কূ ঝিক ঝিক, কূ ঝিক ঝিক..........
ট্রেনটা ছেড়ে দিলো কমলাপুর স্টেশন থেকে।
গন্তব্য চট্টগ্রাম। অনেকদিন পর গ্রামে যাচ্ছে
ফাহিম। নীলা বেচে থাকতে তাকে নিয়ে একবার
গিয়েছিল গ্রাম দেখানোর উদ্দেশ্যে,
নীলা ফাহিম এর প্রেমিকা ছিলো। আজ প্রায় ৬
মাস হতে চললো নীলা নেই। নীলার ব্লাড
ক্যান্সার ক্যানসার ছিলো। এমন ই এক ক্লান্তি
ভরা দুপুরেই হাসপাতালের গন্ধ মাখা বেডে সুয়েই
ফাহিমকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিল
নীলা। সব স্মৃতি কল্পনাকে মুক্তি দিয়ে নিজের
ভাগশেষ টুকু রেখেই অজানার পথে পাড়ি দিলো
সে।
স্বভাবোতই ঈদের দিন বা কোন উৎসব না
হওয়ার কারনে ট্রেনে ভীর নেই বললেই চলে।
কয়েকজন লোকের আনাগোনা নিয়েই সর্পিল
গতিতে চলছে ট্রেন। ফাহিম একা একটি সিটে বসে
আছে, তার সামনের সিটটি একারেই খালি।
জানালায় মুখ দিয়ে বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য
দেখছে আর নীলার কথা ভাবছে। নীলা আজ
থাকলে হয়তো পাশের সিট টা খালি থাকতো না.....
হঠাৎ কিঞ্চিৎ জোরে একটা শব্দ হলো "ধপাস"।
ফাহিম জানালা থেকে মাথাটা সরিয়ে ট্রেনের
ভেতরের দিকে তাকালো। একটি মেয়ে এসে
বসেছে তার পাশের সিটে। সে একবার মেয়েটির
দিকে তাকিয়ে কোন আগ্রহ না দেখিয়ে ঠায়
বাহিরের দিকেই তাকিয়ে রইলো।তবে মেয়েটা বেশ
চটপটে তা বুঝতে সময় লাগলোনা ফাহিমের।
প্রায় ২০ মিনিট পর...
-এই জে মশাই..
-জ্বী!!কিছু বলছেন???
-জ্বী আপনাকেই বলছি
-বলুন
-আপনি এমন কেন
-কেমন
-এইজে গোমড়া মুখো
-কই!! না তো
-এতক্ষন ধরে এসেছি একটা কথাও বলছেন না
-না এমনি!! আপনি বলুন
-আমার নাম মালিহা! আপনার নাম
-জ্বী!! ফাহিম
এভাবেই কথা শুরু। তারপর অনেক কথা হলো
তাদের মধ্যে। ১২ ঘন্টার ট্রেন জার্নি যেন
ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছিল।
মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দর ছিলো। ঠিক যেন
পরীর মতো। মেয়েটার সাথে কথা বলে, আচরন
দেখে ফাহিমের কেমন যেন একটা আলাদা অনুভুতি
জন্ম নিলো।কেন যেন হঠাত নীলার কথা মনে
পড়লো, মালিহা যেন নীলার ই প্রতিবিম্ব। নীলার
মতই ছটফটে, সুকেশী। মানুষকে খুব অল্পতেই
আপন করে নেয়।
মালিহা এখন ঘুমাচ্ছে। ট্রেনের জানালা দিয়ে
প্রবাহিত হওয়া বাতাসে তার চুল গুলো বার ববার
উড়ে এসে মুখের উপর পড়ছে । অনেক মায়াবী
লাগছে দেখে। ফাহিম একনজরে মেয়েটাকে
দেখছে।
হঠাত একটা বিকট শব্দে সব কেমন যেন ওলট-
পালট হয়ে গেল। ট্রেনটা ক্রাস করেছে। একেকটি
বগি একেকদিকে ছিটকে পড়েছে। ফাহিমের মাথাটা
ফেটে রক্ত মুখ চুইয়ে পড়ছে। ফাহিম ল্যাংরাতে
ল্যাংরাতে ট্রেন থেকে বের হলো। অন্ধকারের
মধ্যেও সে মালিহা কে খুজছে। হঠাত সে একটা
লাশের সাথে ল্যাং খেয়ে পড়ে গেলো। লাশটি
একটি মেয়ের। উবুথ হয়ে পড়ে আছে। ফাহিম
লাশটিকে ধরে উল্টালো,
হুম এইটা মালিহার লাশ। মালিহা আর নেই। ধরনীর
মায়া ত্যাগ করেছে।
ফাহিম মালিহার নিথর দেহটির পাশে বসে আছে।
চোখ দিয়ে পানি আর মাথায় দিয়ে রক্ত দুটোই
অঝর ধারায় বয়ে চলেছে। বসে থাকতে থাকলে
হঠাত অজ্ঞান হয়ে গেল ফাহিম।
পশ্চিম পাশে বগিটায় দাউ দাউ করে আগুন
জ্বলছে। দূরে কিছু কুকুর ঘেউ ঘেউ করে
ডাকছে.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


