অনেক দিন পর আবার তার প্রিয় সেই হলুদ পাঞ্জাবী টা পড়েছে সাইফ। রাত প্রায় ৩ টা। জনমানহীন শহরতলীর ব্যস্ত রাস্তায় ও এখন শুন শান নীরবতা। সাইফ রাস্তার ধারের ল্যাম্পপোস্ট টার নিচে বসে আছে। ভাবছে একজনের কথা যে তার জীবনটাকে কয়েকদিনেই পাল্টে দিয়েছিল। এখন সে নেই। আর সাইফ ও সেই আগের সাইফ নেই।
সাইফ মায়ার কথা ভাবছিল। ঢাকা ভার্সিটিরর ছাত্র হওয়ার সুবাদের মায়ার সাথে সাইফের পরিচয়। ডিপার্টমেন্ট এর একটা কোর্স করতে হয়েছি জুনিয়র সিনিয়র একসাথে। মায়া সাইফের ২ বছরের ছোট। সেখানেই মায়ার সাথে প্রথম দেখা সাইফের। স্বভাবোতই দুই বছরের সিনিয়র হওয়ার সুবাদে সাইফ কে ভাইয়া বলেই ডাকতো মায়া। তার দুইজন এক ই গ্রপে থাকায় প্রতিদিন ই দেখা হতো আর একসাথে কাজ করতো সবসময়।
এভাবেই হঠাৎ এ সাইফের ভালো লাগতে শুরু করলো মায়াকে। মায়ার সেই খুনসুটি, লম্বা চুল, লাল ঠোটের মাঝখানের মিষ্টি হাসি সব কিছুকেই ভালো লাগতো সাইফের। এভাবে করেই একদিন সাইফ মায়াকে তার মনের কথা বলে ফেললো। মায়া প্রথমত না করলেও পরে সাইফকে গ্রহন করে নিলো। শুরু হলো তাদের নতুন জীবন। এরপর থেকে মায়া তার সেই সাইফ ভাইয়াকেই বাদর বলে ডাকতো। বাদর প্রানীটা খারাপ হলেও মায়ার মুখে বাদর শুনতে সাইফের তেমন খারাপ লাগতো না। সাইফ মায়াকে মিষ্টি বউ বলে ডাকতো। সপ্তাহে এক দিন তারা বিভিন্ন যায়গায় ঘুরতে যেত। তাদের দিন ভালোই কাটছিল।
সাইফ তখন ফাইনাল ইয়ারে আরর মায়া সেকেন্ড ইয়ারে। হঠাত ই একদিন মায়া সাইফের সাথে জরুরী দেখা করতে চাইলো, তারা দেখা করলো সেই গাছটির তলায় যেখানে তারা প্রথম দেখা করেছিল,
-আমাকে বিয়ে করবে?
-কী? কবে?কখন?
-আজ, এখন, করবে?
-এটা কী বলছো তুমি? মায়া
-যা বলছি ঠিক ই বলছি, বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে(কাদতে কাদতে বললো মায়া)
-এটা অসম্ভব।
সাইফ মায়াকে বুকে জড়িয়ে ধরলো।ভাবতে লাগলো এখন কী করবে সে।বাড়িতে অসুস্থ মা, এছাড়া তাদের পরিবারের অবস্থা ও অতটা ও ভালো না।এই সব কিছু ভেবে মায়াকে আর হ্যা বলতে পারলো না সাইফ। সারারাত ঘুম হলনা সাইফ এর।তিন চার দিন হয়ে গেলো মায়া ক্যাম্পাসে আসেনা।হঠাত ই একদিন সাইফ শুনতে পেল মায়ার বিয়ে হয়ে গেছে।সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলো না।তার মায়া অন্য কারোর হয়ে গেছে। মায়া নাকি আজ বিকালের ফ্লাইটেই আমেরিকা চলে যাবে। সাইফ তাড়াতাড়ি করে এয়ারপোর্ট গেলো। সে মায়াকে পেলনা। সে যাওয়ার আগেই প্লেন ছেড়ে দিয়েছে। সে নিজেকে এর জন্য দায়ী মনে করলো।
এই সবকিছু ভাবতে ভাবতে হঠাত সাইফের খেয়াল হলো সে এখনো ল্যাম্পপোস্টের নিচেই বসে আছে। এসব ভাবতে ভাবতে তার মাথাটা ভাড়ি হয়ে গেছে। সে উঠে দাড়ালো। হাটতে লাগলো নির্জন রাস্তা দিয়ে। হঠাত ই একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে লাগলো। শব্দটা ক্রমশ ক্ষীন হয়ে গেলো। সে একটি মেয়েকে দেখলো। শাড়ি পড়া একটি মেয়ে।হুম, মেয়েটি মায়া। কিন্তু সে ছুতে যাওয়াই মেয়েটি হারিয়ে গেল। সে ভাবলো সে কাকে খুজছে? মায়াকে? যে কিনা তার জীবন থেকে চীরজীবনের মত হারিয়ে গিয়েছে।
আকাশের কোনে এক চিলতে মেঘ জমেছে। সাইফ হাটছে একাকী আর ভাবছে যদি এই এক চিলতে মেঘ থেকে বৃষ্টি নেমে তার সব দুঃখ গুলোকে ধুয়ে দিতো কতই না ভালো হতো।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


