
26 সেপ্টেম্বর, 2004,
মাতৃভবন,
কান্দিরপার,
কুমিল্লা।
=============
শুভপুর স্লুইসগ্লেট দেখাতে যেদিন নিয়ে গেলেন বাবা, ঠিক সেদিনই হারিয়ে গেলো আমার শখের আংটিটি। বাবা তখন সারাপথে হিজলফুল দেখালেন। হিজলফুল দেখেও আমার কমলো না বুকের ব্যথা। সেই হিজলফুল আজও চোখে পড়লে পদ্মার ধু ধু বালুচরের কথা মনে পড়ে আমার। যেমন খেয়াঘাট দেখলেই আমার মনে পড়ে হিজলফুলের কথা।
সেদিনও উষা রাণী পালকে আমি আমার অহংকারের কথা বলেছি। ভাতশালিকের কাঠশালিকের ডানার গন্ধে আমি সারা আকাশে বাবার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি আঁকি।
ডব্লিউ হান্টারের পল্লী বাংলার ইতিহাসের পাতায় পাতায় আমি যেমন ছিদ্দিক মামাকে দেখি, তেমনি ঢাকার নর্থব্রুক হল রোড দিয়েও যেতে যেতে আমার বাবার কথা বারবার মনে হয়েছে।
আমার বাবা আমার অহংকার। তাঁর কথা আমি সকলকেই বলি।
সূর্য যদি ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে বাস করে, বাবা আছেন কতো দূরে এখন?
কিন্তু বাবা আছেন। বাবা আছেন প্রতি মুহর্তে আমার সঙ্গেই। আগরতলার দুর্জয়নগরের গল্পে। শুভপুরের স্লুইসগেটের স্মৃতিতে, বাংলার সকল হিজলফুলে, ধলেশ্বরী নদীর জলে, রবীন্দ্রনাথের সহজ পাঠে।
আর আমার ছাঁটাচুলে, ছোট চুলে, শুদ্ধ প্রমিত বচনেও নিশ্চিত বাবা আছেন। বাবা নিশ্চিতই আছেন।
================
কম্পোজ: সাদিয়া অসীম পলি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


