somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাদের কার্ণিশে কাক - (শেষ পর্ব)

২৮ শে মে, ২০০৭ সকাল ৭:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইউএনডিপি-তে চাকরীটা হয়ে যাবে সরণ কল্পনাও করেনি। সিটিসেলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেতন। এক বছরের কন্ট্রাক্ট শেষ করে সরণ যখন পার্মানেন্ট হলো তখন তার জন্য অফিস থেকে গাড়ী। বছরে দু'য়েকবার দেশের বাইরে কনফারেন্সে অফিস ট্যুর। ভীষণ ব্যস্ত সময়। সকাল আটটায় অফিস যাওয়া, ফিরতে ফিরতে রাত। কখনো রাত দশটা। ব্যস্ততায় সময় চলে যায় দ্রুত। মাঝে মাঝে কাক দেখলে কী যেন মনে পড়ে যায়। সরণের মনে হয় - ব্রেনের স্মৃতি কোষের কোনো একটা অংশ জেগে উঠতে চায়। অথচ ঐ অংশটা সরণ অনেকদিন যাবত ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। সরণ বিশ্বাস করে - অনেকটা সময় পেরিয়ে এ স্মৃতিগুলো মারা যাবে একদিন। কেবল সময়ের অপেক্ষা, পলাতক সময়!







জয়া এ নিয়ে পাঁচবার ডাক দিলো।
দরজার কাছে এসে বলে গেছে - টেবিলে নাশতা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, এক্ষুণি এসো।
সরণ প্রতিবারই 'এইতো, এক্ষুণি আসছি' বলে কম্পিউটারের মনিটরে তাকিয়ে থাকে।
জয়া ডায়নিং টেবিলে নিজে নিজে বকে চলেছে - 'বিয়ের পর দু'বছরে ছুটির দিনে বাসায় ছিলে কয়দিন? প্রত্যেক শুক্রবারেই তো ঐ অফিসে যেতে হয় তোমাকে। চেয়ার টেবিল মুছতে হয় কিনা কে জানে! আজ বাসায় আছো, তা-ও মেইল চেক করছো ঘন্টার উপরে---।'
অন্য সময় হলে সরণ এক দৌড়ে ডায়নিংয়ে গিয়ে বসতো।
আজ সে উঠছে না।
আজ অনেকদিন পর বেলা মেইল করেছে।

হাই,
কেমন আছেন? চিনতে পেরেছেন? আমি বেলা। বেলা বোস অথবা ঋতু রায়। প্রায় পাঁচ বছর পর আপনাকে লিখছি। আপনি অনুরোধ করেছিলেন, কখনো যেন আপনাকে মেইল না করি। আমি জানি, আমার ঐ সময়কার ছেলেমানুষীতে আপনি ভীষণ বিরক্ত হয়েছিলেন। আজ এতোদিন পর এসে মনে হলো - আমার ক্ষমা চাওয়ার সময় এসেছে। কী, ক্ষমা করবেন না?
আমি জানি না, আপনি কোথায় আছেন। হয়তো এতোদিনে পুরোদস্তুর সংসারী মানুষ। - - - আমরা গত একবছর ধরে কংগোতে আছি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সাফকাত বাংলাদেশ টীমের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার। আরো তিন-চার বছর এখানে থাকতে হবে। পরিচিত সবাইকে ছেড়ে এখানে একদম ভালো লাগছে না। সরণকেও নেক্সট ইয়ারে স্কুলে ভর্তি করাতে হবে, এখানে ভালো স্কুল নেই। ওহ! আপনাকে বলা হয়নি, আমাদের ছেলের নাম - সরণ। আপনার মতো একজন ভালো বন্ধুর স্মৃতিকে ধরে রাখতেই ওর নাম সরণ রেখেছি। অনেকটা নাটক সিনেমার মতো। হি হি হি।
আপনার খবর পেতে খুব ইচ্ছে করছে। মেইল করবেন কিনা জানি না। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন। 'বন্ধু সবুজ চিরদিন'।
< বেলা >



নাস্তার টেবিলে সরণ বারবার অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ে।
জয়া জিজ্ঞেস করে - কী ব্যাপার কোন সমস্যা হয়েছে?
- না।
- অফিসের কোনো সমস্যা?
- না।
সরণ নির্লিপ্ত।
অনেক এলোমেলো ভাবনা মনে ভীড় করছে আজ।
কাক-সরণ-কাক মনে পড়ছে।
অনেক চেষ্টা করেও বেলার মেইল জমানো সেই ফাইলের পাসওয়ার্ড মনে পড়ছে না।
মনে পড়ছে অনেক কিছু - - -।


(শেষ)
৭১টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কমলা রোদের মাল্টা-১

লিখেছেন রিম সাবরিনা জাহান সরকার, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:১৫



চারিদিক রুক্ষ। মরুভূমি মরুভূমি চেহারা। ক্যাকটাস গাছগুলো দেখিয়ে আদিবা বলেই ফেলল, ‘মনে হচ্ছে যেন সৌদি আরব চলে এসেছি’। শুনে খিক্ করে হেসে ফেললাম। টাইলসের দোকান, বিউটি পার্লার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেপ্টেম্বর ১১ মেমোরিয়াল ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-২

লিখেছেন রাবেয়া রাহীম, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৮:০০



২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ধসে পড়ে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার খ্যাত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের গগনচুম্বী দুটি ভবন। এই ঘটনার জের ধরে দুনিয়া জুড়ে ঘটে যায় আরও অনেক অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ২১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৯



সুমন অনুরোধ করে বলল, সোনিয়া মা'র জন্য নাস্তা বানাও।
সোনিয়া তেজ দেখিয়ে বলল, আমি তোমার মার জন্য নাস্তা বানাতে পারবো না। আমার ঠেকা পরে নাই। তোমার মা-বাবা আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চন্দ্রাবতী

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪১


চন্দ্রাবতী অনেক তো হলো পেঁয়াজ পান্তা খাওয়া........
এবার তাহলে এসো জলে দেই ডুব ।
দুষ্টু স্রোতে আব্রু হারালো যৌবন।
চকমকি পাথর তোমার ভালোবাসা ।
রক্তমাখা ললাট তোমার বিমূর্ত চিত্র ,
আমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই নোবেল বিজয়ী নিজ দেশে রাজনৈতিক কুৎসার শিকার

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪০

সুয়েডীয় বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালে করে যাওয়া একটি উইলের মর্মানুসারে নোবেল পুরস্কার প্রচলন করা হয়। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×