প্রতিদিনের মতই এক আলসে দুপুরে খুনসুটিতে ব্যস্ত নিয়াজ আর রামিম। দুইজন বেষ্ট ফ্রেন্ড, সেই ক্লাস সেভেন থেকে। এখন তারা ইন্টার ফাস্ট ইয়ার এ পড়ছে। দুইজনের যেন দুই শরীর কিন্তু এক ই আত্মা। সারাদিন একজন আরেকজনের সাথে লেগে থাকে। একজনকে ছাড়া যেন আরেকজন অচল। আর দুইজন ই ক্লাসের সবচেয়ে ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। ক্লাসের প্রথম আর দ্বিতীয় স্থানটি কখনই যায়নি অন্য কারো নখদর্পণে তাদের ছাড়া। ক্লাসে বকা খেলেও দুজন একসাথেই খায়।
ক্লাস নাইন থেকে ক্লাস টেইন এ ঊঠলো তারা। স্বভাবতই তারা এখন স্কুলের সবচেয়ে সিনিয়র স্টূডেন্ট, আলাদা একটা ভাব আছে, একদিন রামিম নিয়াজ কে বললো,
-দোস্ত এত্ত বড় হইয়া গেছি প্রেম না করলে চলে?
-হ দোস্ত আসলেই
-তুই তোর লইজ্ঞা একটা ভাবী খোজ
-মানে? আমার তো ভাই ই নাই
-আরে শালা আমার বউ তোর ভাবী
-আগে তুই খোজ
এভাবে তাদের ভাবনা বদলে গেলো, এখন মিশন গার্লফ্রেন্ড। তাদের ক্লাসে বেশ কয়েকটি মেয়েই খুব সুন্দর ছিলো, কিন্তু রামিম আবার ময়দা(ফেস পাউডা) এক্কেবারেই সহ্য করতে পারেনা, তাই রামিমের চোখে তারা শুধুই পাউডার বিবি, প্রেমিকা হওয়ার যোগ্য নয়। একটা মেয়ে ছিলো, নাম তার নীলা, অনেক সুন্দর কিন্তু অতটাও স্মার্ট বা পাউডার গার্ল না। ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ও বটে। রামিম নীলাকে মনে মনে ভাবতে শুরু করলো, ক্লাসের অন্যান্য মেয়েরা তো নিয়াজ, রামিম এর কথা শুনলেই ফিদা, এত্ত ব্রিলিয়ান্ট। এছারা রামিমের চেহারা ছিলো হিরোদের মত।
যেহেতু রামিমের নামে ক্লাসের সব মেয়েরাই ফিদা তাই নীলার নাম্বারটি জোগার করতে খুব বেশী খাটতে হলনা রামিমের। একদিন রামিম সাহস করে নীলাকে একটা মেসেজ দিলো,
-কেমন আছেন
-ভালো, কে আপনি?
-মনে করুন আপনার এক শুভাকাঙ্খী
-ওরে বাবা, আমার আবার শুভাকাঙ্খী আছে জানতাম না তো
-এখন তো জানলেন, চলবে না?
-ভেবে দেখি
এভাবেই মেসেজিং এ কথা হতো তাদের। এক সময় রামিম নিলা কে তার পরিচয় দিলো, নীলা অবাক হলেও মানিয়ে নিলো। আস্তে আস্তে ফোনে কথা, ফেসবুকে চ্যাটিং করতে করতে রামিম তার ভালোবাসার কথা বলেই ফেললো নিলা কে। নিলা প্রথমে আপত্তি করলেও পরে রাজি হলো।
রামিম ভাবছিলো কিছুদের মধেই নিয়াজকে ঘটনা টা বলবে। বলার আগেই নিয়াজ একদিন রামিম কে বললো,
-দোস্ত তুইতো খুইজা দিলিনা
-কী
-গার্লফ্রেন্ড ! তাই আমি নিজেই একটা বাছাই করলাম
-কস কি, কে সে?
-আমাদের ক্লাসের ই
-কে কে, তাড়াতাড়ি বল
-নিলা
নিয়াজের মুখ থেকে নিলার নামটি শুনে রামিম মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। নিয়াজ তার জানের দোস্ত, তাকে সে কখনোই কষ্ট দিতে পারবেনা। সারাদিন বিষয়টা নিয়ে ভেবে আর ভালো লাগছিলোনা রামিমের, কী করবে সে এখন?.
সারাদিন ভেবে নিয়াজ সিদ্ধান্ত নিলো সে নিয়াজকে কষ্ট দিতে পারবেনা। সে নিলাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলো, সে নিলাকে বললো সে বাজি ধরে রিলেশন করেছে, আসলে সে নিলাকে ভালোই বাসতোনা, নিলা খুব কষ্ট পেল আর খুবব কাদলো,নিলার মন খুব বিমর্ষ হয়ে রইলো। ঠিক তখনি নিয়াজ এসে নিলাকে তার ভালোবাসার কথা জানালো, নিলার তার কষ্টাটাকে কিছুটা ভাগ করে নিতে নিয়াজকে গ্রহন করলো নিয়াজ ও তার ভালোবাসার চাদরে নিলা নামক মিষ্টি মেয়েটাকে জড়িয়ে নিল।
পরে অবশ্য নিলা জানতে পেরেছিল যে রামিম সত্যিই তাকে ভালোবাসতো, আর শুধু নিয়াজের জন্যই সে এত বড় ত্যাগ করেছে, কিন্তু নিয়াজ কোনদিন ই জানতে পারলোনা তার সেই পাগল,ফানি বন্ধুটি তাকে কতটা ভালোবাসে, তার জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারে।
এরপর থেকে রামিম আর কখনোই প্রেমে জড়ায়নি। এরপর অনেক প্রস্তাব পেয়েছে, সবাইকে ফিরে যেতে হয়েছে শূণ্য ঝুলি নিয়ে। প্রেম জিনিসটা এখন তার কাছে শুধুই একটা অতীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


