের নিজের বাড়ির কাছেই আমাদের ভাড়া বাসা এখন।
মামুন সিদ্দিকীর বাসা কুমিল্লা শহরের বাদুরতলায়। কুমিল্লার নারীনেত্রী ডা. জোবায়দা হান্নানের বাসার কাছেই। তবে আমি বলি ব্রহ্ম মন্দিরের কাছে।
কারণ ঢাকায় যখন ছিলাম, লাইব্রেরীতে রাজা রামমোহন রায় ও তার ব্রাহ্মধর্ম বিষয়েও অনেক পড়েছিলাম। উনিশ শতকের প্রথমদিকে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মধর্ম প্রবর্তন ও ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
একসময় ত্রিপুরার মহারাজ শ্রী বীরচন্দ্র মানিক্য বাহাদুর বর্তমান ফয়জুননেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই ব্রহ্মমন্দির স্থাপনের জন্য ভূমি দান করেন । সেই ভূমিতেই ত্রিপুরার ব্রহ্ম মন্দির স্থাপিত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কালীকচ্ছ গ্রামের আনন্দস্বামীও ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। আর তারই জামাতা ছিলেন কুমিল্লা শহরের বিখ্যাত সিংহ পরিবারের সন্তান গুরুদয়াল সিংহ। তিনিও ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং কুমিল্লার প্রথম পত্রিকা ‘ত্রিপুরা হিতৈষী’ও তিনিই বের করেছিলেন তারই প্রতিষ্ঠিত সেই ঐতিহাসিক ‘সিংহ প্রেস’ থেকে। এই প্রেস থেকেই বিখ্যাত গীতিকার ও সাধক মনোমোহন দত্তের সংগীত গ্রন্থ ‘মলয়া’ও বের হতো।
আমার মুখে এসব প্রসঙ্গ শুনে কুমিল্লার ‘সাপ্তাহিক আমোদ’ পত্রিকার বাকীন ভাই এ বিষয়ে আমার কাছে একটি লেখা চেয়েছেন। দ্রুতই দেবো বলেছি। তাই অতি দ্রুতই আব্বার সাহায্য নিয়ে লিখবো এ লেখা।
নবীনগরের সেই গীতিকার ও সাধক মনোমোহন দত্তের সংগীত গ্রন্থ ‘মলয়া’ আমাকে প্রথম পড়তে দেন এবং ব্যাখ্যা করে বুঝান আব্বাই। সেটা ১৯৮৯ সালে। কুমিল্লা শহরের অশোকতলার বাসায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ভোর ৫:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




