somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপ্রাপ্তির নিষ্ঠুর সমাপ্তি

০১ লা মে, ২০১৫ সকাল ৯:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাস্তার পাশেই ছোট্ট একটা চায়ের দোকান, জহুরুল হক হলের হলের ঠিক সামনেই। কয়েকজন লোক(রিকশাওয়ালা টাইপের) বসে চার খাচ্ছিল আর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিল। সজীব মাত্র হলের গেট থেকে বের হয়েছে, চায়ের দোকানে এসে বসেছে এক কাপ চা খাবে বলে। এমন সময় কথাপ্রসঙ্গে এক রিকশাওয়ালা অন্য একজন কে ছোট্ট একটা সিগারেট দেখিয়ে বললো, ""ভাই, জিনিসটা ছোট হইলে কি অইব মূল্য কিন্তু অনেক"। সজীব বেঞ্চ থেকে উঠে লোকটার হাত থেকে সিগারেট টা নিয়ে মাটিয়ে ফেলে দিলো। সিগারেট টা কে পা দিয়ে পিষতে পিষতে বললো, "আমার জীবনটা ও ছোট, কিন্তু তার মূল্য এর চাইতেও বেশী" বলেই হন হন করে চলে গেল, দোকানদার মামা চা সাধলেও সে থামলো না। আর রিকশাওয়ালা টা হা করে সজীবের দিকে চেয়েই রইলো, সজীবের কথার মাথা-মুন্ডু কিছুই না বুঝার কারনে সে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল।

সজীব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের মাষ্টারস এর ১ম বর্ষের ছাত্র। মেধাবী ছাত্র।জহুরুল হক হলে থাকে। ক্লাস, টিউশন, বন্ধুবান্ধব এই নিয়ে ভালই চলে যায়। বাবা মা গ্রামে থাকে। প্রতি মাশে টিউশন থেকে ৭ হাজার টাকা পেয়ে ৪ হাজার টাকা বাবা মা'র জন্য পাঠিয়ে দেয়, বাকিটা দিয়ে তারা টেনে-টুনে চলে যায়।

২ বছর আগের কাহিনী, হঠাত করেই কাশতে কাশতে রক্ত বের হয়ে আসে মুখ থেকে। সজীব অজ্ঞান হয়ে যায়। হলের রুমমেট রা ধরাধরি করে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার চেকয়াপ করে রিপোর্ট দেয়, "সজীবের ব্লাড ক্যান্সার"। অনেক দূর গরিয়ে গিয়েছে, হয়তো আর বেশিদিন বাচবে না, ২/৩ বছরের মত বাচবে। সেই থেকেই সজীব সিগারেট খাওয়া বন্ধ করে দেয়। আগে প্রচুর সিগারেট খেত সজীব। বলতে গেলে চেইম স্মোকার ছিল। দিনে ১০/১২ টা ও হয়ে যেত। এখন সেই জিনিসটাকে দেখলেই গা ঘিন ঘিন করে। অন্য কাউকে টানতে দেখলেও আপত্তির শেষ থাকেনা।

গরীব বাবা মা গ্রমে থাকে, সর্বদা তার টাকার অপেক্ষায়। বুড়ো বাবা মাকে সজীব খুব ভালোবাসে, বাবা ফোন করে বলে,
-বাজান, এই টাকা দিয়া তো সংসার চলেনা
-আর কয়েকটা দিন আব্বা। তারপর আমি বড় চাকরী করমু। বড় বাড়ি কিনমু, তোমাগোরে এইখানেই লয়া আমু। তোমরা সুখে থাকবা
-বাজান কবে আইবো এই দিন
-বেশী না আব্বা আর দুই বছর
গরীব বৃদ্ধ বাবা ফোন দিলেই এই বলে সান্তনা দেয় সজীব। সজীবের ক্যান্সারের কথা তার বাবা মা কেউই জানেনা। বৃদ্ধ বাবা মা কে খুব ভালোবাসে সজীব। তাদের কষ্টের জীবনে আর নতু করে কষ্টের যোগ করতে চায়না সে। তাই তাদের আশ্বাস দিয়ে যায়।

সজীব তখন মাষ্টারস ফাইনাল ইয়ারে। বের হতে আর কয়েকদিন, এই সময় সে অনেক বড় একটা কোম্পানী তে চাকরীর অফার পেল। সে তার বাবাকে ফোন দিলো,
-আব্বা আমি চাকরী পাইছি
-হাচা বাজান?
-হ আমি এই মাসের বেতন পায়াই বাড়িত তে তোমাগোরে শহরে লয়া আমু
-ঠিক আছে বাজান(কাদতে কাদতে)

সজীবের বাবা খুব বড় স্বপ্ন দেখে ফেললো। গ্রামের সবাইকে বলে বেড়াতে লাগোলো তার ছেলে চাকরী পেয়েছে, তার আর দুঃখ থাকবোনা তাদের, তাদের ছেলে তাদের ঢাকা নিয়া যাইবো।

এদিকে সজীব ও চাকরীতে জয়েন করেছে। এখনো বাসা নেয়নি, হলে থেকেই যাতায়াত করছে, তার ও চিন্তা প্রথম মাসের মাইনে পেয়েই বাবা-মাকে ঢাকা নিয়ে আসবে। চাকরীর ১৫ দিন যেতে না যেতেই সজীব ক্রমশ অসুস্থ হয়ে যেতে থাকলো, প্রায় সা দিন বিছানায় পরে থাকার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। কয়েকদিন আইসিউ তে থাকার পর সজীব এই ধরনীর মায়া ত্যাগ করলো?।

সজীবের বাবা মা'কে কেউই তার মৃত্যুর খবর দেয়নি। তারা এখনো মনে মনে রঙিন স্বপ্ন দেখছে, তারা ঢাকা যাবে ছেলের সাথে বড় বাড়িতে থাকবে।

হঠাৎ গাড়ির শব্দ পেল সজীবের বাবা। সে ভাবলো তার ছেলে তাদেরকে নিতে গাড়ি নিয়ে এসেছে। দৌড় দিয়ে ঘরের বাইরে গেল, এটা গাড়ি নয় এ্যম্বুল্যান্স। গাড়ি থেকে সাদা পোষাক পড়া কয়েকজন মানুষ নামলো সাথে একটা লাশ। সজীবের বাবা ভয় পেয়ে গেল,
হুম লাশটা তার ছেলের, সজীবের মা ছেলের লাশকে ধরে কাদতে লাগলো, সজীবের বাবা লাশের পাশে বসে রইলো কোন শব্দ নেউ মুখে। অধিক শোকে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে, আর ভাবছে সজীবের ফোনের সেই কথাগুলো,
"বড় বাড়ি, বড় গাড়ি, বড় বাড়ি, বড় গাড়ি"
মুখ দিয়ে বিড় বিড় করে এগুলোই বলতে লাগলো সজীবের বাবা। রাত হয়ে গিয়েছে সজীবের বাবা এখনো লাশের পাশে বসে বির বিড় করেই চলেছে।

দূরে কোথাও একটা কুকুরের ঘেউ ঘেউ ডাকের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, শব্দটা আস্তে আস্তে বাতাসে মিলিয়ে গেল।

বড় বাড়ি, বড় গাড়ি আর দেখা হলনা।অপ্রাপ্তিতেই সমাপ্তি হয়ে গেল।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×