somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্যাগ

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিদিনের মতই এক আলসে দুপুরে খুনসুটিতে ব্যস্ত নিয়াজ আর রামিম। দুইজন বেষ্ট ফ্রেন্ড, সেই ক্লাস সেভেন থেকে। এখন তারা ইন্টার ফাস্ট ইয়ার এ পড়ছে। দুইজনের যেন দুই শরীর কিন্তু এক ই আত্মা। সারাদিন একজন আরেকজনের সাথে লেগে থাকে। একজনকে ছাড়া যেন আরেকজন অচল। আর দুইজন ই ক্লাসের সবচেয়ে ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। ক্লাসের প্রথম আর দ্বিতীয় স্থানটি কখনই যায়নি অন্য কারো নখদর্পণে তাদের ছাড়া। ক্লাসে বকা খেলেও দুজন একসাথেই খায়।

ক্লাস নাইন থেকে ক্লাস টেইন এ ঊঠলো তারা। স্বভাবতই তারা এখন স্কুলের সবচেয়ে সিনিয়র স্টূডেন্ট, আলাদা একটা ভাব আছে, একদিন রামিম নিয়াজ কে বললো,
-দোস্ত এত্ত বড় হইয়া গেছি প্রেম না করলে চলে?
-হ দোস্ত আসলেই
-তুই তোর লইজ্ঞা একটা ভাবী খোজ
-মানে? আমার তো ভাই ই নাই
-আরে শালা আমার বউ তোর ভাবী
-আগে তুই খোজ

এভাবে তাদের ভাবনা বদলে গেলো, এখন মিশন গার্লফ্রেন্ড। তাদের ক্লাসে বেশ কয়েকটি মেয়েই খুব সুন্দর ছিলো, কিন্তু রামিম আবার ময়দা(ফেস পাউডা) এক্কেবারেই সহ্য করতে পারেনা, তাই রামিমের চোখে তারা শুধুই পাউডার বিবি, প্রেমিকা হওয়ার যোগ্য নয়। একটা মেয়ে ছিলো, নাম তার নীলা, অনেক সুন্দর কিন্তু অতটাও স্মার্ট বা পাউডার গার্ল না। ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ও বটে। রামিম নীলাকে মনে মনে ভাবতে শুরু করলো, ক্লাসের অন্যান্য মেয়েরা তো নিয়াজ, রামিম এর কথা শুনলেই ফিদা, এত্ত ব্রিলিয়ান্ট। এছারা রামিমের চেহারা ছিলো হিরোদের মত।

যেহেতু রামিমের নামে ক্লাসের সব মেয়েরাই ফিদা তাই নীলার নাম্বারটি জোগার করতে খুব বেশী খাটতে হলনা রামিমের। একদিন রামিম সাহস করে নীলাকে একটা মেসেজ দিলো,
-কেমন আছেন
-ভালো, কে আপনি?
-মনে করুন আপনার এক শুভাকাঙ্খী
-ওরে বাবা, আমার আবার শুভাকাঙ্খী আছে জানতাম না তো
-এখন তো জানলেন, চলবে না?
-ভেবে দেখি
এভাবেই মেসেজিং এ কথা হতো তাদের। এক সময় রামিম নিলা কে তার পরিচয় দিলো, নীলা অবাক হলেও মানিয়ে নিলো। আস্তে আস্তে ফোনে কথা, ফেসবুকে চ্যাটিং করতে করতে রামিম তার ভালোবাসার কথা বলেই ফেললো নিলা কে। নিলা প্রথমে আপত্তি করলেও পরে রাজি হলো।

রামিম ভাবছিলো কিছুদের মধেই নিয়াজকে ঘটনা টা বলবে। বলার আগেই নিয়াজ একদিন রামিম কে বললো,
-দোস্ত তুইতো খুইজা দিলিনা
-কী
-গার্লফ্রেন্ড ! তাই আমি নিজেই একটা বাছাই করলাম
-কস কি, কে সে?
-আমাদের ক্লাসের ই
-কে কে, তাড়াতাড়ি বল
-নিলা
নিয়াজের মুখ থেকে নিলার নামটি শুনে রামিম মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। নিয়াজ তার জানের দোস্ত, তাকে সে কখনোই কষ্ট দিতে পারবেনা। সারাদিন বিষয়টা নিয়ে ভেবে আর ভালো লাগছিলোনা রামিমের, কী করবে সে এখন?.

সারাদিন ভেবে নিয়াজ সিদ্ধান্ত নিলো সে নিয়াজকে কষ্ট দিতে পারবেনা। সে নিলাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলো, সে নিলাকে বললো সে বাজি ধরে রিলেশন করেছে, আসলে সে নিলাকে ভালোই বাসতোনা, নিলা খুব কষ্ট পেল আর খুবব কাদলো,নিলার মন খুব বিমর্ষ হয়ে রইলো। ঠিক তখনি নিয়াজ এসে নিলাকে তার ভালোবাসার কথা জানালো, নিলার তার কষ্টাটাকে কিছুটা ভাগ করে নিতে নিয়াজকে গ্রহন করলো নিয়াজ ও তার ভালোবাসার চাদরে নিলা নামক মিষ্টি মেয়েটাকে জড়িয়ে নিল।

পরে অবশ্য নিলা জানতে পেরেছিল যে রামিম সত্যিই তাকে ভালোবাসতো, আর শুধু নিয়াজের জন্যই সে এত বড় ত্যাগ করেছে, কিন্তু নিয়াজ কোনদিন ই জানতে পারলোনা তার সেই পাগল,ফানি বন্ধুটি তাকে কতটা ভালোবাসে, তার জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারে।

এরপর থেকে রামিম আর কখনোই প্রেমে জড়ায়নি। এরপর অনেক প্রস্তাব পেয়েছে, সবাইকে ফিরে যেতে হয়েছে শূণ্য ঝুলি নিয়ে। প্রেম জিনিসটা এখন তার কাছে শুধুই একটা অতীত।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×